kalerkantho


বিধ্বস্ত ইংল্যান্ড গর্বিত ইংল্যান্ড

১৩ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



বিধ্বস্ত ইংল্যান্ড গর্বিত ইংল্যান্ড

এই দলের সিংহভাগ খেলোয়াড়েরই জন্ম ১৯৯০-এর পরে। কাজেই ইংল্যান্ডের ১৯৯০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলার মতো না দেখা সাফল্যের গল্প শুনেই হ্যারি কেইনদের বড় হওয়া। তাদের ইতিহাসের সেরা যে সাফল্য, সেটি নিজ চোখে দেখা কেউও তো এই দলটির সঙ্গে ছিলেন না। কোচ গ্যারেথ সাউথগেটই তো জন্মেছেন ইংল্যান্ডের ১৯৬৬-র বিশ্বকাপ জয়ের চার বছর পর। সেই দূর অতীতের দুই সাফল্যের স্মৃতির জাবর কেটে আসা ইংলিশদের রোমন্থন করার মতো টাটকা এক স্মৃতিও এবার উপহার দিলেন কেইনরা। যদিও ফাইনালে পা দিতে দিতেও তা শেষ পর্যন্ত দিতে না পারাই এখন খেলোয়াড়দের পোড়াচ্ছে বেশি। মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে ক্রোয়েশিয়ার কাছে ১-২ গোলের হারে ফাইনাল স্বপ্ন ধূলিসাৎ হওয়ার পর অধিনায়ক কেইনের কথায় অন্তর্গত সে বেদনাই ফুটে উঠেছে সবচেয়ে বেশি, ‘আমরা রীতিমতো বিধ্বস্ত। এটা ভীষণ কষ্টদায়ক।’

যে কষ্ট ভক্তদেরও কম ছুঁয়ে যায়নি। তবে ফাইনালের এত কাছে গিয়ে ফিরে আসার কষ্টের সঙ্গে এই খেলোয়াড়দের নিয়ে গৌরবানুভবও আছে তাদের। পরশু লন্ডনের হাইড পার্কে বিগ স্ক্রিনে খেলা দেখা লরা রাসন তাঁদেরই একজন, ‘আমি সত্যিই খুব ব্যথিত। সেই সঙ্গে এই খেলোয়াড়দের নিয়ে আমি শতভাগ গর্বিতও।’ ২৩ বছর বয়সী আরেক ভক্ত মুরাদ হুসেনভ তো কেইনদের মতোই ইংল্যান্ডের সোনালি সাফল্যের গল্প শুনে বড় হওয়া প্রজন্মের প্রতিনিধিই। নিজের জীবদ্দশায় সেমিফাইনাল খেলার মতো সাফল্য দেখতে পাওয়াও তাঁর জন্য কম বড় কিছু নয়, ‘আমার জীবনে এই প্রথম ইংল্যান্ডকে এত দূর যেতে দেখলাম। ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী হওয়ার মতোই অনুভূতি হচ্ছে আমার।’

ফাইনাল পর্যন্ত যেতে পারলে আরো বড় কীর্তির ডানায়ও ভেসে বেড়ানো যেত। সেটি গেল না বলে কেইনের আফসোস যাচ্ছে না কিছুতেই, ‘খুবই কঠিন ম্যাচ ছিল। আমি বলব ফিফটি-ফিফটি ম্যাচ ছিল। আমি নিশ্চিত যে পেছন ফিরে তাকালে আমরা এমন কিছু জায়গা পাব, যে জায়গাগুলোতে আমরা আরো ভালো করতে পারতাম। ১-০ গোলে এগিয়ে থাকা অবস্থায় আমরা দারুণ কিছু সুযোগ তৈরি করেছিলাম।’ একই কথা বলেছেন কোচ সাউথগেটও, ‘প্রথমার্ধে আমরা দুর্দান্ত ছিলাম। আমরা আরেকটি গোলও করতে পারতাম হয়তো।’ সেটি না পারলেও দল যত দূর গেছে, তাতেই খুশি এই কোচ, ‘খেলোয়াড়দের কাছ থেকে এর চেয়ে বেশি কিছু চাইতে পারি না আমি।’ ক্রোয়েশিয়ার খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা ও লড়াকু মানসিকতাই সেমিফাইনালে পার্থক্য গড়ে দিয়েছে বলে মনে করেন সাউথগেট, ‘আমার ছেলেদের দম ফুরিয়ে যাচ্ছিল। এটি ওদের বয়সের কারণেই। ওরা এখনো শারীরিকভাবে আরো পরিণত হওয়ার পর্যায়ে। আর ক্রোয়েশিয়ার ছিল পরীক্ষিত যোদ্ধারা। বড় ম্যাচ নিয়ে ওদের বোঝাপড়াই এই ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।’ যা সেমিফাইনালেই থামিয়েছে ইংলিশদের অগ্রযাত্রা। কিন্তু বিশ্বকাপ শুরুর আগে ইংল্যান্ড এত দূর যাবে বলে কেউ ভাবেইনি। সেই জায়গাতে যেতে পারা নিয়ে অবশ্য সন্তুষ্টি আছে কেইনের, ‘দুর্দান্ত এক সফর ছিল এটি। যেখানে যাব কেউ ভাবেইনি, আমরা গিয়েছি সেখানেই। এই পর্যায়ে আসতে পারাটা দারুণ ব্যাপার। আমরা জানি যে সবাইকে গর্বিত করার মতো কাজই করেছি। কিন্তু আমরা তো আরো এগিয়ে গিয়ে বিশ্বকাপটিই জিততে চেয়েছিলাম।’ কাঙ্ক্ষিত সেই গন্তব্য থেকে এক ধাপ দূরে থাকতে ছিটকে পড়ার কষ্ট তাই থাকবেই। এএফপি



মন্তব্য