kalerkantho


ব্রাজিল ছেড়ে মন্দ নেই ফের্নান্দেস

১৩ জুন, ২০১৮ ০০:০০



ব্রাজিল ছেড়ে মন্দ নেই ফের্নান্দেস

ভবিষ্যতের লুসিও ভাবা হচ্ছিল তাঁকে। মারিও ফের্নান্দেসকে ঘিরে প্রবল আগ্রহী ছিল রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা আর বায়ার্ন মিউনিখ। কিন্তু তাদের টেক্কা দিয়ে ২০১২ সালে এই রাইটব্যাককে দলে আনে সিএসকেএ মস্কো। রাশিয়ার এই ক্লাব, শহর আর দেশটির প্রেমে পড়ে যান ফের্নান্দেস। এতটাই যে জাতীয়তা বদলে হয়ে যান রাশিয়ান! অথচ ২০১৪ সালে ব্রাজিলের জার্সিতেই জাপানের বিপক্ষে অভিষেক তাঁর। এরপর ব্রাজিল থেকে সেভাবে সাড়া না পেয়ে ২০১৬ সালে নেন রাশিয়ার নাগরিকত্ব। তাই তাঁর বিশ্বকাপ অভিষেক হচ্ছে রাশিয়ার জার্সি গায়ে।

দানি আলভেস চোট পেয়ে ছিটকে যাওয়ার পর অনেক ব্রাজিলিয়ানেরই মনে হয়েছিল আদর্শ রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে ফের্নান্দেসের নাম। ও’গ্লোবো বিশেষ রিপোর্টও করেছিল এ নিয়ে। তত দিনে দেরি যা হওয়ার হয়ে গেছে। রাশিয়া জাতীয় দলের নিয়মিত মুখ হয়ে গেছেন ২৭ বছর বয়সী এই রাইটব্যাক।

তবু হাজার হলেও জন্মভূমি ব্রাজিলের জার্সিতে এবারের বিশ্বকাপ খেলতে না পারার আফসোস কি পোড়াচ্ছে না ফের্নান্দেসকে? নাহ, কোনো আফসোস নেই তাঁর, ‘আমার কোনো অনুশোচনা নেই। রাশিয়ায় অনেক ভালো আছি। দানি আলভেস অসাধারণ ফুটবলার। বার্সেলোনার পর পিএসজিতেও দেখিয়েছে নিজের মান। তাঁকে ছাড়া বিশ্বকাপ খেলাটা সত্যি বড় শূন্যতা ব্রাজিলের। তবে ব্রাজিলে আরো অনেক ভালো রাইটব্যাক আছে। তিতে নিশ্চয়ই দলের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেবেন তাদের।’

সিএসকেএ মস্কোতে যোগ দিয়ে ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪ আর ২০১৫-১৬ মৌসুমে জিতেছেন প্রিমিয়ার লিগ। রাশিয়ান কাপ ও রাশিয়ান সুপার কাপও জিতেছেন একবার করে। রক্ষণে প্রাচীর গড়ার পাশাপাশি আক্রমণেও সমান সাহায্য করায় রাশিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন প্রস্তাব দেয় জাতীয়তা বদলে তাদের হয়ে খেলার। ২০১৬ সালে তাতে সাড়া দেন ফের্নান্দেস। ওই বছরই আগস্টে তুরস্কের বিপক্ষে ডাক পেয়েও খেলতে পারেননি, কারণ নিয়ম অনুযায়ী তত দিন পাঁচ বছর রাশিয়ায় থাকার মেয়াদ পূরণ হয়নি তাঁর। ২০১৭ সালের অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে অভিষেক তাঁর। তখন থেকে খেলেছেন পাঁচ ম্যাচ।

বিশ্বকাপ স্বাগতিক হলেও রাশিয়ার প্রস্তুতিটা ভালো হয়নি। ২০১৪ বিশ্বকাপ, ২০১৬ ইউরো আর ২০১৭ ফিফা কনফেডারেশনস কাপে ৯ ম্যাচে তাদের জয় মাত্র একটি। এমন ব্যর্থতার পরও ভালো কিছুর প্রত্যাশায় ফের্নান্দেস, ‘বিশ্বকাপের স্বাগতিক আমরা। নিজেদের দর্শকদের সামনে ভালো খেলতে চাই। আমাদের দলটা যথেষ্ট ভালো, প্রতিদিনই তৈরি হচ্ছি বিশ্বকাপের ম্যাচের জন্য।’ রাশিয়ায় এসে প্রথম সমস্যায় পড়েছিলেন ভাষার। সেটাও কেটে যাচ্ছে ফের্নান্দেসের, ‘রাশিয়ান ভাষার অনেকটা বুঝি এখন। যত বুঝব তত আমার জন্যই ভালো।’ এপি



মন্তব্য