kalerkantho


গ্রুপেই বদলে যাবে অনেক হিসাব

সালাম মুর্শেদী, লিখছেন কালের কণ্ঠে   

১৯ জুন, ২০১৮ ০০:০০



অভাবনীয় সব কাণ্ড ঘটছে বিশ্বকাপে। কে ভেবেছিল চ্যাম্পিয়ন জার্মানি প্রথম ম্যাচে হেরে বসবে মেক্সিকোর কাছে! কিংবা টুর্নামেন্টের আগে দুর্দান্ত খেলা ব্রাজিল হোঁচট খাবে সুইজারল্যান্ডে! তেমনি প্রথমবার বিশ্বকাপে আসা আইসল্যান্ড আটকে দেবে মেসির দলকে, এটাও তো অনুমান করা কঠিন।

মানুষ সাধারণত বড় দলকে এগিয়ে রেখেই ভাবে। কিন্তু বাস্তবে মেক্সিকো দুর্দান্ত খেলেই হারিয়েছে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। তারা আরো কয়েকটি পরিষ্কার সুযোগ পেয়েছিল, সেগুলো জালে গেলে তো জার্মানির জন্য আরো লজ্জাকর হতো রাশিয়া বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচটি। জার্মানরা শেষদিকে সুযোগ তৈরি করলেও মেক্সিকো সব সময় ভীতি ছড়িয়েছে। চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে কাউন্টার অ্যাটাকে। জার্মানি খেলে সব সময় দলগত ফুটবল, কিন্তু এমন ম্যাচ উতরাতে গেলে কোনো একজনকে হঠাৎ অসম্ভব কিছু করে দেখাতে হয়। মানে একদম ব্যক্তিগত নৈপুণ্য দিয়ে করতে হয়। সেই খেলোয়াড়টা দেখিনি তাদের দলে, ‘বল প্লেয়ার’ লেরয় সানে থাকলে এই অভাবটা পূরণ হতো মনে হয়।

সে রকম ফুটবলার ব্রাজিল দলে থেকেও লাভ হয়নি। কারণ বাজে রেফারিংয়ের কারণে ম্যাচের সৌন্দর্য নষ্ট হয়েছে। এখন ফিফার অনেক নিয়ম-কানুন হয়েছে ভালো ফুটবলারদের রক্ষার স্বার্থে। নেইমার-মেসি-রোনালদোরাই তো খেলাটির আসল অ্যাম্বাসাডর, তাঁদের খেলা দেখতেই মানুষ মাঠে যায়। আর সুইসরা শুরু থেকেই নেইমারকে ফাউল করেছে, জার্সি টেনে ধরেছে অথচ মেক্সিকোর রেফারি বিস্ময়করভাবে এড়িয়ে গেছেন প্রথমার্ধে। তখন কার্ড দেখালে কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে মাত্রা ছাড়ানো ফাউল হতো না। তবে টুর্নামেন্ট ফেভারিটদের বিপক্ষে সুইজারল্যান্ড ট্যাকটিক্যাল ফুটবল খেলে পয়েন্ট পেয়েছে। ম্যাচ ১-১ গোলে ড্র হলেও তাদের গোলটা ঠিক পরিষ্কার নয়। স্টিভেন জুবের হেড করার আগে স্পষ্ট ধাক্কা দিয়েছেন মিরান্দাকে, এটা গোল হয় না। রেফারি নিজেকে আরো প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন ব্রাজিলকে পেনাল্টি না দিয়ে।  তবে এর পরও তাদের গোলের সুযোগ ছিল, কিন্তু পারেনি। প্রথম ম্যাচে ১-১ গোলের ড্র পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জন্য একটা সতর্ক সংকেত।

একই রকম সংকেত মেসির আর্জেন্টিনাকে দিয়েছে আইসল্যান্ড। আর্জেন্টিনার সামনে তাদেরকে প্রথমে ‘দিলকুশা’ (ঢাকা লিগের দুর্বল প্রতিপক্ষ) মনে হয়েছিল! ম্যাচে এত দাপট ছিল আর্জেন্টিনার। তবে দুর্বলতা দেখেছি ডিফেন্সে এবং অ্যাটাকিং থার্ডে, তাদের ফাইনাল পাসটা ঠিকঠাক হয়নি। আগুয়েরো চমৎকার গোল করলেও দলটি পুরোপুরি মেসিনির্ভর। এই জায়গাতেই আর্জেন্টিনাকে আটকে দিয়েছে আইসল্যান্ড। তাঁকে খেলতে দেয়নি। নিজে না পারলেও অন্যকে দিয়ে গোল করিয়ে মেসি ম্যাচ বের করে নেন বার্সেলোনায়। সেটাও করতে দেয়নি। নবাগত দলটি এত ভালোভাবে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলারটিকে সামলাবে, এটা কল্পনা করতেও পারিনি। একইভাবে মেসির পেনাল্টি মিসটিও অপ্রত্যাশিত। এই মিস এবং তাঁর শরীরী ভাষা দেখে মনে হয়েছে খুব চাপে আছেন তিনি। প্রথমত এটা তাঁর শেষ বিশ্বকাপ, সঙ্গে আর্জেন্টাইন ফুটবলের যাবতীয় দায়িত্ব কাঁধে নিতে হয়েছে। তবে মেসির দলকে নবাগত আইসল্যান্ডের আটকে দেওয়ার আরেকটি ব্যাখ্যা হতে পারে। বিশ্ব ফুটবলে বড় দলগুলোর সঙ্গে ছোট দলের পার্থক্য কমে আসছে। বিশেষ ব্যাপার হয়ে উঠছে কোচের কৌশল। খেলোয়াড়রা সেই অনুযায়ী খেলে বলে বড় দলও খাবি খায়। এবার অন্তত ২০টি দল আছে যারা হারাতে পারে যেকোনো দলকে। গ্রুপেই বদলে যাবে অনেক হিসাব-নিকাশ। দ্বিতীয় রাউন্ডেই দেখা যেতে পারে ফেভারিটদের মুখোমুখি লড়াই!

♦ জাতীয় দলের সাবেক তারকা



মন্তব্য