kalerkantho


জয়েই চোখ স্পেনের

২৫ জুন, ২০১৮ ০০:০০



জয়েই চোখ স্পেনের

এই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়া প্রথম দল তারা। তবু আজ কালিনিনগ্রাদে স্পেনের বিপক্ষে ‘বি’ গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচ থেকে অনেক কিছুই পাওয়ার আছে মরক্কোর। অন্তত একটি গোলও না করার লজ্জা নিয়ে নিশ্চয়ই দেশে ফিরে যেতে চাইবে না আফ্রিকার এই দলটি। এর আগে ২০১০ বিশ্বকাপ থেকে সবশেষ দল হিসেবে কোনো গোল না করেই ফিরেছিল আলজেরিয়া ও হন্ডুরাস।

মরক্কোর জন্য আজকের ম্যাচটি তাই ওই দুই দলের সঙ্গী না হওয়ার লড়াই। যদিও তাতে নিজেদের দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও থাকছে প্রতিপক্ষ স্পেন বলে। কারণ বিশ্বকাপ ইতিহাসে এখন পর্যন্ত আফ্রিকান দলগুলোর বিপক্ষে খেলা চার ম্যাচের তিনটিই জিতেছে ‘লা রোহা’রা। ওই তিন ম্যাচে ১১ গোল করা স্প্যানিশদের জয়ের ব্যবধান দুই গোলের নিচেও ছিল না কখনো। এবার পর্তুগালের সঙ্গে ৩-৩ গোলে ড্র করার পর ইরানকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ড প্রায় নিশ্চিত করা স্পেনের অবশ্য শেষ ষোলোতে যেতে ১ পয়েন্ট হলেই চলছে। কারণ একই দিনে পর্তুগাল-ইরান ম্যাচের ফল যা-ই হোক না কেন, দুটি দলেরই স্পেনকে টপকে শেষ ষোলোতে যাওয়ার সুযোগ নেই। কাজেই মরক্কোর বিপক্ষে ড্র-ই স্পেনকে নির্ভার করতে পারে।

কিন্তু তাতে কি আর স্পেনের কাছে মরক্কো ম্যাচের গুরুত্ব কমছে? অবস্থাদৃষ্টে অন্তত এই উপসংহারে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। এই ম্যাচের আগেও কোচ ফার্নান্দো হিয়েরো রুদ্ধদ্বার অনুশীলন করিয়েছেন শিষ্যদের। সেই সঙ্গে এও বলে দিয়েছেন যে, ‘এটা বিশ্বকাপ। এখানে একটি ম্যাচও সহজ নয়। নির্দিষ্ট কয়েকটি গ্রুপের একাধিক দল ইতিমধ্যে শেষ ষোলোতে চলেও গেছে। কিন্তু আমাদের গ্রুপটি তো বেশ কঠিন। তাই মরক্কোর বিপক্ষে পুরো ৩ পয়েন্ট নিশ্চিত করা ছাড়া কোনো উপায়ও নেই আমাদের।’

অবশ্য ইরান ম্যাচে জিততে যেমন বেগ পেতে হয়েছে স্পেনকে, সে জন্যই হয়তো মরক্কো ম্যাচটিও যথেষ্টই গুরুত্ব পাচ্ছে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তাদের কাছে। একই সঙ্গে নিজেদের খেলার ধরনও অটুট রাখার দিকে জোর দিচ্ছেন স্প্যানিশ মিডফিল্ডার ইসকো। ২০১০ সালে যে ফুটবল দর্শন তাদের বিশ্বকাপ জিতিয়েছে, সেটির প্রতিই আস্থাশীল থাকার তাগিদ এই রিয়াল মাদ্রিদ প্লেমেকারের, ‘খেলার যে ধরনটি আমাদের বৈশিষ্ট্য, একেবারে শেষ পর্যন্ত সেটিতেই আস্থা রেখে যেতে হবে আমাদের। বল পায়ে রেখে আমাদের প্রচুর পাস খেলতে হবে। মাঠজুড়ে যদি আমরা দ্রুততার সঙ্গে খেলতে পারি, তাহলে সুযোগও আসবেই।’ এবারের আসরের অন্যতম ফেভারিটরা ২০১৬-র ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের দ্বিতীয় রাউন্ডে ইতালির কাছে হেরে বিদায় নেওয়ার পর থেকেই অপরাজিত। টানা ২২ ম্যাচ না হারার গৌরব নিয়েই তারা নামতে চলেছে মরক্কোর বিপক্ষে। 

ওদিকে মরক্কো নিজেদের শেষ ১৫ বিশ্বকাপ ম্যাচের মাত্র দুটোতে জিতেছে। তাও আবার সেই জয় দুটো এসেছে কখন? নিজেদের শেষ গ্রুপ ম্যাচেই। ১৯৮৬-র বিশ্বকাপে শেষ গ্রুপ ম্যাচে পর্তুগালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ‘দ্য অ্যাটলাস লায়ন’রা উঠেছিল দ্বিতীয় রাউন্ডেও। ১৯৯৮-র বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেলেও শেষ ম্যাচে তারা ৩-০ গোলের জয় পেয়েছিল স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। কাজেই এবার প্রথম দল হিসেবে বিদায় নেওয়া দলটির অনুপ্রেরণা হতে পারে ইতিহাসও। সেই সঙ্গে কিছু একটা করার গৌরব নিয়েও দেশে ফিরতে চাইবে মরক্কানরা। ইরানের কাছে আজিজ বাহাদৌজের আত্মঘাতী গোলে দুর্ভাগ্যজনকভাবে হেরে যাওয়া দল যখন পর্তুগালকেও কাঁপিয়ে দিতে পেরেছে, তখন স্পেনের বিপক্ষেও তাদের জ্বলে ওঠার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। মরক্কোর ডিফেন্ডার আকরাফ হাকিমিও বিদায়বেলায় ছাপ একটি রেখে যেতে চান, ‘আমরা জানি যে আমাদের বিদায় হয়ে গেছে। তবু আমরা নিজেদের সেরাটা দিয়ে ভক্তদের একটা আনন্দের উপলক্ষ দেওয়ার চেষ্টা করব।’ তবে প্রতিপক্ষ স্পেন বলেই তাদের সম্ভাবনার পক্ষে বাজি ধরাও কঠিন। অন্যতম ফেভারিটরা নিশ্চিতভাবেই নক আউট পর্বের আগে নিজেদের আরো চাঙ্গা করে তুলতে চাইবে বড় জয়েই। ফিফা ডটকম, এএফপি

 

 



মন্তব্য