kalerkantho


সেই পেনাল্টি ভোলেননি ভাসকেস-বেনাতিয়া

২৪ জুন, ২০১৮ ০০:০০



সেই পেনাল্টি ভোলেননি ভাসকেস-বেনাতিয়া

মাইকেল অলিভার বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচেই বাঁশি বাজাচ্ছেন না। তবু স্পেন-মরক্কো ম্যাচে কি ঘুরেফিরে আসবে তাঁর কথা? চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে, জুভেন্টাস যখন অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে ইতি টানার দ্বারপ্রান্তে, তখনই যে এই ইংরেজ রেফারি বাজিয়েছিলেন পেনাল্টির বাঁশি। মেহদি বেনাতিয়ার লুকাস ভাসকেসকে ফাউল করার অপরাধে ৯১তম মিনিটে পেনাল্টি, তাতে গোল করেই রিয়ালকে সেমিফাইনালে তুলেছিলেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। এরপর তো রিয়াল জিতেই নিল হ্যাটট্রিক শিরোপা। সেই দুজন, আগামীকাল আবারও মুখোমুখি হবেন মাঠে। ভাসকেসের গায়ে থাকবে স্পেনের জার্সি, বেনাতিয়া পরবেন মরক্কোর জার্সি। সেই পেনাল্টির পর আবারও যে মুখোমুখি হবেন দুজনে!

বিশ্বকাপে ব্যবহৃত হচ্ছে ভিএআর প্রযুক্তি। ভিডিও রিপ্লেতে দেখে কোস্টারিকার বিপক্ষে নেইমারকে ফাউল করার ‘দায়ে’ দেওয়া পেনাল্টির সিদ্ধান্ত পরে বদলে নিয়েছেন রেফারি। চ্যাম্পিয়নস লিগেও যদি এই প্রযুক্তির ব্যবহার থাকত, তাহলে কি পেনাল্টি পেত রিয়াল? ভাসকেস বলছেন, রিপ্লে দেখলেও সিদ্ধান্ত বদলাতেন না রেফারি, ‘ভিএআর থাকলেও কোনো কিছুই  বদলাত না, বরং তাতে বিতর্ক আরো কম হতো। তবে এই ম্যাচটা (স্পেন-মরক্কো) আলাদা। আমি খুবই মুখিয়ে আছি শুরু থেকেই মাঠে থাকার, শুরুর একাদশে থাকার জন্য আমি প্রাণপণ খাটছি।’ অবশ্য বেনাতিয়ার এতে ভিন্নমত, ‘আমি ভাসকেসের ছোঁয়া বাঁচিয়েই তাকে ঘিরে পাক খেতে চেয়েছিলাম, সে আমার দিকে তাকিয়ে মাটিতে পড়ে গেল। ওর পক্ষে একমাত্র এটাই করা সম্ভব ছিল। আমি তাকে স্পর্শই করিনি, বল ছুঁয়েছি। এই ধরনের পেনাল্টি অযৌক্তিক।’ অথচ ভাসকেস মনে করেন, ন্যায্য সিদ্ধান্তই দিয়েছিলেন রেফারি অলিভার, ‘ওটা স্পষ্টই পেনাল্টি ছিল। কারণ আমি যখন বলটা ধরতে গিয়েছিলাম, তখন সেন্টারব্যাক আমাকে ফেলে দেয়। এ রকম দারুণ একটা ম্যাচের পর প্রতিক্রিয়া হবেই, এটাই স্বাভাবিক। তবে আমি মনে করি এসব নিয়ে এখন আর কোনো আলোচনা করা উচিত নয়।’ সেই পেনাল্টি নিয়ে দুজনের ভেতর যে মতবিরোধ, কালিনিনগ্রাদে হয়তো সেটাই তাঁদের আরো তাতিয়ে রাখবে বিশ্বকাপের ম্যাচে।

মরক্কো আর স্পেন, দুই মহাদেশে হলেও আসলে প্রতিবেশী! মাঝখানে যে শুধুই জিব্রাল্টর প্রণালি। এই জিব্রাল্টার নামটা এসেছে আরবি শব্দ জাবাল আল তারিক বা তারিকের পাহাড় থেকে। মুসলিম সেনাপতি তারিক ইবনে জিয়াদ উত্তর আফ্রিকা উপকূল থেকে সাগর অতিক্রম করে স্পেন আক্রমণ করে সীমানা বৃদ্ধি করেছিলেন উমাইয়া খেলাফতের। সুপ্রাচীনকাল থেকেই তাই স্পেন ও মরক্কোর সম্পর্ক বিদ্যমান। ফুটবলও এর বাইরে নয়। মরক্কো দলের ২৩ জনের পাঁচজনই খেলেন স্প্যানিশ লিগে। তাদেরই একজন রিয়াল মাদ্রিদে খেলা আশরাফ হাকিমি। মাদ্রিদেই জন্ম তাঁর, তবে বাবা-মা ছিলেন মরক্কান অভিবাসী। স্পেনের বিপক্ষে খেলা নিয়েই তাঁর ভেতর বাড়তি উৎকণ্ঠা, ‘আমাকে আমার সতীর্থ ও বন্ধুদের বিপক্ষে খেলতে হবে। তবে মাঠে কোনো বন্ধু নেই। আমরা আমাদের দেশের জন্য খেলব। শুধুই স্পেনে বাস করা মরক্কানদের জন্যই নয়, গোটা দেশের জন্যই। সবচেয়ে বড় কথা, আমরা একটা ভালো স্মৃতি নিয়ে বিশ্বকাপ থেকে বাড়ি ফিরতে চাই। এটা আমাদের আর মরক্কোর সব মানুষেরই প্রাপ্য।’

স্পেন ও মরক্কো আগামীকালের ম্যাচের আগে মুখোমুখি হয়েছিল মাত্র একবারই। ১৯৬২ বিশ্বকাপের আন্তর্মহাদেশীয় প্লে-অফে স্পেন মরক্কোর মাঠে জিতেছিল ১-০ গোলে আর নিজেদের মাঠে জিতেছিল ৩-২ গোলে। হাকিমি-বেনাতিয়ারা কি পারবেন তারিক বিন জিয়াদের মতো ‘স্পেন বিজয়’ করতে? ফিফা, মার্কা

 

 



মন্তব্য