kalerkantho


ফুটবলে অসম্ভব বলে কিছু নেই

১১ জুন, ২০১৮ ০০:০০



ফুটবলে অসম্ভব বলে কিছু নেই

স্যার আলেক্স ফার্গুসনের সহকারী ছিলেন, সেখান থেকে হয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের কোচ। মাত্র ১০ মাসের মাদ্রিদবাস শেষে ফিরেছিলেন আগে পদে! ইরানের কোচ হিসেবে দ্বিতীয়বার আসছেন বিশ্বকাপে, যেখানে একই গ্রুপে প্রতিপক্ষ নিজের দেশ পর্তুগাল। কার্লোস কুইরোজ অবশ্য জানিয়ে দিয়েছেন, বিশ্বকাপ শেষে ছাড়ছেন ইরানের কোচের পদ। যাওয়ার আগে শেষটা কি পারবেন স্মরণীয় করে রাখতে?

 

প্রশ্ন : কী স্বপ্ন নিয়ে ইরান এসেছে রাশিয়ায়?

কার্লোস কুইরোজ : রাশিয়াতে আসতে পারাটা আমাদের কাছে স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেওয়ার মতোই একটা ঘটনা! এই অর্জনের পেছনে আমাদের অনেক কঠোর পরিশ্রম আর ত্যাগ-তিতিক্ষা রয়েছে। এখানে এসে আমাদের পরিশ্রম ও ত্যাগের মাহাত্ম্যটা আরো বেশি করে অনুভব করতে পারছি।

প্রশ্ন : এশিয়ার বাছাই পর্বে সফল দল হলেও বিশ্বকাপে কখনোই তো প্রথম রাউন্ডের গণ্ডি পার করা হয়নি ইরানের। এই দলটাকে নিয়ে কত দূর যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন?

কুইরোজ : ইরানের জাতীয় দলের ফুটবলাররা সব সময় বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য, কাঁধে কাঁধ ঠেকিয়ে লড়ার জন্য তৈরি। আমাদের স্বপ্ন যত দূর পারা যায় এগিয়ে যাওয়ার আর এই বিশ্বকাপটাকে স্মরণীয় করে রাখার। আমরা সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এগিয়ে যেতে চাই।

প্রশ্ন : মার্কিন সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারণে স্পোর্টস জায়ান্ট নাইকি জুতা দেবে না ইরানের ফুটবলারদের। এই ব্যাপারে আপনার কী অভিমত?

কুইরোজ : খেলোয়াড়রা তাদের খেলার সরঞ্জামের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিল। গুরুত্বপূর্ণ সব ম্যাচের মাত্র এক সপ্তাহ আগে, এসব বদল করাটা ঠিক হয়নি। আমরা ফিফার কাছে আবেদন জানিয়েছি এই ব্যাপারটায় আমাদের সাহায্য করার জন্য।

প্রশ্ন : রেফারিং নিয়ে গত বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা খুব সুখকর নয় আপনার। ২০১৪ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচে পাওনা একটা পেনাল্টি না দেওয়ার ক্ষোভটা কি এখনো আছে?

কুইরোজ : ঘটনাটা মনে হলেই কষ্ট লাগে। আমরা কিন্তু খুব ভালো খেলছিলাম। কিন্তু মেসি, তার জাদুকরী সামর্থ্য দিয়ে ম্যাচটি ছিনিয়ে নিয়ে গেল। দুটি মানুষ খেলার রং বদলে দিয়েছিল। প্রথমত, রেফারি যে দেজাহ আশকানের ওপর অমন ফাউলের পরও পেনাল্টি দেয়নি আর দ্বিতীয়ত হচ্ছে মেসি। তখন পেনাল্টিটা দিলে আমরা হয়তো ১-০তে এগিয়ে থাকতাম আর পাউলো জাবালেতা মার্চিং অর্ডার পেয়ে বাইরে গেলে ওদের হয়তো ১০ জন নিয়ে খেলতে হতো। তবে জীবন এগিয়ে যায়...

প্রশ্ন : প্রথম ম্যাচটি মরক্কোর বিপক্ষে পড়ায় বোধ হয় ভালোই হয়েছে?

কুইরোজ : হ্যাঁ, ভালোই হয়েছে। প্রথম ম্যাচেই দুই ফেভারিট একে অন্যের বিপক্ষে খেলবে, সেটা সবার জন্যেই ভালো হলো। স্পেন আর পর্তুগাল তো আর একে অন্যের বিপক্ষে ‘পাস পাস’ খেলবে না! তারা এসেছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য। মরক্কো আর ইরান খেলবে শেষ ষোলোয় জায়গা পাওয়ার জন্য।

প্রশ্ন : স্পেন ও পর্তুগাল থাকায় নিশ্চয়ই শেষ ষোলোয় জায়গা করাটাও কঠিন হয়ে গেল?

কুইরোজ : কোনো সন্দেহ নেই স্পেন ও পর্তুগালই ফেভারিট। তবে স্রেফ কাগজ-কলমে। আমরা সবাই জানি, ফুটবলে অসম্ভব বলে কিছু নেই। কখনো কখনো ইঁদুরও তো বিড়ালের থাবা থেকে পালায়! ইরান তাদের সম্মান রক্ষার চেষ্টা করবে আর দেশবাসীকে গর্বিত করার চেষ্টা করবে।

প্রশ্ন : নিজের দেশ, একটা সময় যাদের কোচিং করিয়েছেন, সেই পর্তুগাল ইরানের সঙ্গে একই গ্রুপে। এটা কি বাড়তি কোনো অনুপ্রেরণা?

কুইরোজ : আমার জন্য এটা খুবই বিশেষ একটা অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে। পর্তুগাল আমার নিজের দেশ আর রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকায় স্প্যানিশ ফুটবল সম্পর্কেও আমার ভালো ধারণা আছে। ইরানের কোচ হিসেবে আমার কাজ হবে তাদের জন্য ম্যাচ দুটি যতটা সম্ভব কঠিন করে তোলা। একই কথা বলতে পারি মরক্কোর বেলাতেও। এটা নিশ্চিত যে ম্যাচগুলোকে আমরা তাদের জন্য যুদ্ধ বানিয়ে ছাড়ব। ইরানকে হারানো সহজ হবে না আর আমার দলের খেলোয়াড়রা সেটা নিশ্চিত করে তোলার জন্য সেরা চেষ্টাটাই করে যাবে। এরপর দেখব কী হয়।

প্রশ্ন : এটাতো আপনার তৃতীয় বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে। অভিজ্ঞতা কতটা মূল্যবান এই পর্যায়ে এসে?

কুইরোজ : খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটা আপনাকে প্রস্তুতি নিয়ে একটা মানসিক স্থিতিশীলতা দেবে। জানবেন কিভাবে ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে হয়। ইরানের মতো দলের জন্য এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই দলের খেলোয়াড়রা অভিজ্ঞ নয়। তাদের অনেকেরই এটা প্রথম বিশ্বকাপ আর এই পর্যায়ে খেলার অভিজ্ঞতা তাদের নেই। একটা আত্মবিশ্বাসের বার্তা পৌঁছে দেওয়া আর ধীরস্থির থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ।



মন্তব্য