kalerkantho


রোনালদোর পঞ্চম নাকি সালাহর প্রথম!

২৬ মে, ২০১৮ ০০:০০



রোনালদোর পঞ্চম নাকি সালাহর প্রথম!

গেল দুইবারও চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে ছিটকে পড়েছিল বার্সেলোনা। তবু বিশ্বসেরা খেলোয়াড়ের দ্বৈরথে লিওনেল মেসি ছিলেন প্রবলভাবে। ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে। রিয়াল মাদ্রিদ ইউরোপসেরা হওয়ায় বিশ্বসেরার খেতাব অবশ্য শেষ পর্যন্ত জেতেন ওই পর্তুগিজই।

এবারও রিয়াল ও রোনালদো ফাইনালে। এবারও কোয়ার্টার ফাইনালে বিদায় মেসির বার্সার। কিন্তু ব্যালন ডি’অরের লড়াইটা এখন আর শুধু এই দুজনের নয়। বিশ্বকাপের বছরে ওই আসরের পারফরম্যান্সে যেকোনো কিছু হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে রোনালদো-মেসির সঙ্গে যোগ দিয়েছেন আরেকজন। মোহামেদ সালাহ। আজ রিয়াল মাদ্রিদ-লিভারপুল চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল তো রোনালদো-সালাহর ব্যালন ডি’অরের লড়াই হিসেবেও দেখছেন অনেকে। চ্যাম্পিয়ন হলে রোনালদো জিতবেন পঞ্চম শিরোপা আর সালাহ প্রথম।

মৌসুমের শুরুটা ভালো হয়নি রোনালদোর। যে কারণে স্প্যানিশ লিগের শিরোপা লড়াই থেকে বেশ আগেই বাদ পড়ে যায় রিয়াল মাদ্রিদ। কিন্তু চ্যাম্পিয়নস লিগে রোনালদো আছেন আগের মতো। প্রথম রাউন্ডের ছয় ম্যাচের পর শেষ ষোলো ও শেষ আটের চার—এই ১০ ম্যাচেই গোল করেছেন টানা। সেমিফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে দুই ম্যাচে শুধু গোল পাননি। তবু ১৫ গোল নিয়ে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়াটা তাঁর নিশ্চিতই। আর নতুন বছরের শুরু থেকে চ্যাম্পিয়নস লিগের পাশাপাশি লিগেও ফর্ম ফিরে পাওয়ায় আজ তুমুল আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামবেন রোনালদো।

আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি থাকবে না সালাহরও। লিভারপুলে বিপ্লবী এক মৌসুম কাটাচ্ছেন তিনি। চেলসিতে ব্রাত্য হয়ে রোমায় গিয়েছিলেন, ওখানে ফর্ম ফিরে পেয়ে ফিরলেন ইংল্যান্ডে। লিভারপুলের জার্সিতে। সেখানে কী চোখ ধাঁধানো ফুটবলই না খেলছেন এই মিসরীয়! ইংল্যান্ডের বর্ষসেরার সব ধরনের পুরস্কার জেতা সারা, এখন লিভারপুলকে চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতাতে পারলে সালাহর হাতে ব্যালন ডি’অরও দেখছেন অনেকে।

লিভারপুলের আক্রমণের ত্রিফলা সালাহ-ফিরমিনো-মানে মৌসুমে করেছেন ৯০ গোল। এর মধ্যে মিসরীয় ফরোয়ার্ডের প্রায় অর্ধেক—৪৪ গোল। চ্যাম্পিয়নস লিগে তিনজনে অবশ্য অত পার্থক্য নেই। ফাইনালের আগে সেটি মনে করিয়ে দিয়েছেন সালাহ, ‘কে গোল করল, তা নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই। ম্যাচ জেতা, পয়েন্ট পাওয়াই হচ্ছে আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। চ্যাম্পিয়নস লিগে দেখুন, আমি ১০ গোল করেছি, মানে ৯, ফিরমিনো ১০। তিনজনের গোলসংখ্যা প্রায় সমান। আমাদের মধ্যে কেউ স্বার্থপর নই। গোল করার জন্য একজন আরেকজনকে সাহায্য করি বরং।’ নিজেকে মেসি-রোনালদোর সমপর্যায়ের এখনই ভাবছেন না। ব্যালন ডি’অরও ভাবনায় নেই। বরং নিজের ফর্ম ধরে রাখার দিকে মনোযোগ সালাহর, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে পরের মৌসুমেও এই ফর্ম ধরে রাখা। তা করার সামর্থ্য আমার রয়েছে। রোমায় দুই মৌসুম ছিলাম, দুর্দান্ত সময় কাটিয়েছি ওখানে। সবাই বলছিল রোমায় থেকে যেতে। কিন্তু আমি চেয়েছি ইংল্যান্ডে এসে সফল হতে।’

ইংল্যান্ডে তিনি সফল হয়েছেন। এখন চ্যাম্পিয়নস লিগে চূড়ান্ত সাফল্যের অপেক্ষা। অভিজ্ঞতায় রিয়াল মাদ্রিদকে এগিয়ে রাখলেও লিভারপুল যে ছেড়ে কথা বলবে না, সেটি মনে করিয়ে দিতে ভোলেননি সালাহ, ‘গত চার বছরের মধ্যে ওরা তিনবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছে। এ কারণে অভিজ্ঞতায় রিয়াল মাদ্রিদ বেশ এগিয়ে। তবে কিয়েভের ফাইনাল তো এক ম্যাচের। আমাদের তাই মনোযোগ ধরে রাখতে হবে আর অতীত ভাবা চলবে না। আর মাঠে যখন নামব, তখন লড়াইটা ১১ জনের বিপক্ষে ১১ জনেরই।’

লড়াইটা একজনের বিপক্ষে একজনেরও বটে। রোনালদো বনাম সালাহর। হয়তো ব্যালন ডি’অরেরও। এএফপি, মার্কা


মন্তব্য