kalerkantho



ফুটবলের বাইরেও অনেক কিছু

১৪ জুন, ২০১৮ ০০:০০



ফুটবলের বাইরেও অনেক কিছু

বিশ্বকাপের গান, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সবই জাঁকজমক আর তারায় ভরা! কিন্তু উদ্বোধনী ম্যাচটি? স্বাগতিক রাশিয়া আর সৌদি আরবের ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপের কিক-স্টার্ট হচ্ছে ঠিকই, তবে টপ গিয়ারে উঠতে বোধ হয় অপেক্ষা করতে হবে আরো একটি দিন। অন্তত স্পেন-পর্তুগাল ম্যাচের আগ পর্যন্ত জমাট কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস বিশ্বকাপ সূচিতে নেই।

২০১৪ বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার সঙ্গে ম্যাচে ১-১ গোলে ড্র করে ব্রাজিল পর্ব সমাপ্ত হয়েছিল রাশিয়ার। ‘এইচ’ গ্রুপ থেকে তারা পারেনি পরের রাউন্ডের টিকিট কাটতে। আর সৌদি আরবের সবশেষ বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা ১২ বছর আগে, ২০০৬ সালে। তারাও ছিল জার্মানি বিশ্বকাপের ‘এইচ’ গ্রুপে। তিন ম্যাচের দুটিতে হেরে, সাতখানা গোল হজম করে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল সৌদিরা। বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ, ব্যর্থতা এবং কোচ বরখাস্ত করা—এসব কারণেই মূলত খবর হয় সৌদি আরবের ফুটবল দল। আর আরশাভিন-পাউলিচেঙ্কোদের পরবর্তী সময়ে রুশদের পারফরম্যান্সের গ্রাফও নিম্নগামী। বছর দুই আগে, ফ্রান্সে হয়ে যাওয়া ইউরোতে কোনো ম্যাচই জিততে পারেনি তারা। অবশ্য ডোপ কেলেঙ্কারিতে রুশ ক্রীড়াবিদদের অলিম্পিকেই অংশ নেওয়া নিয়ে যে চাপানউতোর হয়েছে, বিশ্বকাপ ফুটবলে যে রুশ দলের ওপর এমন কোনো অভিযোগ আসছে না, এটাই বড় স্বস্তি! স্বাগতিকদের অবস্থা অবশ্য সুবিধার নয়।  ব্রাজিল, ফ্রান্সের মতো দলের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচে হার না হয় মেনে নেওয়া যায়, তাই বলে অস্ট্রিয়ার সঙ্গে হার ও তুরস্কের সঙ্গে ড্র করা নিয়ে বেশ সমালোচনা চলছে আকিনফিভদের। খেলা শুরুর এক সপ্তাহ আগ থেকেই, মস্কোর হৈ-হুল্লোড় থেকে দূরে, নভোগোরস্কে নিবিড় অনুশীলনে মগ্ন ছিলেন রাশিয়ান ফুটবলাররা। উদ্বোধনী ম্যাচের আগে ক্লান্তি কাটিয়ে, ভুল শুধরে, চাঙ্গা হয়ে নিজেদের সবটুকু মেলে ধরারই প্রত্যয় তাঁদের।

সৌদি ফুটবলাররা বরং মানসিকভাবে বেশ খানিকটা এগিয়ে। কিছুদিন আগেই জার্মানির সঙ্গে প্রস্তুতিমূলক প্রীতি ম্যাচ খেলেছে সৌদিরা। সেখানে জার্মানদের প্রায় রুখেই দিচ্ছিল হুয়ান আন্তনিও পিজ্জির শিষ্যরা। ২-১ গোলে হারলেও বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বেশ ঘাম ঝরিয়েছে ‘সবুজ বাজপাখি’ সৌদি আরব। রুশদের বিপক্ষে প্রথম ১০টি মিনিট হয়তো একটু দেখেশুনেই শিষ্যদের খেলতে বলবেন পিজ্জি, এরপর অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা!

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ নিয়ে মাঠে যতটা উত্তাপ, তার চেয়ে বেশি নিঃসন্দেহে মাঠের বাইরে। রাশিয়া ও সৌদি আরব, দুটি দেশ প্রকৃতি, সংস্কৃতি, রাজনৈতিক ব্যবস্থায় এতটাই আলাদা যে কোনো তুলনাই চলে না। শুধু একাি জায়গায় প্রচণ্ড মিল। সেটি হচ্ছে দুটি দেশই পেট্রোলিয়ামের বড় রপ্তানিকারক! সৌদি আরব ও রাশিয়া, দুই জায়গাতেই তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় বড় খনি রয়েছে এবং দুটি দেশই জ্বালানি রপ্তানি করে সবচেয়ে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে, যা তাদের অর্থনীতিকে সচল রাখে। সেই সঙ্গে দুটি দেশের রাজনীতির রূপটাও একই রকম, সেটি হচ্ছে একক ব্যক্তির ক্ষমতানির্ভর রাজনীতি। সৌদিতে প্রিন্স মুহাম্মদ বিন সালমান আর রাশিয়াতে ভ্লাদিমির পুতিন, তাঁদের কথাই হচ্ছে আইন। বিশ্বকাপ উপলক্ষে দুই প্রচণ্ড শক্তিধর দুই রাষ্ট্রনায়ক আজ পাশাপাশি বসবেন লুঝনিকি স্টেডিয়ামে। আরব নিউজসহ বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ দেখতে রাশিয়া যাবেন সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ রুশ বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স মারফত জানিয়েছেন, ‘আমরা তাঁর উপস্থিতি কামনা করছি।’ শুধু তা-ই নয়, জানা গেছে দুজন মিলে বৈশ্বিক তেল উত্পাদন কমিয়ে আনার ব্যাপারেও আলোচনা করবেন। তাই লুঝনিকি স্টেডিয়ামের ৯০ মিনিটের চেয়ে এই ম্যাচ উপলক্ষে সালমান ও পুতিনের আলাপচারিতাই যে বেশি প্রভাব রাখবে, সেটা বলেই দেওয়া যায়।

রুশদের সঙ্গে স্বাগতিক দর্শকদের অনুপ্রেরণা, উদ্দীপনা তো থাকবেই। সঙ্গে থাকবে ইতিহাসও। উদ্বোধনী ম্যাচে যে স্বাগতিকরা কখনো হারেনি! ছয়বার জিতেছে স্বাগতিকরা, তিনবার করেছে ড্র। এই নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ খেলছে রাশিয়া। ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপে স্বাগতিক মেক্সিকোর সঙ্গে গোলশূন্য ড্র দিয়েই বিশ্বকাপের ঘণ্টা বাজিয়েছিল সেসময়কার সোভিয়েত ইউনিয়ন। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও উদ্বোধনী ম্যাচে হয়তো হারতে হবে না রাশিয়াকে।

গ্রুপের বাকি দুটি দল, মিসর আর উরুগুয়ে। স্বাগতিক রাশিয়া ও সৌদি আরব, দুই দলেরই পরের রাউন্ডে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। হতে পারে এই ম্যাচই তাদের পয়েন্ট প্রাপ্তির একমাত্র সুযোগ! বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ফুটবলের সঙ্গে নানা আমোদ প্রমোদের ব্যবস্থা থাকে। রাশিয়া বিশ্বকাপে স্বাগতিক দর্শকদের বাইরে যাঁরা চড়া দামে উদ্বোধনী ম্যাচের টিকিট কেটেছেন, তাঁদের কাছে আমোদটাই প্রাপ্তি। ফিফা ডটকম



মন্তব্য