kalerkantho


গ্রিয়েজমানকে ঘিরে ফ্রান্সের স্বপ্ন

২৩ মে, ২০১৮ ০০:০০



গ্রিয়েজমানকে ঘিরে ফ্রান্সের স্বপ্ন

রিয়াল সোসিয়েদাদ ও রিয়াল মাদ্রিদের ম্যাচে খেলছিলেন জিনেদিন জিদান। ১৩ বছর বয়সে সোসিয়েদাদের একাডেমিতে যোগ দেওয়া আন্তোয়ান গ্রিয়েজমান ছিলেন সেই ম্যাচের বল বয়। ম্যাচ শেষে নিজের ফরাসি পরিচয় জানিয়ে জিদানের কাছে চেয়েছিলেন জার্সিটা। এর আগেই একজনের সঙ্গে জার্সি বদল করা জিদান হতাশ গ্রিয়েজমানকে ডেকে নিয়ে দিয়ে দেন নিজের শর্টস। আর মাথায় হাত বুলিয়ে বলেন, ‘অনেক বড় হও।’

সেদিনের সেই কিশোর এখন ফরাসি দলের তুখোড় ‘মার্কসম্যান’। এতটাই ধারালো হয়ে উঠেছেন যে ১৯৯৮ সালে জিদানের পর গ্রিয়েজমানকে ঘিরে এবার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে ফ্রান্স। বিশ্বকাপের আগে আছেন দুর্দান্ত ছন্দেও। অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদকে লা লিগায় করিয়েছেন রানার্স আপ। এনে দিয়েছেন তৃতীয় ইউরোপা লিগ শিরোপাও। ফাইনালে তাঁরই দেশের ক্লাব অলিম্পিক মার্শেইয়ের বিপক্ষে জোড়া গোল এই ফরোয়ার্ডের। তাঁকে পেতে তাই মরিয়া বার্সেলোনার মতো ক্লাবও। সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসি পর্যন্ত লা লিগায় নিজেদের শেষ ম্যাচ জয়ের পর বলেছিলেন, ‘আমি অবশ্যই গ্রিয়েজমানকে পছন্দ করি। এখন ও অন্যতম সেরাদের একজন। ’

গ্রিয়েজমানের বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা আরো বেড়েছে তাতে। তবে ১২৫ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাব পেয়েও তাঁকে ছাড়তে চায় না অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ। প্রাণ ভোমরার দাম কি টাকার অঙ্কে হয়? গ্রিয়েজমান শুধু অ্যাতলেতিকোরই নন, ফ্রান্সের আক্রমণ ভাগেরও নিউক্লিয়াস। ২০১৪ বিশ্বকাপে গোলের দেখা না পাওয়া এই ফরোয়ার্ডকে ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে দিদিয়ের দেশমের দলের বিশ্বকাপ স্বপ্ন।

বড় মঞ্চে বরাবরই উজ্জ্বল গ্রিয়েজমান। গত ইউরোর কথা ধরুন। নিজেদের দেশে হওয়া টুর্নামেন্টে ফ্রান্স ফাইনালে পৌঁছে তাঁর কাঁধে ভর দিয়ে। ফ্রান্স ফাইনালে হেরেছে, তবে ছয় গোল করে গ্রিয়েজমান জিতেছেন টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা আর সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার।

শেষ ষোলোর ম্যাচে দ্বিতীয় মিনিটে গোল হজম করে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েছিল ফ্রান্স। তবে গ্রিয়েজমানের জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে জেতে স্বাগতিকরা। কোয়ার্টার ফাইনালে আইসল্যান্ডকে নিয়ে ছেলেখেলার ম্যাচেও লক্ষ্যভেদ একবার। সেমিফাইনালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির বিপক্ষে আবারও জোড়া গোল গ্রিয়েজমানের। শেষ পর্যন্ত ফাইনালে পর্তুগালের কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ ফ্রান্সের। এই হারেও উৎসব হয়েছে গ্রিয়েজমানের নানার বাড়িতে! কারণ তাঁর নানা আমারো লোপেসের বাড়ি পর্তুগালে। অবসরে সেখানে সময় কাটাতে যান গ্রিয়েজমানও।

বিখ্যাত ফরাসি লেখক আঁতোয়ান দ্য সাঁত জুপেরির বিখ্যাত একটা উক্তি আরবি ভাষায় ডান হাতে উল্কি করিয়েছেন গ্রিয়েজমান। যার বাংলা অর্থ ‘জীবনটাকে স্বপ্ন বানিয়ে ফেলো আর স্বপ্নকে বাস্তব।’ সেই স্বপ্নই একে একে বাস্তবে রূপান্তরিত করে চলছেন গ্রিয়েজমান। রিয়াল সোসিয়েদাদে ছিলেন উইঙ্গার। কিন্তু স্বপ্ন ছিল স্ট্রাইকার হওয়ার। অ্যাতলেতিকো কোচ ডিয়েগো সিমিওনি উইঙ্গার থেকে স্ট্রাইকার হিসেবেই খেলিয়েছেন তাঁকে। রাদামেল ফ্যালকাও, সের্হিয়ো আগুয়েরো, ডিয়েগো কস্তাদের উত্তরসূরি আলো ছড়িয়েছেন ঠিকই। ২০১৫-১৬ মৌসুমে অ্যাতলেতিকোকে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে তোলার নায়ক তিনি। ২০১৬ সালে মেসি, রোনালদোকে পেছনে ফেলে হয়েছিলেন লা লিগার সেরা খেলোয়াড়। তবে সেরা তিনে থেকেও ভোটাভুটিতে পিছিয়ে জেতা হয়নি ব্যালন ডি’অর। এবারের বিশ্বকাপে আরো একবার সুযোগ মেসি-রোনালদোদের ম্লান করার। পারবেন তো গ্রিয়েজমান?

 


মন্তব্য