kalerkantho



বন্ধুর মন ভাঙবেন রোনালদো!

২০ জুন, ২০১৮ ০০:০০



বন্ধুর মন ভাঙবেন রোনালদো!

বদর হারি কে চেনেন? বেশির ভাগেরই উত্তর হয়তো আসবে ‘না’। চেনার কথাও নয়। তবে মরক্কান এই কিকবক্সার কিন্তু নিজ দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব। দেশের রাজা ষষ্ঠ মুহাম্মদ তাঁকে জানিয়েছেন সর্বোচ্চ রাজকীয় সম্মান। কিকবক্সিংয়ের সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং সর্বকালের সেরাদের একজন হারি আবার ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের একজন। ফিটনেস-পাগল রোনালদো তাঁর কাছে শিখেছেন অনেক ব্যায়াম, মারাকেশ ভ্রমণের সময় ছিলেন রোনালদোর দেহরক্ষী। রোনালদোও তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে। তবে সাম্প্রতিক সময়টা বেশ খারাপই গেছে এই কিকবক্সারের। নাইট ক্লাবে মারামারির মামলায় সাত মাস জেল খেটে বেরিয়েছেন গত বছরের অক্টোবরে। সেই বন্ধুরই মন ভাঙতে চান রোনালদো, বিশ্বকাপে তাঁর দেশ মরক্কোকে হারিয়ে!

ফিফার ‘দ্য বেস্ট’ পুরস্কারের জন্য গত বছর মনোনয়ন পাওয়া তিন ফুটবলার—রোনালদো, মেসি ও নেইমার প্রত্যেকেরই বিশ্বকাপে খেলা হয়ে গেছে একটি করে ম্যাচ। তিনজনের দলেরই ফল ড্র, জুটেছে ১ পয়েন্ট করে! তবে ব্যক্তিগত সাফল্যের দৌড়ে প্রথম ল্যাপটা এগিয়ে শেষ করেছেন রোনালদো, তাঁর হ্যাটট্রিকেই তো স্পেনের সঙ্গে ড্র করেছে পর্তুগাল। মরক্কোর অবশ্য উল্টো ফল! শেষ সময়ে আত্মঘাতী গোলে তারা হেরে গেছে ইরানের কাছে। শূন্য হাতের মরক্কো আর ১ পয়েন্ট পাওয়া পর্তুগাল, দুই দলই কাল ঝাঁপাবে এবারের বিশ্বকাপে প্রথম জয়ের খোঁজে। ২০ বছর পর বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেয়েছে মরক্কো। বাছাই পর্বের শেষ ধাপে ৬ ম্যাচে তারা কোনো গোলই হজম করেনি! তাদের বিপক্ষেই তো লড়তে হবে পর্তুগিজদের!

জিব্রাল্টার প্রণালির এক পাশে স্পেন, অন্য পাশে মরক্কো। ওদিকে স্পেনের পাশেই পর্তুগাল, দূরত্বটাও খুব বেশি নয়। আফ্রিকাতে পর্তুগিজ উপনিবেশগুলোর পত্তনে মরক্কোতেই সবার আগে পা ফেলেছিলেন পর্তুগালের রাজা প্রথম জন। সেই রাজকাহনের দিন তো গেছে কবেই, এখন রোনালদোই পর্তুগালের অলিখিত ‘সম্রাট’! প্রতিবেশী স্প্যানিয়ার্ডদের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করার পর রোনালদো এবারে মরক্কানদের দেয়ালও গুঁড়িয়ে দিতে চান। তাই তো তাঁর ফেসবুক, টুইটার আর ইনস্টাগ্রামে শোভা পাচ্ছে ইটের তৈরি দেয়ালের সামনে দাঁড়িয়ে শট নেওয়ার অ্যানিমেশন। আর রোনালদো বলছেন, ‘আমি যখন বলকে কোনো কথা বলি, সেটা সে শোনে।’ প্রথাগত সংবাদ সম্মেলনে না এসেও নিজের ইচ্ছার কথাটা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোটি কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন রোনালদো। তাঁর ভক্তরাও তৈরি হচ্ছে লুঝনিকি স্টেডিয়ামে আরেকটা ‘রোনালদো শো’ দেখার অপেক্ষায়! দলের প্রতিনিধি হয়ে আসা আন্দ্রে সিলভার কণ্ঠেও রোনালদোর প্রতিধ্বনি, ‘রোনালদোর পাশে খেলাটা স্বপ্নের মতো। সে সব কিছু অনেক সহজ করে দেয়, সে বিশ্বের সেরা।’

তবে মরক্কানরাও কিন্তু সহজে হাল ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নন! ১৯৮৬ বিশ্বকাপে মরক্কো হারিয়েছে পর্তুগালকে, তাও রীতিমতো ৩-১ গোলে। তাদের মিডফিল্ডার ফায়সাল ফাজির হুমকি দিয়ে রেখেছেন, ‘আমরা এখনো মরে যাইনি, পর্তুগালের মুখোমুখি হতে আমরা মুখিয়ে আছি। আমরা বিশ্বাস করি, দেশের মানুষকে আমরা গর্বিত করতে পারব। আমরা রণাঙ্গনে হেরেছি, কিন্তু যুদ্ধে হেরে যাইনি।’

ম্যানুয়েল দি কোস্তা জন্মেছেন ফ্রান্সে; মা পর্তুগিজ আর বাবা মরক্কান। এই তিন দেশের যেকোনোটির হয়েই খেলতে পারতেন এই ডিফেন্ডার। তবে বাবার দেশ মরক্কোর হয়ে খেলাটাই তিনি বেছে নিয়েছেন, পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে তাঁর ভাবনা, ‘আমি আমার শিকড়ের প্রতিনিধিত্ব করছি। আমি ছোটবেলায় পর্তুগিজ দলের অনেকের সঙ্গেই খেলেছি। সবার নাম বলা কঠিন হবে। তবে কোয়ারেসমা, রোনালদো ও পেপের সঙ্গে খেলার কথা মনে আছে।’ পর্তুগালের হয়ে ইউরো ২০০৮-এর বাছাই পর্বের দলে ডাক পেয়েছিলেন, তবে কখনো খেলা হয়নি তাঁর। খেলেছেন পর্তুগালের বয়সভিত্তিক দলেও। সেই সময়ের অনেককেই আজ প্রতিপক্ষে দেখবেন দি কোস্তা।

রোনালদো বলকে পোষা বিড়ালের মতো কথা শোনাবার ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন। আর বিনা যুদ্ধে সূচাগ্র মেদিনীও না ছাড়ার প্রত্যয় মরক্কোর। পরিসংখ্যান বলছে, ২০০২ সালের পর বিশ্বকাপে ইউরোপের বাইরের কোনো দেশের কাছে হারেনি পর্তুগাল। ২০০২ সালে তারা হেরেছিল দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে। আবার মরক্কোর অনুপ্রেরণা হচ্ছে ১৯৮৬ সালে পর্তুগালকে হারানো! কারণ আফ্রিকান কোনো দলের কাছে সেটাই যে পর্তুগালের একমাত্র হার। পর্তুগাল বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে তাদের সব শেষ ১০ ম্যাচে শুধু একটিতেই হেরেছে, গত বিশ্বকাপে জার্মানির কাছে ৪-০ গোলে। বাকি ৯ ম্যাচের ৫টি জয়, ৪টি ড্র। ইরানের বিপক্ষে ম্যাচে মরক্কোর পায়ে বলের দখল ছিল ৬৮%। ২০১০ সালের পর হেরে যাওয়া দলের বল দখলের পরিমাণে যা সর্বোচ্চ। ২০১০ বিশ্বকাপে সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে ৭৩% বলের দখল রেখেও ১-০ গোলে হেরেছিল স্পেন।

পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি, তর্ক, বাক্যবাণ, পরিসংখ্যান; আছে সবই। কিন্তু দুটি দলকে আসলে আলাদা করছেন একজন রোনালদোই! এএফপি

 



মন্তব্য