kalerkantho


তিন সিংহের নেতা হ্যারি কেইন

২৪ মে, ২০১৮ ০০:০০



তিন সিংহের নেতা হ্যারি কেইন

শনিবার রাতে যদি লিভারপুল কিয়েভে হারিয়ে দেয় রিয়াল মাদ্রিদকে, তাহলে কি সিদ্ধান্তটা বদলাবেন গ্যারেথ সাউথগেট? ইউরোপ সেরা আসরের অধিনায়ক জর্ডান হেন্ডারসনকে দলে রেখে আর্মব্যান্ডটা তুলে রাখবেন হ্যারি কেইনের জন্য! ইংল্যান্ডের বাঘা ফুটবল লিখিয়েরা এমনটাই অনুমান করেছিলেন এবং হয়েছেও তা-ই। কয়েক সপ্তাহ আগেই হ্যারি কেইনকে রাশিয়া বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের দলনেতা করার কথা জানিয়েছিলেন কোচ গ্যারেথ সাউথগেট। মঙ্গলবার চূড়ান্ত করেছেন, তিন সিংহের নেতা হবেন কেইনই।

দিনকয়েক আগেই রাজকীয় বিয়ে সারলেন প্রিন্স চার্লস আর ডায়ানার দ্বিতীয় পুত্র প্রিন্স হ্যারি। বাহামায় অবকাশ যাপন করা হ্যারি কেইন ভোরবেলায় উঠে নাকি সেই বিয়ের সরাসরি সম্প্রচার দেখেছেন! ব্রিটিশ ঐতিহ্য নিয়ে এমনই তাঁর টান। সে জন্য তাঁকেই তো ‘প্রিন্স হ্যারি’ বানিয়ে দিয়েছে ডেইলি এক্সপ্রেস। টটেনহামের এই স্ট্রাইকার নাকি বলেছেন, রাজকীয় বিয়ে যেমন গোটা দেশের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল, তেমনি ইংল্যান্ড দলকেও তিনি নিয়ে যেতে চান সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে। গত বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বেই বিদায় নেওয়া আর ইউরোতে আইসল্যান্ডের কাছে হেরে বাড়ির পথ ধরা ইংল্যান্ড সারা বছর প্রিমিয়ার লিগে বুঁদ হয়ে থাকলেও জাতীয় দলের অবস্থা করুণ। বর্তমান ঝাপসা হলেও ঝলমলে অতীতে ভর করেই কেইন জোরাল গলায় বলছেন, ‘শিরোপার স্বপ্ন দেখাটা অসম্ভব নয়। এটাই তো বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতা।’

বসে বসে হুংকার দিয়ে যে লাভ হবে না, সেটা ভালোই জানেন টটেনহামের এই ফরোয়ার্ড। তিনি আসলে জোর দিচ্ছেন দলের মানসিকতা বদলে, ‘আমার বিশ্বাস, কাপটা আমরা জিততে পারি। যে কেউই জিততে পারে। এমন নয় যে আমি এখানে বসে বলে দিলাম যে আমরা জিততে পারি, এটা মানসিকতার ব্যাপার। আমি যা-ই করি, জেতার মানসিকতা নিয়েই করি। আমি নিশ্চিত, সবাই বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্ন দেখে এবং আমাদের সামনে সেই সুযোগটা এসেছে।’ ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দল লিভারপুল পৌঁছে গেছে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে। অলরেডদের দেখেই আশার আলো খুঁজছেন কেইন, ‘জানি আমরা ফেভারিট নই, কিন্তু মৌসুমটার দিকে একবার তাকান। কে ভেবেছিল লিভারপুল চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে খেলবে! স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন তরুণ একটা দল নিয়ে বছরের পর বছর প্রিমিয়ার লিগে দাপট দেখিয়েছেন।’ কেইনের দলটা তারুণ্যনির্ভর বলে যাঁরা ফোকর খুঁজছেন তাঁদের উদ্দেশে কেইনের যুক্তি, ‘তরুণ হওয়াটা কোনো অজুহাত হতে পারে না। এটা বরং ইতিবাচকভাবেই দেখা যেতে পারে। আমাদের বিশ্বাস আছে যে আমরা পারব আর সেটাই করার চেষ্টা করব। অন্য কোনো অজুহাত চলবে না।’

ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ শুরু হবে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। এরপর গ্রুপে তারা খেলবে পানামা ও বেলজিয়ামের বিপক্ষে। বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম অধিনায়ক করা হয়েছিল কেইনকে। সেই ম্যাচে শেষ সময়ে, ৯৩তম মিনিটে গোল করে দলের হার ঠেকিয়েছিলেন কেইন। বাছাই পর্বে উয়েফার ‘এফ’ অঞ্চলে ৫ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছিলেন এই ফরোয়ার্ডই। বিশ্বকাপে তাই তাঁকেই নেতা বেছেছেন সাউথগেট। নেতৃত্ব পেয়ে কেইনের অভিব্যক্তি, ‘আমার জন্য বিশাল একটা প্রাপ্তির দিন। যেন স্বপ্ন সত্যি হলো। এটা অবশ্য আমি সপ্তাহখানেক আগেই আঁচ করতে পেরেছিলাম। আমাদের ঘণ্টাখানেক আলাপ হয় এবং তখনই সে জানায় যে আমাকেই অধিনায়ক করতে চায়।’ কেইন দলে পাবেন সাবেক দুই অধিনায়ক এরিক ডায়ার ও জর্ডান হেন্ডারসনকে। দলের নেতা হিসেবে খুব বেশি পরিবর্তনের পক্ষপাতী নন কেইন, ‘আমি খুব বেশি পরিবর্তনের পক্ষপাতী নই। আমি এমন একজন যে কিনা মাঠে উদাহরণ তৈরি করে নেতৃত্ব দিতে পছন্দ করে। আমি সেটাই করার চেষ্টা করব।’ কেইনকে অধিনায়ক করার ব্যাপারে সাউথগেটের অভিমত, ‘হ্যারির কিছু অসাধারণ ব্যক্তিগত গুণাবলি আছে। অধিনায়কের একটা বড় গুণ হচ্ছে সে নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে দলের একটা মান বেঁধে দিয়েছে।’ মেইল অনলাইন



মন্তব্য