kalerkantho



লোপেতেগুই বরখাস্ত দায়িত্বে হিয়েরো

১৪ জুন, ২০১৮ ০০:০০



লোপেতেগুই বরখাস্ত দায়িত্বে হিয়েরো

আগের দিন পেয়েছিলেন সুসংবাদ আর পরদিনই ইউলেন লোপেতেগুই শুনলেন মহা এক দুঃসংবাদ। এক দিনের মধ্যেই স্পেনের ‘অপরাজেয়’ কোচের বর্তমান এলোমেলো করে দেওয়া সিদ্ধান্ত নিল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন। বিশ্বকাপের মাত্র এক দিন আগে লোপেতেগুইকে বরখাস্ত করল তারা। মাসখানেক আগেই তাঁর চুক্তি ২০২০ সাল পর্যন্ত বর্ধিত করা হলেও এর মধ্যে আবার নতুন গন্তব্য ঠিক করে নেওয়াই এই স্প্যানিশ কোচের অপরাধ। মঙ্গলবার জিনেদিন জিদানের উত্তরসূরি হিসেবে রিয়াল মাদ্রিদ লোপেতেগুইয়ের নাম ঘোষণা করার পরদিনই তাই ব্যবস্থায় গেল ফেডারেশন। বিশ্বকাপের মতো মহা গুরুত্বপূর্ণ আসরের ঠিক আগে নিজের বর্তমান কর্মস্থলের সঙ্গে কোনো রকম যোগ-জিজ্ঞাসা না করেই ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে ফেলার ব্যাপারটি গুরুতর মনে করা ফেডারেশন সভাপতি লুইস রুবালেস জানিয়েছেন ‘বাধ্য হয়েই’ সিদ্ধান্তটি নিতে হয়েছে তাদের। লোপেতেগুইকে বরখাস্তের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর শূন্যস্থান পূরণ করা হয়েছে রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক অধিনায়ক ফের্নান্দো হিয়েরোকে দিয়ে।

স্পেনের সাবেক এ ডিফেন্ডার এমন এক দল নিয়ে আগামীকাল পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করতে চলেছেন, যে দলটি তাঁর বেছে নেওয়া নয়। ২০১৪-১৫ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের সহকারী কোচ হিসেবে কাজ করা হিয়েরোর পূর্ণাঙ্গ অভিজ্ঞতা বলতে এক বছর দ্বিতীয় বিভাগের দল রিয়াল ওভেইদোকে সামলানো। যদিও গত ডিসেম্বর থেকে ফেডারেশনের সঙ্গেই যুক্ত ছিলেন জাতীয় দলের স্পোর্টিং ডিরেক্টর হিসেবে। যে কারণে দলটি তাঁর বেছে নেওয়া না হলেও হিয়েরোর সঙ্গে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের যোগাযোগ ছিলই। গত পরশু লোপেতেগুইয়ের তিন বছরের জন্য রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার খবর প্রকাশিত হতেই তড়িঘড়ি স্প্যানিশ দলের দায়িত্ব নেওয়ার সম্ভাব্য কোচদের তালিকায় ছিল তাঁর নামও। সে বিষয়ে তিনি অবগতও ছিলেন। তাই বলে ফেডারেশনের সিদ্ধান্তে তাঁর কোনো প্রভাব ছিল না বলেও নিশ্চিত করতে চেয়েছেন হিয়েরো, ‘যা যা ঘটছিল, সব বিষয়েই আমি অবগত ছিলাম। তবে কোনো সিদ্ধান্ত দিইনি তাদের (ফেডারেশনকে)। কিংবা এমন কিছুও বলিনি যা তাদের দ্বিধায় ফেলতে পারে। আমি শুধু আমার মতামত দিয়েছি। কিন্তু সিদ্ধান্তটি নিয়েছেন তারাই।’

লোপেতেগুইকে ছাঁটাই করার সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় রুবালেস গতকাল রাশিয়ায় স্পেনের বিশ্বকাপ বেসক্যাম্প ক্রাসনোদারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘জাতীয় দলটি হলো সব স্প্যানিয়ার্ডের। সেই মূল্যবোধ রক্ষার জন্য আমাদের কিছু কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।’ তাই বলে একজন পেশাদার কোচের কোনো দলের সঙ্গে আলোচনায়ও যেতে পারবেন না? সংবাদ সম্মেলনে ওঠা এমন প্রশ্নেরও জবাব দিয়েছেন রুবালেস, ‘কারো সঙ্গে আলোচনায় যাওয়াটা দোষের কিছু নয়। কিন্তু সমস্যা হলো আপনি কখন সেটি করছেন? ফেডারেশনকে না জানিয়েই তিনি এসব করেছেন। আমাদেরও জানিয়েছেন তবে সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার মাত্র পাঁচ মিনিট আগে। ফেডারেশনের সব কর্মীদেরই আমরা এই বার্তাটি দিতে চাই যে সব কিছু করারই একটি সঠিক পথ আছে।’

সেই পথ ফেলে লোপেতেগুই ঘুরপথে যাওয়াতেই বিশ্বকাপে স্পেনের প্রথম ম্যাচের দুই দিন আগে চাকরি খোয়ালেন। ৫১ বছর বয়সী এই কোচের অধীনে কোনো ম্যাচই হারেনি একবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তাঁর সময়ে ২০ ম্যাচ খেলে ১৪টিতেই জিতেছে সের্হিও রামোসের দল, ড্র করেছে ছয়টি ম্যাচ। ২০১৬-র ইউরোর ব্যর্থতায় ভিসেন্তে দেল বস্কের চাকরি যাওয়ার পর গত দুই বছরে স্পেন দলকে বিশ্বকাপ সামনে রেখে বেশ ভালোই গুছিয়ে নিয়েছিলেন লোপেতেগুই। সুবাদে খেলোয়াড়দের আস্থাও অর্জন করেছিলেন বেশ। যে কারণে তাঁর ছাঁটাই ঠেকাতে খেলোয়াড়রা শেষ পর্যন্ত তদবির করে গেছেন বলেও স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমের খবর। রুবালেস অবশ্য নতুন কোচের অধীনেও খেলোয়াড়রা নিজেদের মেলে ধরতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ বলে দাবি করেছেন, ‘খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা হয়েছে আমার। এটা নিশ্চিত করতে পারি যে নতুন টেকনিক্যাল দলের অধীনেও ওরা দলকে যথাসম্ভব এগিয়ে নেওয়ার জন্য সব কিছুই করবে।’ অধিনায়ক রামোসও দলের একতাবদ্ধ থাকার ব্যাপারটি টুইট করে প্রকাশ করেছেন এই ভাষায়, ‘আমরা জাতীয় দল। কাজেই আমরা ব্যাজ, রং, ভক্তকুল এবং দেশের প্রতিনিধিত্ব করি। আপনাদের প্রতি দায়িত্ববোধ এবং অঙ্গীকারটা তাই থাকছেই। আগেও ছিল, এখনো আছে এবং আগামীকালও থাকবে। আমরা একই আছি।’ বিশ্বকাপের ঠিক আগে লোপেতেগুইয়ের রিয়ালের সঙ্গে কথা পাকাপাকি করার খবর স্পেন দলের মধ্যে সেই পুরনো রিয়াল মাদ্রিদ আর বার্সেলোনার বিভক্তি উসকে দিতে পারে বলেই চটজলদি কঠোর ব্যবস্থায় গেল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন। যা লোপেতেগুইয়ের জায়গায় নিয়ে এলো হিয়েরোকে। এএফপি

 



মন্তব্য