kalerkantho


গোলের মন্ত্র কাভানির

২৭ মে, ২০১৮ ০০:০০



গোলের মন্ত্র কাভানির

এদিনসন কাভানির মৌসুমটা এবার ভালো যায়নি। না, পারফরম্যান্সের কারণে নয়। নেইমারের সঙ্গে দ্বন্দ্বের কারণেই আলোচনায় ছিলেন যে বেশির ভাগ সময়। অথচ এ বছরই জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচকে টপকে পিএসজির ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন তিনি। মৌসুম শেষ করেছেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪০ গোল করে।

পারফরম্যান্সের বাইরের ইস্যু ভাবনার বাইরে রাখতে পারলে হয়তো রাশিয়ায় সেরা ফর্মের কাভানিকেই পাবে উরুগুয়ে। লাতিন আমেরিকার বাছাই পর্বের কথাই ধরুন না, ১০ গোল করে নেইমার, লিওলেন মেসি, অ্যালেক্সিস সানচেসদের পেছনে ফেলে কাভানিই কিন্তু সর্বোচ্চ গোলদাতা। বিশ্বকাপের প্রাথমিক দল ঘোষণার আগে চায়না কাপের সেমিফাইনাল, ফাইনালে টানা গোল করেছেন চেক প্রজাতন্ত্র ও ওয়েলসের বিপক্ষে। লুই সুয়ারেস ও কাভানি জুটি যেকোনো রক্ষণের জন্যই আতঙ্ক। উরুগুয়ের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকার শীর্ষের দুটি নাম তাঁদেরই। সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার তালিকায়ও শীর্ষ পাঁচে কাভানি। পারফরম্যান্স এবং অভিজ্ঞতা দুইয়ে মিলে কাভানি এবারের আসরেরই বড় নাম।

শারীরিক শক্তি, পজিশন জ্ঞান, পা ও মাথা দুভাবেই গোল করার সক্ষমতার যোগফলে স্ট্রাইকার হিসেবে ৩১ বছর বয়সী এই উরুগুইয়ান পরিপূর্ণ এক প্যাকেজ। ২০১০-এ ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপে জার্মানির বিপক্ষে গোল করেছিলেন। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী সে ম্যাচে জার্মানি শুরুতে এগিয়ে গেলেও উরুগুয়েকে লড়াইয়ে ফেরান কাভানি। ডিয়েগো ফোরলান এরপর ২-১ ব্যবধানে এগিয়েও  নিয়েছিলেন। তবে ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলে হারতে হয়েছিল তাদের। ২০১৪ বিশ্বকাপের আগে কনফেডারেশনস কাপেও জ্বলেছিলেন কাভানি। সেমিফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে ১-১ করেছিলেন, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইতালির বিপক্ষে দুইবার সমতা ফিরিয়ে দলকে টাইব্রেকার পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছিলেন। বিশ্বকাপেও সুয়ারেসের পাশে ছিলেন দারুণ কার্যকর। এবারের আসরে মিসর, রাশিয়া, সৌদি আরবের গ্রুপে সুয়ারেস-কাভানির উরুগুয়েকেই ধরা হচ্ছে ফেভারিট। মো সালাহর মিসরের মুখোমুখি হবে উরুগুয়ে রাশিয়ায় নিজেদের প্রথম ম্যাচেই। ইনফর্ম সালাহর বিপরীতে স্পটলাইটটা নিজেদের ওপর রাখার চ্যালেঞ্জটা অবশ্য আছে সুয়ারেস বা কাভানি দুজনেরই।

কাভানিকে মনোযোগটা শুধু মাঠে রাখতে হবে। এই বিশ্বকাপের আগেও কিন্তু পরের মৌসুমে তাঁর পিএসজিতে থাকা না থাকাটাই বেশি আলোচনায়। অস্কার তাবারেজও নিশ্চয় চাইবেন দলের অন্যতম সেরা তারকা ক্লাব ফুটবলের এসব জটিলতা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে একটা মাস শুধু উরুগুয়ের জার্সিতেই মেতে থাকুন। সুয়ারেস-কাভানি মিলে এ মৌসুমে ক্লাব ও দেশের হয়ে মোট ৭৮ গোল করেছেন। বিশ্বকাপেও শুধু এ ধারাবাহিকতা ধরে রাখার অপেক্ষা। কাভানি নিজে আদর্শ মানেন গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতাকে। আর বাতিস্তুতা মানেই তো গোল। সেই মন্ত্র তাঁরও, ‘গোলের সামনে বাতিস্তুতার জুড়ি নেই, বলতে পারেন আমি তাঁকে অনুকরণ করি। আমার কাছে ফুটবল মানেই গোল।’ রাশিয়ায় সেই অসাধারণ ফুটবলই যে দেখার আশা কাভানির পায়ে।

 



মন্তব্য