kalerkantho


ছোট দলের বড় তারকা

১১ জুন, ২০১৮ ০০:০০



ছোট দলের বড় তারকা

আইসল্যান্ডের আক্রমণভাগের চাবিকাঠিটা গিলফি সিগুর্ডসনের হাতে। তাঁর সৃষ্টিশীলতা দলের বড় শক্তি। প্রতিপক্ষের বক্সে সতীর্থকে বলের জোগান দেবেন নয়তো নিজেই স্কোরিং পজিশনে চলে যাবেন। সেট পিসেও তিনি ভরসা। গত ইউরো থেকে ইংল্যান্ডকে বিদায় করে আইসল্যান্ড যে চমক দেখিয়েছিল বলা হচ্ছে তেমন কিছুর পুনরাবৃত্তির জন্য বিশ্বকাপে এই সিগুর্ডসনের ফর্মে থাকাটাও জরুরি।

দল হিসেবে আইসল্যান্ড দারুণ সংগঠিত, কঠোর পরিশ্রমীও। সিগুর্ডসনের সৃষ্টিশীলতাই তাতে নতুন মাত্রা যোগ করে। পেনাল্টি এরিয়ায় সেই মানের স্ট্রাইকার না থাকার অভাবটাও তিনি অনেকটা পুষিয়ে দেন। আইসল্যান্ডের মূল যে খেলার ধরন, সেই কাউন্টার অ্যাটাকেও তাঁর স্কিল, গতি অপরিহার্য। আইসল্যান্ডের সবচেয়ে বড় তারকা নিঃসন্দেহে এইডুর গুডজোহানসন। চেলসি ও বার্সেলোনায় খেলেছেন; জিতেছেন প্রিমিয়ার লিগ, লা লিগা ও উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ। তবে এবারের বিশ্বকাপ দলে থাকা গিলফি সিগুর্ডসনও কম যান না, তিনি সাতবার হয়েছেন আইসল্যান্ডের বর্ষসেরা ফুটবলার, দুইবার হয়েছেন বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদ। দেশের হয়ে ৫৫ ম্যাচে তাঁর গোলসংখ্যা ১৮। কোচের ছক ৪-৪-২ হোক আর ৪-২-৩-১ হোক, নিউক্লিয়াস সিগুর্ডসনই।

বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে তাঁর রয়েছে ৪ গোল, ২০১৬ ইউরোর বাছাই পর্বেও করেছিলেন ৬ গোল; হয়েছিলেন গ্রুপের সর্বোচ্চ গোলদাতা। এভারটনের হয়ে সর্বশেষ মৌসুমে ২৭ ম্যাচে করেছেন ৬ গোল। ইউরোর পর সোয়ানসি থেকে এভারটনে এসেছেন সিগুর্ডসন ৪৫ মিলিয়ন ইউরোতে, সোয়ানসিতেও এক শ’র বেশি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা আছে তাঁর। দীর্ঘদিন ধরেই ইংল্যান্ডে খেলছেন সিগুর্ডসন। রিডিং, শ্রুসবেরি টাউন থেকে জার্মান দল হফেনহেইমে গিয়ে দুটি মৌসুম কাটিয়ে ফের ইংল্যান্ডে এসেছেন। টটেনহামে খেলেছেন দুই মৌসুম। যদিও ১০ মার্চের পর আর মাঠে নামেননি সিগুর্ডসন, এভারটনে ওয়েইন রুনি চলে আসায় তাঁকে খানিকটা আড়ালেই চলে যেতে হয়েছে। হাঁটুর চোটও তাঁকে মাঠের বাইরে ঠেলে দিয়েছিল আট সপ্তাহের জন্য। তবে অদম্য মনোবলে ভর করেই সেরে উঠেছেন তিনি। এখন বিশ্বকাপে দলের সাফল্যে কতটা অবদান রাখতে পারেন সেটাই দেখার। ইউরোর বাছাই পর্ব, মূল পর্ব কিংবা বিশ্বকাপ বাছাই পর্ব—কোথাও হতাশ করেননি সিগুর্ডসন। বিশ্বকাপেও নিশ্চয়ই করবেন না!

লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার বিপক্ষেই বিশ্বকাপে অভিষেক হচ্ছে সিগুর্ডসনের। যা একটা সময় ছিল কল্পনাতীত, ‘এ ধরনের কিছু আমরা শুধু স্বপ্নেই দেখতাম। এরপর যখন ভাবতাম আমরা আইসল্যান্ডের তখন মনে হতো এ তো অসম্ভব। সেই অসম্ভবকে সম্ভব করেই টানা দুটি বড় আসরে খেলছি আমরা। সত্যিই এটা অবিশ্বাস্য।’ তাই এখন কঠিন গ্রুপের ভাবনাও ভাবাচ্ছে না এই তারকাকে। আবারও অবিশ্বাস্য কিছু করার নেশায়ই বুঁদ হয়ে আছেন তিনি। মার্চের মাঝামাঝি এভারটনের হয়ে খেলার সময়ই হাঁটুর ইনজুরিতে আট সপ্তাহের জন্য মাঠের বাইরে ছিটকে গিয়েছিলেন তিনি। তাতে বিশ্বকাপে খেলাটাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল তাঁর। কিন্তু আইসল্যান্ডের প্রথম বিশ্বকাপে দলের সেরা তারকা থাকবেন না, তা কী করে হয়। সিগুর্ডসনেরও যে স্বপ্নপূরণের পালা। তাই কোনো বাধাই আর বাধা থাকেনি শেষ পর্যন্ত। রাশিয়ায় থাকছেন এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার। ইউরোতে নিজেকে মেলে ধরেছিলেন, এবার বিশকাপেও তাঁর জ্বলে ওঠার পালা। সিগুর্ডসনও যে অধীর অপেক্ষায় সেই মুহূর্তগুলোর জন্য।

 



মন্তব্য