kalerkantho


হঠাৎ বিদায় ডি ভিলিয়ার্সের

২৪ মে, ২০১৮ ০০:০০



হঠাৎ বিদায় ডি ভিলিয়ার্সের

তেল ফুরিয়েছে দেহগাড়ির। তাই চলছে না আর এবি ডি ভিলিয়ার্সের শরীর। তিন ধরনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ঘরোয়া ক্রিকেট, ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের ধকল বইতে বইতে ক্লান্ত দক্ষিণ আফ্রিকার এই মারকুটে ব্যাটসম্যান। বুধবার টুইটারে এক ভিডিওবার্তার মাধ্যমে সব ধরনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকেই অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন ডি ভিলিয়ার্স। সেই সঙ্গে বিদায় বলে দিয়েছেন ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটকেও। শুধু দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া ক্রিকেটে টাইটানসের হয়ে কিছুদিন খেলবেন। সাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, খেলার মাঠে আর চলছে না তাঁর দেহঘড়ি; কারণ তেল ফুরিয়েছে।

‘আমি ক্লান্ত’ নিজের অবসরের ঘোষণা দেওয়ার ভিডিওতে ডি ভিলিয়ার্সের উচ্চারিত প্রথম দুটি শব্দ। একে একে বলেছেন, ‘আমি সব রকম আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিচ্ছি যা তাত্ক্ষণিকভাবেই কার্যকর হবে। ১১৪ টেস্ট, ২২৮ ওয়ানডে ও ৭৮টি টি-টোয়েন্টি খেলার পর আমার মনে হয়েছে, এবার অন্য কেউ হাল ধরুক। আমি আমার সময়টা পার করে এসেছি, সত্যি বললে আমি এখন ক্লান্ত।’ দক্ষিণ আফ্রিকার  ‘র‌্যাপোর্ট’ পত্রিকার খবরে আভাস ছিল, সব ধরনের ক্রিকেট হয়তো আর নাও খেলতে পারেন ডি ভিলিয়ার্স। সরে দাঁড়াতে পারেন কোনো একটি বা দুটি ফরম্যাট থেকে। সেটা যে সব ধরনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকেই অবসর, সেটা টের পাননি অনেকেই। আইপিএলে তাঁর দল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু জায়গা করে নিতে পারেনি প্লে-অফে। শেষ ম্যাচে ৩৫ বলে ৫৩ রানের ইনিংস খেলে যাওয়া ডি ভিলিয়ার্স বোধ হয় আইপিএলও খেলবেন না আর, ‘এটা বেশি টাকার জন্য দেশের হয়ে খেলা ছাড়ার বিষয় নয়। আসলে আমার দেহগাড়ির তেল ফুরিয়ে এসেছে আর আমার কাছে মনে হয়েছে ছেড়ে যাওয়ার এখনই সময়। সব কিছুরই একটা শেষ আছে। দক্ষিণ আফ্রিকা ও গোটা বিশ্বেরক্রিকেট ভক্তদের বলতে চাই, আপনাদের উদারতা ও মহত্ত্বের জন্য ধন্যবাদ। আরো একবার ধন্যবাদ জানাই আপনাদের বোধশক্তিকে।’ দেশের বাইরেও ক্রিকেট খেলতে যেতে অপারগতাই জানিয়েছেন ডি ভিলিয়ার্স, তাতেই আরো স্পষ্ট হয়েছে যে আইপিএলেও তাঁর শেষ দেখে ফেলেছেন দর্শকরা, ‘আমার বিদেশে খেলার কোনো সম্ভাবনা নেই। আসলে আমি আশা করছি ঘরোয়া ক্রিকেটে আমাকে টাইটানসের হয়ে খেলতে যোগ্য বলে বিবেচনা করা হবে।’ খেলা ছাড়লেও প্রোটিয়াদের সমর্থন করে যাবেন বলেই আশাবাদ ডি ভিলিয়ার্সের, ‘আমি সব সময়ই ফাফ দু প্লেসিস ও তার দলের সবচেয়ে বড় ভক্ত হয়েই থাকব। কখন কবে কোথায় প্রোটিয়াদের হয়ে খেলব, সেটা আমার নিজেরই ঠিক করাটা উচিত হবে না। আমি মনে করি হয় খেলব, অথবা খেলব না। আমি দক্ষিণ আফ্রিকা দলের কোচদের কাছে কৃতজ্ঞ। পাশে থাকার জন্য সব সতীর্থদের ধন্যবাদ, তারা সহায়তা না করলে আজকের এই আমি আমার অর্ধেক মানের ক্রিকেটারও হতে পারতাম না।’

ডি ভিলিয়ার্সের দেহগাড়িটা মাঝে মাঝেই লম্বা বিরতি নিচ্ছিল। চোট জং ধরিয়ে দিয়েছিল কলকব্জায়। দূরপাল্লার ছোটাছুটি ক্রমশ কমে আসছিল ডি ভিলিয়ার্সের। তাই ভেবেছেন, একেবারে বসে পড়ার আগেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর কথা, ‘খুবই কঠিন একটা সিদ্ধান্ত। আমি অনেকবার ব্যাপারটা নিয়ে ভেবেছি। আমি চেয়েছিলাম এমন একটা সময়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিতে, যাতে এর পরও বেশ খানিকটা সময় ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলা যায়। ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দারুণ দুটি সিরিজ জয়ের পর মনে হয়েছে, এটাই সেই সঠিক সময়।’ এভাবেই তাই ব্যাট-প্যাড গুছিয়ে রেখে দিলেন ডি ভিলিয়ার্স। ক্রিকেট খেলতে দেশ-বিদেশ ছোটা, হোটেল থেকে হোটেলে, শহর থেকে শহরে আর নয়। ২০০৪ সালে, পোর্ট এলিজাবেথে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট দিয়ে যে যাত্রা শুরু করেছিলেন আব্রাহাম বেনজামিন ডি ভিলিয়ার্স, ২০১৮ সালে এসে সেই রেলগাড়ি ভিড়ল শেষ স্টেশনে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে জোহানেসবার্গের টেস্টটাই দক্ষিণ আফ্রিকা দলে ডি ভিলিয়ার্সের শেষ ম্যাচ হয়ে রইল। শেষ ইনিংসটা ৬ রানের। উইকেটের পেছনে টিম পাইনের হাতে ক্যাচ দিয়েছিলেন প্যাট কামিন্সের বলে।

তিন ফরম্যাটের ক্রিকেট মিলিয়ে ৩২৮টি ছক্কা। মিলেনিয়াম যুগের ক্রিকেটে শ্রেষ্ঠ বিনোদনদায়ী ব্যাটসম্যানদের একজন। ছোটবেলায় রাগবি, গলফ ও টেনিসে ভালো ছিলেন। প্রাদেশিক রাগবি দলে ছিলেন ফ্লাই হাফ, ১৩ বছর বয়সে টেনিসে ফ্লোরিডায় নিক বোলেত্তেরির অ্যাকাডেমিতে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল; যেখান থেকে উঠে এসেছেন মারিয়া শারাপোভা ও আন্দ্রে আগাসীর মতো চ্যাম্পিয়ন। বাবার পথ ধরে ডাক্তারও হতে পারতেন, স্কুল ফাইনালের ফল ভালোই ছিল। কিন্তু সব বাদ দিয়ে এলেন ক্রিকেটে। এসেছিলেন বলেই তো যাওয়ার আগে রাঙিয়ে দিয়ে গেলেন!



মন্তব্য