kalerkantho


তারাদের দলের সংবাদ সম্মেলনে অনালোকিত মুখ

নোমান মোহাম্মদ, ব্রোনিৎসি থেকে   

১৪ জুন, ২০১৮ ০০:০০



তারাদের দলের সংবাদ সম্মেলনে অনালোকিত মুখ

রাশিয়ায় আসার পর আর্জেন্টিনার প্রথম সংবাদ সম্মেলন। সেখানে লিওনেল মেসির চেয়ে প্রার্থিত আর কে হতে পারেন! কোচ হোর্হে সাম্পাওলি এলেও চলবে। কিংবা সের্হিয়ো আগুয়েরো। অথবা আনহেল দি মারিয়া। পাউলো দিবালা, গনসালো হিগুয়াইন, হাভিয়ের মাসচেরানোরাও তো রয়েছেন! আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা আকাশভরা এত এত তারা, তাঁদের কেউ না কেউ আসবেন নিশ্চয়ই!

অথচ এলেন কিনা দুই গোলরক্ষক উইলি কাবাইয়েরো ও নাহুয়েল গুসমান! আর্জেন্টিনার ২৩ সদস্যের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে সাংবাদিকদের কাঙ্ক্ষিত তালিকার ২২ ও ২৩ নম্বরেই থাকবেন বোধ হয় এ দুজন। আর্জেন্টিনা টিম ম্যানেজমেন্টের রসবোধ আছে বৈকি!

সের্হিয়ো রোমেরোর ইনজুরি না হলে কাবাইয়েরোর প্রথম একাদশে খেলার কোনো সম্ভাবনাই ছিল না। আর গুসমানের তো রাশিয়ায় আসার কথাই ছিল না। রোমেরোর বিকল্প হিসেবে তাঁর জায়গা নিয়েছেন। রাশিয়ায় দলের প্রথম সংবাদ সম্মেলনে পাঠানো হলো এ দুজনকেই! আর তা কাভার করার অভিজ্ঞতাটা হলো অদ্ভুত।

পড়ে পাওয়া চৌদ্দ আনার মতো বিশ্বকাপে সুযোগটা হঠাত্ই পেয়েছেন গুসমান। এ কারণেই হয়তো উচ্ছ্বাসের কমতি নেই তাঁর। সেটি ওপেন ট্রেনিং সেশনে মাসচেরানোর বুলেট গতির শট ঠেকানোর পর লাফ দিয়ে উল্লাস প্রকাশ থেকে শুরু করে সংবাদ সম্মেলনেও হাসির হুল্লোড় বইয়ে দিয়েও। সেখানে প্রশ্নের জবাবে পাল্টা প্রশ্ন করে সবাইকে হাসিয়েছেন; সাংবাদিকদের মাইক্রোফোন কাজ না করায় এ নিয়ে দুষ্টুমি করেও।

হায়, সেসব কথা, সেসব দুষ্টুমির কিছু যদি বুঝতে পারতাম! কথাবার্তা সবই যে হচ্ছিল স্প্যানিশে! সংবাদ সম্মেলন শুরুর আগে আর্জেন্টিনার ফক্স স্পোর্টস ইলিয়া ডটকমের সাংবাদিক নিকোলাস রোখভের কাছে জিজ্ঞেস করেছিলাম, ইংরেজিতে প্রশ্ন করা যাবে কি না! ‘প্রথমত তুমি প্রশ্ন করার সুযোগই পাবে না। আর দ্বিতীয়ত করলেও ইংরেজি প্রশ্নের উত্তর পাবে না।’

কিন্তু আর্জেন্টিনা থেকে আসা সাংবাদিকদের তো দেখি প্রশ্নের শেষ নেই। টানা ৩৭ মিনিট ধরে বিজাতীয় ভাষা শুনলাম, গুসমানের কথায় সাংবাদিকদের হাসাহাসিতে তাকিয়ে রইলাম বোকার মতো। কেবল কিছু নাম বুঝতে পারি—হোর্হে মানে হয়তো সাম্পাওলি, লিও মানে মেসি, বানেগা-বিলিয়াকে নিয়েও কী সব বললেন! একবার বোধকরি ডিয়েগোও শুনলাম, হয়তো ডিয়েগো ম্যারাডোনাকে নিয়ে কিছু বলা। সেটি তো আর সংবাদ সম্মেলন চলাকালীন আর্জেন্টাইন সাংবাদিকদের জিজ্ঞেস করা যায় না। ভেবেছিলাম, শেষে জানতে চাইব।

কিন্তু গণমাধ্যমের সঙ্গে কাবাইয়েরো-গুসমানের কথাবার্তা যে শেষই হতে চায় না! বিজাতীয় ভাষার তোড় কাঁহাতক আর সহ্য করা যায়! রাশিয়ার চেয়ে বাংলাদেশের সময় এগিয়ে তিন ঘণ্টা, পত্রিকার ডেডলাইনের তাড়া অনুক্ষণ—আর না পেরে তাই বেরিয়েই আসি সংবাদ সম্মেলন কক্ষ থেকে। ৩৭ মিনিটের পরও আরো কতক্ষণ যে তা হয়েছে!

সংবাদ সম্মেলনের আগে ছিল উন্মুক্ত ট্রেনিং সেশন। তারও আগে সিরোজেকিন স্পোর্টস স্কুল ফ্যাসিলিটিসের গেটে অপেক্ষা। আরো শ দেড়েক সাংবাদিকের সঙ্গে, যাঁদের প্রায় সবাই এসেছেন আর্জেন্টিনা থেকে। মস্কো থেকে যখন রওনা দিই, তখন তো আর জানি না মেসিদের চোখের সামনে দেখতে পারব কি না। ধারণা ছিল, সেটি না হলেও হোটেলের সামনে দিয়ে তো ঘুরে আসা যাবে। কিন্তু তা আর হতো না। ওই আবাসন যে চেকপোস্টের অনেক ভেতরে; হেঁটে যেতেও অন্তত মিনিট দশেক। আর আর্জেন্টিনার বেইস ক্যাম্পে ঢোকার পথে ওই একটিই চেকপোস্ট। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদর বলতে যা বোঝায়, ব্যাপারটি মোটেই তেমন নয়। অবশ্য ফিফা অনুমোদিত সাংবাদিক ছাড়া অন্য কোনো সাধারণ দর্শকের প্রবেশাধিকারও কাল ছিল না।

যেমনটা ছিল না ব্রোনিৎসি শহরে মেসিদের অনুশীলন ক্যাম্পের বড়সড় ঘোষণা। শহরের মোড়ে মোড়ে বড় ছবি, হোর্ডিং দেখব বলে সাধারণ যে প্রত্যাশা, তাতে গুড়েবালি। তবে মেসি-দর্শন এবং গুসমান-কাবাইয়েরোর সংবাদ সম্মেলন দেখে মস্কো ফেরার পথে আর্জেন্টাইন জাদুকরের বিশাল এক দেয়ালচিত্র চোখে পড়েছে ঠিকই। রুশ আঁকিয়ে সের্গেই ইরোফেভের সেই ম্যুরালে আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা জার্সি পরে দাঁড়িয়ে মেসি। দু-হাত ভাঁজ করা বুকের কাছে; চোখের দৃষ্টি কোন দূরে-সুদূরে!

বিশ্বকাপ ট্রফির দিকে নিশ্চয়ই—এমন কল্পনা করে নিলে ভুল কী!

 

 



মন্তব্য