kalerkantho



স্পেনের প্রাচীর রামোস

২৬ মে, ২০১৮ ০০:০০



স্পেনের প্রাচীর রামোস

‘আমার পা জোড়া চলছিল না’—২০০৫ সালে চীনের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক প্রথম ম্যাচ খেলে এসে বলছিলেন সের্হিয়ো রামোস। ১৮ বছর বয়সে স্পেনের মতো ঐতিহ্যবাহী দলের জার্সি পরে গড়েছিলেন রেকর্ডও। এর আগের ৫০ বছরে তাঁর চেয়ে কম বয়সে স্প্যানিশ জাতীয় দলে অভিষেক হয়নি আর কারো। চীনের বিপক্ষে অভিষেক হওয়া রামোস এখন রক্ষণের ‘চীনের প্রাচীর’। জাভি, ইনিয়েস্তা, তোরেসদের সঙ্গে সোনালি প্রজন্মের অন্যতম প্রতিনিধি হয়ে রামোস স্পেনকে এনে দিয়েছেন ঐতিহাসিক ইউরো-বিশ্বকাপ-ইউরো। ৩২ বছর বয়সে কীর্তি হয়ে গেছে ১৫১ ম্যাচে মাঠে নামারও! এবারের বিশ্বকাপে স্পেনের নেতৃত্ব তাঁর কাঁধে। রামোস আছেন বলেই কোচ হুলিয়ান লোপেতেগু নির্ভার অনেকটা।

সেভিয়ার একাডেমিতে বেড়ে ওঠা রামোস ২০০৫ সালে যোগ দেন রিয়ালে। মাদ্রিদের ক্লাবটি তখন ব্রাজিলিয়ান রোনালদো, জিনেদিন জিদান, লুই ফিগো, ডেভিড বেকহামদের নিয়ে চাঁদের হাট। এর পরও কখনো হাল না ছাড়ার মানসিকতায় আলাদা নজর কেড়েছিলেন রামোস। সেই হাল ছাড়তে না চাওয়ার মানসিকতাই বড় শক্তি তাঁর। ২০১৩-১৪ মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালের কথাই ধরুন। নগর প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে ৯০ মিনিট পর্যন্ত ১-০ গোলে পিছিয়ে রিয়াল। অতিরিক্ত সময়েরও গড়িয়ে গেছে তিন মিনিট। রেফারির শেষ বাঁশির অপেক্ষায় পুরো লিসবনের দর্শকরা। তখনই কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে রামোসের নিখুঁত প্লেসিং হেড। সমতা ফেরে ম্যাচে। এই এক গোলেই উজ্জীবিত রিয়াল মাদ্রিদ অতিরিক্ত সময়ে ম্যাচটা জেতে ৪-১ ব্যবধানে।

২০১৫-১৬ মৌসুমের ফাইনালে আবারও মুখোমুখি রিয়াল-অ্যাতলেতিকো। আবারও গোল রামোসের! তাঁর ১৫ মিনিটের গোল ৭৯ মিনিটে কারেসকো ফেরালে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানেও লক্ষ্য ভেদ করে রিয়ালকে শিরোপা জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন রামোস। জাতীয় দলের হয়ে এমন শেষ মুহূর্তের নাটকীয় গোল না থাকলেও নিজের কাজটা ঠিকঠাক করে গেছেন এই সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার। ২০১০ বিশ্বকাপের কথাই ধরুন। পুরো টুর্নামেন্টে স্পেন খেলেছিল ৬৬০ মিনিট। এর ৬৪৭ মিনিটই মাঠে ছিলেন রামোস। তবে কোচ ভিসেন্তে দেল বস্কে ২০০৮ ইউরোর মতো এবারও রাইটব্যাক হিসেবে খেলান তাঁকে। বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে স্পেন সাত ম্যাচে গোল হজম করেছিল মাত্র দুটি। এর অন্যতম অবদান রামোসেরও। অকালে পৃথিবী ছাড়া সেভিয়ার আন্তোনিও পুয়ের্তার ১৫ নম্বর জার্সি পরে জোহানেসবার্গের ফাইনাল শেষে তাঁর আবেগী উদ্যাপন এখনো চোখে ভাসে অনেকের।

বিশ্বকাপের আগে ‘লা রোজা’রা জিতেছিল ২০০৮ ইউরো। সেখানেও গোলরক্ষক ইকের ক্যাসিয়াস আর রক্ষণে রামোসের দৃঢ়তা ছিল দুর্দান্ত। ২০০৮ ইউরো আর ২০১০ বিশ্বকাপের পর ২০১২ ইউরোর শিরোপাও স্পেনের। সেবার জেরার্দ পিকের সঙ্গে সেন্ট্রাল ডিফেন্সে ছিলেন রামোস। সেমিফাইনালে পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচটা স্মরণীয় হয়ে থাকবে তাঁর ক্যারিয়ারে। ক্লাব সতীর্থ ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে আটকে রাখেন পুরো ১২০ মিনিট। দুই দলের কেউ গোল না পাওয়ায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। গুরুত্বপূর্ণ চতুর্থ স্পট কিকটা ‘পানেনকা’ স্টাইলে নিয়ে লক্ষ্য ভেদ রামোসের। স্পেন জেতে ৪-২ ব্যবধানে। এরপর ফাইনালে ইতালিকে বিধ্বস্ত করে ৪-০ গোলে।

এরপর দুটি মর্যাদার টুর্নামেন্টে ব্যর্থ স্পেন। ২০১৪ বিশ্বকাপ থেকে তারা ছিটকে পড়ে গ্রুপ পর্ব থেকে। আর গত ইউরোর দ্বিতীয় রাউন্ডে ইতালির কাছে হারে। এবার সেই ব্যর্থতা পেছনে ফেলার লক্ষ্য স্পেনের, যার নেতৃত্বে রামোস। অভিযানে সফল হতে ঠাণ্ডা রাখতে হবে মাথাটাও। কারণ অল্পে মেজাজ হারিয়ে লাল কার্ড দেখার বদনাম আছে তাঁর!

 



মন্তব্য