kalerkantho


নাটকের ফাঁকে খেলায় জয়ী মোহামেডান

২৪ মে, ২০১৮ ০০:০০



নাটকের ফাঁকে খেলায় জয়ী মোহামেডান

ক্রীড়া প্রতিবেদেক : বাংলাদেশের হকি খেলা এক তামাশা। বড় দুই দলের খেলা আর খেলা থাকে না। খেলার চেয়ে ধুলা বেশি। অর্থাৎ মাঠের নাটক-তামাশাই প্রধান, তার ফাঁকে ফাঁকেই হয় হকি। তাই ৭০ মিনিটের মেরিনার্স-মোহামেডান ম্যাচ শেষ হতে সময় লাগে দুই ঘণ্টারও বেশি। এর পরও যে শেষ হয়েছে, এটাই ভাগ্যের। আর ম্যাচভাগ্যও গত ম্যাচে আবাহনীকে হারানো মোহামেডানের পক্ষে। কাল চ্যাম্পিয়ন মেরিনার্সকে ৩-১ গোলে হারিয়ে তারা গ্রিন ডেল্টা হকি লিগে ৩০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে।

মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে কাল প্রথমার্ধটা মোটামুটি নিষ্কণ্টকই ছিল। তখন পর্যন্ত মাঠের খেলায় মোহামেডানের দাপট থাকলেও শেষ মুহূর্তে লিড নেয় মেরিনার্স। ৫ মিনিটে সাদা-কালো এগিয়ে যেতে পারত রাব্বির রিভার্স হিটে, সেটি মেরিনার্সের পোস্ট ঘেঁষে যায় বাইরে। মিনিট তিনেক বাদেই তাদের দেশি তারকা রাসেল মাহমুদ ও ভারতীয় ফরোয়ার্ড গুরজিন্দারের স্টিকে দারুণ এক মুভের জন্ম হয়। পোস্টে হিট করার আগেই মেরিনার্স গোলরক্ষক অসীম গোপ ভারতীয়কে ফাউল করায় বিদেশি আম্পায়ার পেনাল্টি স্ট্রোকের বাঁশি বাজান। কিন্তু পরক্ষণেই সেই গোলরক্ষক অরবিন্দরের স্ট্রোক আটকে দিয়ে ম্যাচে রাখেন মেরিনার্সকে। ২২ মিনিটে মোহামেডান গোলরক্ষক জাহিদও দুর্দান্ত এক পেনাল্টি কর্নারের হিট ঠেকিয়েছেন। মেরিনার্সের দেখার মতো মুভটি হয়েছে ৩৫ মিনিটে। পুষ্করের ডান দিক থেকে বাড়ানো বলে হাসান যোবায়ের ফ্লিক করে সাদা-কালোর জালে পৌঁছে দিয়ে এগিয়ে নেন মেরিনার্সকে।

বিরতির পরও দাপট মোহামেডানের এবং রিভিউ-পাল্টা রিভিউয়ে খেলা বন্ধ দফায় দফায়। এর মধ্যেও তারা আতঙ্ক ছড়িয়ে যায় মেরিনার্সের ডিফেন্সে। ৪২ মিনিট থেকেই গোল যেন ঘুরপাক খাচ্ছিল, টানা তিন পেনাল্টি কর্নারের তৃতীয়টি কাজে লাগিয়ে গুরজিন্দার ম্যাচে ফেরান মোহামেডানকে। ৫২ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ আসে মেরিনার্সের সামনে বিদেশি আম্পায়ারের পেনাল্টি স্ট্রোকের বাঁশিতে। কিন্তু মোহামেডান চায় রিভিউ। এ নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক-নাটক, মাঠের ঠিক বাইরে ভিডিও আম্পায়ারের সামনে শুরু হয় কর্মকর্তাদের ওজর-আপত্তি। সেই পেনাল্টি স্ট্রোক বাতিল হয়ে খেলা শুরু হওয়ার মিনিট পাঁচেক পরেই আবার বন্ধ হয়ে যায় খেলা। এবার নাকি ভিডিও আম্পায়ারের নির্দেশে বন্ধ। জানা গেছে, তার আগের সিদ্ধান্ত নাকি ভুল ছিল। সুবাদে আবার বিতর্ক এবং সময় ক্ষেপণ। এদিকে মাঠের দুই বিদেশি আম্পায়ারও হাসতে থাকেন। 

মিনিট দশেক পর হাসি থামিয়ে আবার খেলা শুরু করেন তাঁরা। এরপর অরবিন্দারের স্টিকে নৈপুণ্যে সাদা-কালোর মেরিনার্স জয় সম্পন্ন হয়। দুটি পিসি থেকেই করেন দুই গোল।



মন্তব্য