kalerkantho


মুখোমুখি প্রতিদিন

সবাই বলেছে, খেলোয়াড়রা অতি মূল্যায়িত হচ্ছে

২৩ মে, ২০১৮ ০০:০০



সবাই বলেছে, খেলোয়াড়রা অতি মূল্যায়িত হচ্ছে

ফুটবলারদের দলবদলের বাজার চড়া। এই প্রেক্ষাপটে গত পরশু বাফুফের পেশাদার লিগ কমিটির সভায় প্রথমবারের মতো ক্লাবগুলো এটাকে বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে একটা পথ বের করার উদ্যোগ নিয়েছে। এ নিয়েই কালের কণ্ঠ স্পোর্টসের মুখোমুখি হয়েছেন সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসির উদ্দিন চৌধুরী

কালের কণ্ঠ স্পোর্টস : বাফুফের লিগ কমিটির সভায় ক্লাবগুলো ‘প্লেয়ার বাই চয়েসে’র দাবি তুলেছে বলে জানা গেছে। এটা কেন ?

নাসির উদ্দিন চৌধুরী : প্রায় সব ক্লাবই এ দাবি তুলেছে। আবাহনীকেও সরব দেখেছি। এর পেছনে আমাদের সবার যুক্তি ছিল, খেলোয়াড়রা অতি মূল্যায়িত হয়ে যাচ্ছে। তাদের পারিশ্রমিকের সঙ্গে পারফরম্যান্সের মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। খেলোয়াড়দের যে রকম দাবি, তাতে করে ক্লাবগুলো দলবদলে চাপে পড়ে যাচ্ছে। মুক্তির পথ হিসেবে একটা মৌসুম বাদে ফুটবলারদের কয়েকটা গ্রেডে ভাগ করে দাম নির্ধারণ করে দেওয়া যায় কি না, তাই নিয়ে আলোচনা হয়েছে সভায়।

প্রশ্ন : এটা কী করা সম্ভব?

নাসির উদ্দিন : এটা আসলে ক্লাবগুলোর মধ্যকার পারস্পরিক বিশ্বস্ততার ব্যাপার। সব কিছু নির্ভর করছে আমাদের ক্লাবগুলোর ওপর।

প্রশ্ন : খেলোয়াড় সংকটের কারণেই কী দাম বাড়ছে?

নাসির উদ্দিন : দেশের ফুটবলে এখন মানসম্পন্ন খেলোয়াড়ের সংকট চলছে। জেলাগুলো থেকে আগের মতো অনেক ফুটবলারের সরবরাহ নেই। নেই আমাদের ফুটবলার তৈরির কালচারও। অথচ বড় দলের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তাই ভালো ফুটবলারের সংকটটা স্পষ্টভাবে চোখে পড়ছে।

প্রশ্ন : কয়েকটি ক্লাব ইয়ুথ ফুটবল ডেভেলপমেন্টে মনোযোগী হয়েছে...

নাসির উদ্দিন : অনেক খারাপের মধ্যে এটা ইতিবাচক দিক। বসুন্ধরা কিংস, শেখ জামাল ও সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব বয়সভিত্তিক ফুটবলারদের নিয়ে কাজ করছে। এই কাজ তিন-চার বছর চালু থাকলে অনেক প্রশিক্ষিত ফুটবলার দেখা যাবে। শেখ জামাল অনূর্ধ্ব-১৮ দল নিয়ে শেখ জামালের উদ্যোগ দেখে আমার খুব ভালো লেগেছে। পুরো বিদেশি কোচিং স্টাফ দিয়ে তারা দলটাকে তৈরি করছে। খেলোয়াড়দের ১০ হাজার টাকা করে বেতন দিচ্ছে। প্রিমিয়ারের অন্য বড় দলগুলো এভাবে খেলোয়াড় তৈরিতে মনোযোগী হলে আমাদের সংকট অনেকখানি দূর হয়।

প্রশ্ন : এ দেশে এখনো পর্যন্ত ওই মানের কোনো ফুটবল একাডেমি তৈরি হয়নি...।

নাসির উদ্দিন : এটাই বাস্তবতা। আধুনিক ফুটবলের অনেক কিছুই আমাদের নেই। ফুটবল ফেডারেশনের দিকে চেয়ে থেকে লাভ নেই, ক্লাবগুলো আন্তরিক হয়ে ইয়ুথ লেভেলপমেন্টে মনোযোগী হলেই এগোনোর রাস্তা তৈরি হয়ে যাবে। আমার তো মনে হয় যে তিনটি ক্লাব আপাতত বয়সভিত্তিক দল নিয়ে কাজ করছে, তারা নিজেদের মধ্যে ম্যাচ খেলতে পারে। কিশোরদের ম্যাচ বলে সেখানে ইগো কিংবা ইজ্জত যাওয়ার ভয়ও থাকবে না।


মন্তব্য