kalerkantho


তবু সতর্ক বেলজিয়াম

২৩ জুন, ২০১৮ ০০:০০



তবু সতর্ক বেলজিয়াম

দলে একঝাঁক তারকা। বিশ্বকাপ শিরোপায় চোখ সবার। বেলজিয়ামের অনুসারীরাও বিভোর শিরোপাস্বপ্নে। তবে দলের সেরা তারকা এডেন হ্যাজার্ড পা রাখছেন মাটিতে। ৩২ দলের বিশ্বকাপে সবাই যে কঠিন প্রতিপক্ষ, মনে করিয়ে দিলেন সবাইকে। পানামার বিপক্ষে ৩-০ গোলে জিতে অভিযান শুরু করেছে বেলজিয়াম। আজ তিউনিসিয়াকে হারালে পৌঁছে যাবে নক আউটের দুয়ারে। আপাতত সেখানেই চোখ হ্যাজার্ডের, ‘আমাদের কাছে অনেক প্রত্যাশা দেশের মানুষের। তাদের ধারণা সব ম্যাচে বলের ৮০ শতাংশ দখল থাকবে আমাদের। পোস্টে শট নেব ৫০টি আর গোল হবে ৪০টি! বিশ্বকাপে এমন কিছু হয় না। কখনো কখনো খেলতে হতে পারে অনেক কঠিন ম্যাচ। শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের জয় হবে স্বস্তির। আমরা এভাবেই খেলব তিউনিসিয়ার সঙ্গে।’

উচ্চাশা ফেলে বাস্তব ভাবনার কারণও আছে। নিজেদের প্রথম ম্যাচে আফ্রিকার দলটি প্রায় রুখেই দিয়েছিল ইংল্যান্ডকে। নির্ধারিত ৯০ মিনিট পর্যন্ত সমতা ছিল ১-১। ইনজুরি টাইমে হ্যারি কেইনের হেডে বুক ভাঙে তিউনিসিয়ার। সেই হার থেকে শিক্ষা নিয়ে আজ বেলজিয়ামের মুখোমুখি হতে চান কোচ নাবিল মালুল, ‘ইংল্যান্ডের সঙ্গে আমরা ৯০ মিনিট বলের নিয়ন্ত্রণ রেখে খেলতে পারিনি, এটা সম্ভবও না। ইংল্যান্ডের মানসম্পন্ন অনেক খেলোয়াড় আছে। বেলজিয়ামেও দারুণ সব ফুটবলার। আমরা ইংল্যান্ড ম্যাচ থেকে শিক্ষা নিয়েছি। সেটা কাজে লাগাতে চাই এবার।’

ইতিহাস এগিয়ে রাখছে বেলজিয়ামকেই। বিশ্বকাপে তারা কখনো আফ্রিকান কোনো দলের কাছে হারেনি। তিউনিসিয়াও কখনো ইউরোপের দলের বিপক্ষে জয় পায়নি। ১৯৭৮ বিশ্বকাপে মেক্সিকোকে ৩-১ গোলে হারিয়েছিল তারা। এরপর খেলা ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদার এই টুর্নামেন্টে জয়ের দেখা নেই। ড্র ৪ হার ৮টিতে। তিউনিসিয়ার চেয়ে টানা দুই ম্যাচ বেশি জয়হীন থাকার রেকর্ড দক্ষিণ কোরিয়ার। এর পরও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাদের খেলা দেখে সতর্ক বেলজিয়ান কোচ রবার্তো মার্তিনেজ, ‘ওদের বোঝাপড়া ভালো দেখেছি। গতিও আছে। প্রথম ম্যাচে প্রতিআক্রমণে ভয়ংকর মনে হচ্ছিল তিউনিসিয়াকে। ওরা খেলে সরাসরি আর কার্যকর ফুটবল। এটা মাথায় রেখে পরিকল্পনা সাজাব আমরা।’

এমন পরিকল্পায় মার্তিনেজের জন্য স্বস্তির হতে পারে চোট কাটিয়ে বার্সেলোনার তারকা থমাস ভারমিউলেনের ফিট হয়ে ওঠা। দলের সঙ্গে অনুশীলন করছেন তিনি। সুস্থ হয়ে উঠছেন অধিনায়ক ভিনসেন্ট কম্পানিও। প্রতিপক্ষ তিউনিসিয়া বলে হয়তো এই দুজনকে নিয়ে ঝুঁকি নেবেন না মার্তিনেজ। তাঁর দুশ্চিন্তা দলের সেরা তারকা এডেন হ্যাজার্ডকে নিয়ে। পানামার সঙ্গে ব্যাপক ফাউলের শিকার হন তিনি। আজও তেমন কিছু হলে চোট যদি নক আউটে ছিটকে দেয় হ্যাজার্ডকে, শঙ্কা কোচের মনে। হ্যাজার্ড অবশ্য এসব নিয়ে ভাবছেন না। বিশ্বকাপটা নিজের করতে চান তিনি, ‘এটা আমার দ্বিতীয় বিশ্বকাপ। পরিণত হয়েছি আগের চেয়ে। আমার বয়স এখন ২৭ বছর, মনে হয় বিশ্বকাপটা আমার হবে।’

বিশ্বকাপে সবশেষ ১০ ম্যাচে হারেনি বেলজিয়াম। জিতেছে আবার সবশেষ টানা পাঁচ ম্যাচ। শঙ্কা একটাই। বিশ্বকাপে তাদের সবশেষ ১১ গোলের সবগুলোই হয়েছে বিরতির পর! আগের ম্যাচে তিন গোলের একটিও বিরতির আগে নয়। রোমেলু লুকাকু করেছিলেন জোড়া গোল। এবার দলকে অনেক দূর নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য লুকাকুর, ‘গতবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছি। আমাদের নিয়ে এবার স্বপ্নটা অনেক বেশি। আমরাও চাই শেষ পর্যন্ত যেতে। দলকে সাহায্য করতে নিজের সবটুকু দিতে চাই।’ এএফপি



মন্তব্য