kalerkantho


ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জে মেসি

২১ জুন, ২০১৮ ০০:০০



ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জে মেসি

দুঃসময়ে পরিবারই তো একজন মানুষের সবচেয়ে ভরসার আশ্রয়স্থল। পৃথিবীর সেরা ফুটবলারেরও জীবনে ঘূর্ণি বাতাসে ঝড় ওঠে। তখন অসাধারণত্বের খোলস ছেড়ে সাধারণ্যে নেমে এসেই পরিবারে আশ্রয় খোঁজেন, যেমনটা খুঁজছেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনার ত্রাণকর্তা, উদ্ধারকর্তা, ‘মেসাইয়া’কে থামিয়ে দিয়েছে এক বিজ্ঞাপন নির্মাতার হাত!

হ্যানেস হ্যালডোরসন আসলে পার্টটাইম ফুটবলার, ফুলটাইম ফিল্ম ডিরেক্টর। আইসল্যান্ডের এই গোলরক্ষক বেশির ভাগ সময়ই হয়তো দুই হাতের আঙুলে চারকোনা ফ্রেম বানিয়ে দেখেন সব কিছু! ২০১২ সালের ইউরোভিশন গানের প্রতিযোগিতায় আইসল্যান্ডের প্রতিযোগীর মিউজিক ভিডিও বানিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। শুধু কি তাই, আইসল্যান্ডের বিশ্বকাপে খেলতে আসা নিয়ে কোকাকোলার বিজ্ঞাপনটাও তিনি বানিয়েছেন! এখন খেলছেন নরওয়ের ক্লাবে, যেখানে চাকরি করতেন সেই সেগা ফিল্মস বলেছে খেলার পর দেশে ফিরলে চাকরিটা ফেরত পাবেন হ্যালডোরসন। অথচ সেই মানুষটাই কিনা আটকে দিল মাত্র ১২ গজ দূর থেকে নেওয়া বিশ্বের সেরা (অনেকের মতে ভিনগ্রহের!) ফুটবলারের স্পটকিক! আইসল্যান্ডের বিপক্ষে মেসির পেনাল্টি মিস ফিরিয়ে আনছে কোপা আমেরিকার শতবর্ষী আসরের ফাইনালের টাইব্রেকারে মেসির পেনাল্টি মিসের দুঃসহ স্মৃতিকেও। যে মিসের পর অভিমানে জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণাই দিয়েছিলেন ‘এলএমটেন’। নবাগত আইসল্যান্ডের বিপক্ষে, বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই যখন ভঙ্গুর রক্ষণের ভুলে এগিয়ে গিয়েও ১-১ সমতায় আর্জেন্টিনা; তখন গোল করার সহজতম সুযোগ পেয়েও করতে না পারার ব্যর্থতা যে চেপে বসেছে মেসির চোখেমুখে! ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে সেই হতাশাটা ভুলে টাটকা সতেজ উদ্যম নিয়ে মাঠে নামাটাই তো মেসির কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ চারজনের ম্যান-মার্কিং, প্রতিপক্ষের কড়া ট্যাকল, এসব তো অনেক সয়েছেন মেসি। এবারের হতাশাটা যে নিজের ওপরই।

এমন সময়ে ভরসার জায়গা হচ্ছে পরিবার। কিন্তু বিশ্বকাপের ঘেরাটোপে তো পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোরও উপায় নেই, অগত্যা অন্তর্জালই ভরসা। তাই তো মেসির স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো ইনস্টাগ্রামে তিন পুত্রসহ নিজেদের ছবি আপলোড করে লিখেছেন, ‘সব সময় এবং আগের চেয়ে আরো বেশি করেই তোমার পাশে আছি।’ মেসির মা সেলিয়াও কষ্ট পাচ্ছেন ছেলের কষ্টে। আর্জেন্টিনার একটি টিভি চ্যানেলে তিনি জানিয়েছেন, ‘মেসি আর্জেন্টিনার জার্সিটা পরতে একদমই গৌরব বোধ করে না, স্রেফ দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে জাতীয় দলে খেলে; ওর বিরুদ্ধে এ রকম অভিযোগ যখন আসে তখন আমাদেরও খুব খারাপ লাগে। এটা একদমই সত্যি নয়। আমরা তাকে যতটা দেখেছি, সে কষ্ট পাচ্ছে এবং কাঁদছে। এসব কথা শুনলেও খারাপ লাগে।’ মায়ের মন ছেলের কষ্ট বুঝতে পারছে দূর থেকেই। সেলিয়া জানিয়েছেন, ‘এই বিশ্বকাপটা যেন মেসির বিশ্বকাপ হয়, সে জন্য আমি সব কিছু ত্যাগ করতে রাজি। বিশ্বকাপ জেতাটা তার স্বপ্ন। এটাই সে সবচেয়ে বেশি করে চায়। আমি তাকে বলেছি, যেটা সে ভালো পারে সেটাই করতে; খেলাটা উপভোগ করতে।’

একটা সময়ে ডিয়েগো ম্যারাডোনা নিজের ছায়া দেখতেন মেসিতে। এখন তো ম্যারাডোনা মেসির সমালোচকদেরই একজন! তিনিও আইসল্যান্ডের সঙ্গে ড্রর কারণ মেসির পেনাল্টি মিসই বলে মনে করেন না, ‘মেসিকে তো দোষ দেওয়াই যায় না। সে তার সর্বস্ব দিয়েছে মাঠে।’

মা, স্ত্রী, ‘ঈশ্বর’; সবার ভালোবাসাই তো পাচ্ছেন মেসি। প্রতিকূল সময়ে হতাশা ভোলানোর সবচেয়ে বড় ওষুধটাই তো পাচ্ছেন তিনি। তাহলে আর ভয় কিসের! মিরর, আরটিই

 



মন্তব্য