kalerkantho


গ্রুপসেরার লড়াইয়ে উরুগুয়ে-রাশিয়া

২৫ জুন, ২০১৮ ০০:০০



গ্রুপসেরার লড়াইয়ে উরুগুয়ে-রাশিয়া

তাদের নিয়ে স্বপ্ন দেখেনি কেউ। ব্যঙ্গ করেছে খোদ রাশিয়ানরাই। সেই রাশিয়া র‌্যাংকিং আর পরিসংখ্যানের হিসাব বদলে এখন নক আউটে। আজ উরুগুয়ের সঙ্গে ড্রতেই নিশ্চিত হবে গ্রুপের শীর্ষস্থান। আর সেরা হতে খেলার প্রত্যয় কোচ স্তানিস্লাভ চেরচেসোভের, ‘টানা দুই জয় পাওয়া মোটেও দুর্ঘটনা নয়। এই দলটা কাজ করছে একসঙ্গে। ওদের সংহতি আর সংযোগ অসাধারণ।’ গ্রুপ ‘এ’র অপর ম্যাচে আজ মুখোমুখি মিসর ও সৌদি আরব। মোহামেদ সালাহ থাকায় মিসর ছিল পরের রাউন্ডের অন্যতম ফেভারিট। টানা দুই ম্যাচ হারায় বিদায়ঘণ্টা বেজেছে তাদের। আজকের ম্যাচটি তাই সম্মান রক্ষার, দুই দলের জন্যই।

বিশ্বকাপ প্রস্তুতিটা যাচ্ছেতাই ছিল রাশিয়ার। ৯ ম্যাচে জয় মাত্র দুটি। স্বাগতিক হলেও বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দলগুলোর মধ্যে ফিফা র‌্যাংকিংয়ে সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা দল তারা। তাই রাশিয়াকে ঘিরে উচ্ছ্বাস ছিল না। তবে খেলা মাঠে গড়াতেই বদলে গেল পাশার দান। উদ্বোধনী ম্যাচে লাল ঢেউয়ে ভাসল সৌদি আরব। একতরফা  জয় ৫-০ গোলে। পাত্তা পায়নি সালাহর মিসরও। এবার জয় ৩-১ ব্যবধানে। টানা ১১ ম্যাচে গোল না পাওয়া দেনিস চেরিশেভ নায়ক বনে গেলেন তিনবার বল জালে পাঠিয়ে। নিজের সাফল্যটা বিশ্বাস হচ্ছে না তাঁরও, ‘স্বপ্নেও ভাবিনি এতটা। বিশ্বকাপ মঞ্চে দুই ম্যাচে তিন গোল বিশেষ কিছু।’

উরুগুয়ের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা লুই সুয়ারেস মাইলফলকে পা রেখেছেন এই বিশ্বকাপে। শততম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন সৌদি আরবের বিপক্ষে, যা স্মরণীয় হয়েছে গোলে। পরিসংখ্যান বলছে, সুয়ারেসের গোল করা বিশ্বকাপ ম্যাচে কখনো হারেনি উরুগুয়ে। অদ্ভুত আরেক রেকর্ড, এদিনসন কাভানি যে ম্যাচে গোল করেছেন সেই ম্যাচ জেতে না উরুগুয়ে! সমর্থকরা তাহলে কাভানির গোল চাইবেন না কোনোভাবে? কোচ অস্কার তাবারেসের এমন সংস্কারে বিশ্বাস নেই। সুয়ারেস-কাভানি দুজনের সেরাটাই চান তিনি, ‘সুয়ারেস প্রথম ম্যাচে ছন্দে ছিল না। এখন নিজেকে ফিরে পেয়েছে ও। কাভানির সঙ্গে তার সফল একটা জুটির প্রত্যাশায় আমরা।’

রাশিয়ার প্রথম দুই ম্যাচে গোল ৮টি। নিজেদের জালে বল জড়িয়েছে একবার। গোল গড় ৭। উরুগুয়ে দুই ম্যাচই জিতেছে ১-০ ব্যবধানে। গোল গড় ২। তাই আজ ড্র হলে গ্রুপের শীর্ষস্থান রাশিয়ার। তবে ড্রর জন্য খেলবে না রাশিয়া। ছন্দে থাকা দলের কোনো খেলোয়াড়কে দেবে না বিশ্রামও। কারণ বিশ্বকাপের প্রতিটা মুহূর্ত উপভোগ করতে চায় তারা। নক আউটে স্বাগতিকদের প্রতিপক্ষ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি স্পেন বা পর্তুগালের। এক দলে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর মতো কিংবদন্তি। ইনিয়েস্তা, ইসকো, কোস্তাদের নিয়ে স্পেনও ফেভারিট। তাই সাবেক ক্রীড়ামন্ত্রী ভিতালি মুক্তোর প্রতিশ্রুতি, ‘আমাদের মিশন সফল হয়নি এখনো। গ্রুপসেরা হয়ে যেতে চাই পরের রাউন্ডে।’

সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙার পর রাশিয়া কখনো খেলেনি দ্বিতীয় রাউন্ডে। এবার গ্রুপ পর্বের বাধা পার হয়েছে এরই মধ্যে। এখন গ্রুপের সেরা হওয়ার লড়াইয়ে সামনে উরুগুয়ে। তাদের বিপক্ষে সবশেষ মুখোমুখি হয়েছিল ২০১২ সালে প্রীতি ম্যাচে। ১-১ সমতায় শেষ হয়েছিল ম্যাচটি। লুই সুয়ারেস লক্ষ্য ভেদ করেছিলেন উরুগুয়ের হয়ে। আজও তিনিই দলের ভরসা। তাঁকে থামাতে চোট কাটিয়ে ফিরছেন লেফটব্যাক ইউরি জিরিকভ। মিসরের সঙ্গে চোট পেয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন তিনি। একাদশে থাকার সম্ভাবনা আছে জিরিকভের। তবে উরুগুয়ের হয়ে খেলতে পারছেন না হোসে জিমিনেস। মিসরের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে তাঁর গোলেই জিতেছিল দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

সৌদি আরবের বিপক্ষে আজ মিসরের হারানোর কিছু নেই। দুই দলই বাদ পড়েছে এরই মধ্যে। সম্মান রক্ষার সেই ম্যাচে কিছু পাওয়ার আছে মিসর অধিনায়ক এসাম এল হাদারির। তাঁর বয়স ৪৫। সেরা একাদশে থাকলে বা মাঠে নামলে সবচেয়ে বেশি বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে নাম লেখানোর রেকর্ডটা হবে তাঁর। হাদারি অবশ্য ভাবছেন না রেকর্ড নিয়ে, ‘খেলি বা না খেলি, দেশকে প্রতিনিধিত্ব করে যাওয়াই লক্ষ্য আমার। সৌদি আরবের বিপক্ষে ম্যাচটি আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জয় দিয়ে ফিরতে চাই দেশে।’ এ জন্য সেরা বাজি হতে পারেন মোহামেদ সালাহ। ৬০ শতাংশ ফিটনেস নিয়ে খেলেও রাশিয়ার বিপক্ষে এক গোল ছিল তাঁর। আজও গোল করে বিশ্বকাপটা শেষ করতে চাইবেন সালাহ।

এবারের বিশ্বকাপে সৌদি আরব গোল পায়নি এখনো। এর আগে গোল না পেয়ে বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে মাত্র ১১ বার। লজ্জার সেই তালিকায় নাম ওঠানোর হাত থেকে কি বাঁচবে সৌদি আরব? এএফপি



মন্তব্য