kalerkantho


বেচারা ফটোগ্রাফার

১৩ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



বেচারা ফটোগ্রাফার

শুরুতে নড়বড়ে। ইংল্যান্ড এগিয়ে যায় পঞ্চম মিনিটেই। হ্যারি কেইন বিরতির আগে গোলরক্ষককে পেয়ে গিয়েছিলেন একা। সহজ সুযোগ নষ্ট না করলে ম্যাচ শেষ হয়ে যেতে পারত তখনই। বিরতির পর ছন্দে ফেরে ক্রোয়েশিয়া। ইভান পেরিসিচের গোলে সমতা ফেরার পর ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। টানটান উত্তেজনা। চাপের সময়ে একটা গোল করলেই ফাইনালের নিশ্চয়তা ৯০ শতাংশ। ১০৯ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত সেই গোল মারিও মান্দজুকিচের। ইভান পেরিসিচের স্বপ্নের পাসে দুর্দান্ত গোল। মান্দজুকিচকে পায় কে? রুদ্ধশ্বাস দৌড় মাঠের এক কোণে। পিছু পিছু অন্যরা।

মান্দজুকিচের ওপর শুয়ে পড়লেন একজন। একে একে অন্যরাও। ফুটবলের পরিচিত উদ্‌যাপন। এই আনন্দে কারো খেয়াল নেই সবার নিচে মান্দজুকিচ নন পড়ে রয়েছেন এক ফটোগ্রাফার! ক্রোয়াট খেলোয়াড়দের ধাক্কাতেই চেয়ার থেকে ছিটকে পড়েন তিনি। ব্যাপারটা বুঝতে পেরে এএফপির ফটোগ্রাফার ইউরি কোরতেজের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন মান্দজুকিচ। হাত এগিয়ে টেনে তোলেন কয়েকজন। ইভান রাকিটিচও জানতে চান সব ঠিক আছে তো। হাসিমুখে মাথা নাড়েন তিনি। দোমাগোই ভিদা উচ্ছ্বসিত একটু বেশি। জড়িয়ে ধরে চুমু এঁকে দেন কপালে। ক্রোয়েশিয়ার উদ্‌যাপনের অংশ হয়ে যান ইউরি কোরতেজ। এই ভিড়ের মাঝে পড়েও নিজের কাজটা ভোলেননি মেক্সিকো সিটির এই ফটোগ্রাফার। ক্লিক, ক্লিক, ক্লিক করে ক্যামেরায় শাটারে চাপ দেন ঠিকই। পেয়ে যান তাঁর একেবারে কাছে থাকা ইভান রাকিটিচ, ইভান পেরিসিচ, মারিও মান্দজুকিচদের দুর্লভ কিছু ছবি। পড়ে যাওয়ার সেই ঘটনা নিয়ে ইউরি কোরতেজ হাসতে হাসতেই বলছিলেন, ‘আমি তখন ক্যামেরার লেন্স বদল করছিলাম। খেলোয়াড়রা ছুটে আসছিল মাঠের এক কোণে। আমিও বসা সেখানে। এগিয়ে আসতে আসতে পড়ে গেল আমার ওপর!’

কোনো খেলোয়াড়ের ওপর একে একে অন্যরা লাফিয়ে উঠলে তাঁর কী হাল হয়, ভালোই বুঝেছেন কোরতেজ। ভাগ্যিস ব্যথা পাননি তেমন। ক্রোয়েশিয়ান খেলোয়াড়দের আচরণে মুগ্ধ তিনি, ‘ওরা জানতে চাইল, আমি ঠিক আছি কিনা। একজন তো খুশিতে নিয়ে নিল আমার লেন্স। আর ভিদা... আমাকে চমকে দিয়ে কপালে দিল চুমু! গোলের এই মুহূর্তটা অসাধারণ ওদের জন্য। শুভ কামনা রইল ক্রোয়েশিয়ার প্রতি।’ এএফপি

 



মন্তব্য