kalerkantho


অনুশীলনে ফিরলেন নেইমার

২১ জুন, ২০১৮ ০০:০০



অনুশীলনে ফিরলেন নেইমার

তাঁদের ঘিরে ভক্তদের প্রত্যাশা একটু বেশিই। কিন্তু প্রত্যাশার সঙ্গে বাস্তবতার পার্থক্যটা সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ থেকেই বুঝে গেছেন ব্রাজিলিয়ান ফুটবলাররা। অকপটে সে কথা বলতেও দ্বিধা করেননি ফিলিপে কৌতিনিয়ো। এই মিডফিল্ডার মনে করেন ম্যাচ জিততে হলে নিজেদের সামর্থ্যের চেয়েও বেশি কিছু দিতে হবে, ‘সব ম্যাচই কঠিন। ভক্তরা প্রত্যাশা করছেন ব্রাজিল সহজেই সব ম্যাচ জিতে যাবে এবং প্রচুর গোলও করবে। তবে এটাও ভাবতে হবে যে সবাই বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত হয়েই এসেছে। প্রথম ম্যাচ থেকে আমরা সে বার্তাই পেয়েছি। ম্যাচ জিততে হলে আমাদের ১১০ ভাগ দেওয়া চাই।’

শুক্রবার কোস্টারিকার বিপক্ষে সামর্থ্যের চেয়েও বেশি কিছু দিতে মরিয়া ব্রাজিলের জন্য সুখবরও আছে। মঙ্গলবার অনুশীলনে নামার ১৫ মিনিটের মধ্যে ডান পায়ের গোড়ালির গাঁটে ব্যথা নিয়ে নেইমারের মাঠ ছেড়ে যাওয়াটা ‘ই’ গ্রুপে ব্রাজিলের দ্বিতীয় ম্যাচে তাঁকে অনিশ্চিত করে দিয়েছিল। এমনকি কোস্টারিকা ম্যাচে তাঁর সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে গতিসম্পন্ন উইঙ্গার দগলাস কোস্তার নামও উচ্চারিত হতে শুরু করেছিল। এই অবস্থায় দ্রুতই আবার নেইমারকে নিয়ে অনিশ্চয়তার কালো মেঘ মুছে যেতে শুরু করার কারণ বুধবারই অনুশীলনে ফিরেছেন তিনি। রুদ্ধদ্বার হওয়ায় সেই অনুশীলন কারো দেখার সুযোগ না হলেও ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) জানিয়েছে, সোচিতে অনুশীলনে সব ধরনের কর্মকাণ্ডে স্বাভাবিকভাবেই অংশ নিয়েছেন ২৬ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।

নেইমার না থাকলে শুরুর একাদশে বদল আসতই। তবে তিনি থাকলেও সম্ভবত পরিবর্তন আনতে চলেছেন তিতে। স্ট্রাইকার হিসেবে গাব্রিয়েল জেসুসের জায়গায় রবার্তো ফিরমিনোর অন্তর্ভুক্তির জোরালো সম্ভাবনাই আঁচ করা যাচ্ছে। সুইসদের বিপক্ষে একেই জেসুস নিজেকে মেলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছেন, তার ওপর তাঁর বদলি হিসেবে নেমে ১১ মিনিটেই নিজের সপ্রতিভ উপস্থিতির জানান দিয়েছেন ফিরমিনো। এমনকি ওই অল্প সময়ের মধ্যে হেডে জয়সূচক গোলও প্রায় করে ফেলেছিলেন। তা ছাড়া ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে জেসুসের সবশেষ ফুটবল মৌসুম মিশ্র হলেও লিভারপুলের হয়ে দারুণ কেটেছে ফিরমিনোর। ক্লাব দলকে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে তোলার ক্ষেত্রে দারুণ ভূমিকা রাখা লিভারপুলের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে করেছেন ২৭ গোলও। জেসুস আর ফিরমিনোর খেলার ধরনেও আছে পার্থক্য। প্রথমজন একটু গতিসম্পন্ন হলেও প্রতিপক্ষের বক্সেই অবস্থান করেন বেশি। পরেরজন একটু পেছনে থেকে খেললেও মাঝমাঠের সঙ্গে তাঁর সমন্বয়ের ব্যাপারটি কোস্টারিকা ম্যাচে শুরুর একাদশে ঠাঁই পাওয়ার ক্ষেত্রে ফিরমিনোকে একটু হলেও এগিয়ে রাখছে। কারণ এটা খুব প্রত্যাশিত ব্যাপার যে কোস্টারিকা ডিফেন্স আগলে কাউন্টার অ্যাটাক নির্ভর খেলাই বেছে নেবে। সে ক্ষেত্রে জেসুসের জন্য প্রতিপক্ষের বক্সে জায়গা সীমিত হয়ে পড়বে আরো।

সুতরাং ফিরমিনো জেসুসের জায়গা নিলে শুরুর একাদশে আক্রমণভাগে নেইমারের সঙ্গীও বদলাচ্ছে। পরিবর্তিত একাদশ কি দ্বিতীয় ম্যাচে ব্রাজিলের ভাগ্য বদলাবে? কৌতিনিয়ো জানালেন, যেকোনো মূল্যে তা বদলাতে হবেই, ‘গত ম্যাচের পর আমরা সবাই নিজেদের মধ্যে এই আলোচনা করেছি যে আমাদের আরো অনেক উন্নতি করতে হবে। সব খেলাই আমাদের কাছে ফাইনাল। আমাদের দায়িত্ব নিয়ে শান্ত ও স্থির থেকে খেলতে হবে ঠাণ্ডা মাথায়। অবশ্যই এই ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ এবং আমাদের ৩টি পয়েন্টই দরকার।’

সুইজারল্যান্ড ম্যাচই ব্রাজিলের ৩ পয়েন্টের আকাঙ্ক্ষা বাড়িয়েছে আরো। যে ম্যাচ বুঝিয়েছে বিশ্বকাপে কোনো দলই সহজ প্রতিপক্ষ নয়। বিশ্বকাপ যেহেতু, সবাই আটঘাট বেঁধেই এসেছে। কাজেই এখানে ভক্তদের প্রত্যাশানুযায়ী পারফরম করা সহজও নয়। কোস্টারিকা ম্যাচের আগে সুইসদের কাছ থেকে ব্রাজিল পেয়েছে সে শিক্ষাই। এপি



মন্তব্য