kalerkantho


দুই ফুটবল মস্তিষ্কেরও লড়াই

২৬ মে, ২০১৮ ০০:০০



দুই ফুটবল মস্তিষ্কেরও লড়াই

ইউরোপ সেরা হওয়ার লড়াইয়ে দুই কোচ। ইয়ুর্গেন ক্লপের জন্য প্রথমবার সেই স্বাদ নেওয়ার সুযোগ। জিনেদিন জিদান আছেন হ্যাটট্রিকের অপেক্ষায়। একেবারেই ভিন্ন পথ ধরে আজ তারা এই সেরার লড়াইয়ে।

জিদান খেলোয়াড় হিসেবে হৃদয় জয় করেছেন আগেই। এই চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালেরই অন্যতম সেরা একটা গোল তাঁর করা। কোচ হিসেবে একই রকম যাদু দেখানোর আগে রিয়াল কাস্তিয়া এবং পরে কার্লো আনচেলোত্তির সহকারী হিসেবে নিজেকে ঝালিয়ে নিয়েছেন। সেখানে ইয়ুর্গেন ক্লপ মেইঞ্জে তাঁর অনুল্লেখযোগ্য ১০ বছরের খেলোয়াড়ী জীবন কাটিয়ে একই ক্লাবে শুরু করেন কোচিং ক্যারিয়ার। নাম ফোটে তাঁর বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের দায়িত্ব নিয়ে। তবে জিদান যেমন এলেন, দেখলেন, জয় করলেন। ক্লপের ক্ষেত্রে তা নয়, এই চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালেই হারের স্বাদ নিতে হয়েছে তাঁকে ২০১৩-তে। ২০১৬-তে ইউরোপা লিগের ফাইনালেও হার। এবার লিভারপুলের একঝাঁক দুর্দান্ত ফুটবলার নিয়ে সেই ইউরোপিয়ান আক্ষেপ ঘোচানোর মিশনে তিনি।

কোচ হিসেবে দুজনের শীর্ষে ওঠার পথটা যেমন ভিন্ন, তেমনি আচরণেও। ডাগ আউটে জিদান শান্ত, ভাবুক। ক্লপ উত্তেজিত, দুর্বীনিত। তবে খেলা বোঝা, বিশ্লেষণে দুজনের মস্তিষ্কই চলে সমান গতিতে। আজ কিয়েভের ফাইনালে রোনালদো-সালাহর লড়াইয়ের মত এই দুজনের ট্যাকটিক্যাল ব্যাটলও তাই কম উপভোগ্য হওয়ার কথা নয়। ক্লপের লিভারপুল কাউন্টার প্রেসিংয়ে ভয়ঙ্কর, জিদানের রিয়াল পজেশনাল ফুটবলে নিখুত। ফরোয়ার্ড লাইনে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর স্কোরার তাঁর বড় শক্তি। সাদিও মানে, রবার্তো ফিরমিনো ও মোহাম্মদ সালাহকে ওপরে রেখে ৪-৩-৩ ফরম্যাশনে খেলা ক্লপের লিভারপুলেরও গোল করা নিয়ে ভাবনা নেই। এই লিভারপুলকে ঠেকাতে ইসকো, ক্রুস, মডরিচ, ক্যাসেমিরোকে নিয়ে জিদান তাঁর পছন্দের ডায়মন্ড মিডফিল্ডই কি সাজাবেন? তাতে মাঝমাঠে নিজেদের প্রাধান্য থাকবে ঠিক, কিন্তু বক্সে অলরেডদের চাপ সামলানো সহজ হবে না। সেক্ষেত্রে করিম বেনজেমাকে ওপরে রেখে ৪-৩-৩ ফরম্যাশনেও তিনি যেতে পারেন।

ওদিকে ডিফেন্সে সালাহকে সামলাতে মার্সেলোকে নিয়ে নিশ্চিত ভাবনা থাকবে জিদানের। ফরোয়ার্ড লাইনে বলের জোগান দিতে ব্রাজিলিয়ান লেফটব্যাকের ওভার ল্যাপ যতটা কাজের, প্রয়োজনের সময় তাঁর জায়গায় ফেরাটাও তেমনি জরুরি। প্রিমিয়ার লিগে রেকর্ড ৩২ গোল করা সালাহ যে মুহূর্তের সুযোগ কাজে লাগাবেন, জিদান নিশ্চয় তা ভুলবেন না। শুধু সালাহই নয়, ক্লপের তিন ফরোয়ার্ড এমনকি পুরো দলই অপেক্ষায় থাকবে আসলে তেমন মুহূর্তের যা দিয়ে প্রতিপক্ষকে চূর্ণ করে ফেলা যায়। লিভারপুল, রিয়াল দুই দলকেই কোচিং করানো রাফায়েল বেনিতেজ বলেছেন জিদানের রিয়ালের সেখানে মূল শক্তি বা জবাব হলো ‘নিয়ন্ত্রণ’। এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগেই রিয়াল গোলের সুযোগ তৈরী করেছে বেশি, কিন্তু গোল করেছে বেশি লিভারপুলই। ৯ গোল হজম করেছে ক্লপের দল, রিয়ালে ১৫ গোল করা রোনালদো থাকলেও গোল হজম করা নিয়েও দুশ্চিন্তা আছে লস ব্লাংকোস কোচের। ফাইনালে ওঠার পথেই যে ১৩ গোল হজম করেছে তারা। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে শেষ ১১ ম্যাচ ক্লিন শিট রাখতে পেরেছে তারা মাত্র দুটি। দারুণ আক্রমণভাগ নিয়ে খেলা দুই দলের ডিফেন্সের পরীক্ষাটাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে তাই কিয়েভে। লড়াইটা তাই শুধু মাঠের তারকাদের নয়, দুই ফুটবল মস্তিস্কেরও। মার্কা, ইএসপিএন, এল মুন্দো



মন্তব্য