kalerkantho


জ্বলে ওঠা মেসি-আগুয়েরো জুটি চায় আর্জেন্টিনা

২২ মে, ২০১৮ ০০:০০



জ্বলে ওঠা মেসি-আগুয়েরো জুটি চায় আর্জেন্টিনা

আর্জেন্টাইন ফুটবলে ‘নতুন ম্যারাডোনা’র কমতি নেই। সের্হিয়ো আগুয়েরোর আবির্ভাবটা আবার ম্যারাডোনার রেকর্ড ভেঙেই। ১৯৭৬ সালে সবচেয়ে কম বয়সে আর্জেন্টাইন প্রিমিয়ার লিগে অভিষেক ম্যারাডোনার। ২০০৩ সালে ইন্দিপেন্দেইন্তের জার্সিতে আগুয়েরো সেই রেকর্ডটা ভাঙেন ১৫ বছর ৩৫ দিন বয়সে। ১৫ বছরের ক্যারিয়ারে রেকর্ডের পাতাগুলো ওলটপালট করেছেন আরো কয়েকটা। ২০০৫ অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ৬ গোল করে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জিতিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। ২০০৭ সালে সর্বোচ্চ ৬ গোল করে টানা দ্বিতীয় শিরোপা জেতান আগুয়েরো। এর পরও প্রিয় বন্ধু মেসির ছায়ায় ঢাকা পড়ে থেকেছেন ক্যারিয়ারজুড়ে। পাঁচ পাঁচটি ব্যালন ডি’অর জিতে মেসি যেখানে সর্বকালের সেরা ফুটবলার হওয়ার দাবিদার, সেখানে প্রায় একই সময়ে ক্যারিয়ার শুরু করা আগুয়েরোর নাম নেওয়া হয় আর দশজন স্ট্রাইকারের মতো।

মাঠ বা মাঠের বাইরে মেসির সঙ্গে আগুয়েরোর রসায়নটা দারুণ। গত বছর দুজন সর্বশেষ একসঙ্গে খেলেছেন রাশিয়ার বিপক্ষে। ৮৬ মিনিটে মেসির পাস থেকে আগুয়েরোর একমাত্র গোলেই জয় পায় আর্জেন্টিনা। মেসি-আগুয়েরো জুটির দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ভীষণ খুশি ছিলেন কোচ হোর্হে সাম্পাওলি। মেসি-দিবালা জুটি ব্যর্থ হলেও আগুয়েরোর সঙ্গে দলের প্রাণভোমরার বোঝাপড়ায় বলেছিলেন, ‘মাঠে মেসি-আগুয়েরোর দারুণ যোগাযোগ ছিল। এটাই খুঁজছিলাম আমরা।’

খুঁজতে হবে বিশ্বকাপে গোল করার পথও। কারণ আর্জেন্টিনার হয়ে তৃতীয় সর্বোচ্চ ৩৬ গোল করলেও এর একটাও বিশ্বকাপে পাননি আগুয়েরো। ২০১০ সালে দুই ম্যাচ আর ২০১৪ বিশ্বকাপে পাঁচ ম্যাচ খেলেও গোল না পাওয়াটা তাঁর মানের স্ট্রাইকারের জন্য বড় ব্যর্থতা।

রাশিয়ার পর আর্জেন্টিনা পরের প্রীতি ম্যাচ খেলতে নামে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে। আগুয়েরো টানা দ্বিতীয় ম্যাচে গোল করেছিলেন আবারও। অথচ এই স্ট্রাইকারই ছন্দ হারিয়ে ২০১৬-র জুন মাস থেকে জাতীয় দলের জার্সিতে ছিলেন গোলহীন। সাম্পাওলির আগে দায়িত্বে থাকা কোচ এদগার্দো বাউসা বাদও দিয়েছিলেন এ জন্য। আগুয়েরোর গোলের পরও মেসিহীন বিবর্ণ আর্জেন্টিনা নাইজেরিয়ার কাছে হেরে বসে ২-৪ ব্যবধানে! এর পর থেকে চোটের জন্য দলের বাইরে তিনি। মেসি-আগুয়েরো ছাড়া আর্জেন্টিনা আবারও বিধ্বস্ত হয় স্পেনের বিপক্ষে।

আর্জেন্টাইন সমর্থকদের জন্য স্বস্তির খবর, বিশ্বকাপের আগে মেসির মতো পুরো ফিট আগুয়েরোও। ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে চোটের জন্য শেষ কয়েকটি ম্যাচ খেলতে পারেননি তিনি। তবে সিটির রেকর্ড ১০০ পয়েন্টের অভিযানে রেখেছিলেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। চোটজর্জরিত প্রিমিয়ার লিগ মৌসুমে ২১ ম্যাচ খেলে করেছেন ২১ গোল, অ্যাসিস্ট ছয়টি। প্রিমিয়ার লিগে এবার তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলের কীর্তি এটাই আর ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে সর্বোচ্চ। মৌসুমজুড়ে ৩৩ ম্যাচ খেলে সিটিজেনদের হয়ে দ্বিতীয় সেরা ১৮ গোল রহিম স্টার্লিংয়ের। চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে সিটির বিদায়ের পর হাঁটুতে অস্ত্রোপচার করিয়েছেন আগুয়েরো। সেটা বিশ্বকাপ মাথায় রেখেই। সফল অস্ত্রোপচারের পর আগুয়েরোর মনে হয়েছে, ‘২০১৩ সাল থেকে হাঁটুর সমস্যায় ভুগছিলাম। এখন ব্যথা নেই মোটেও। মনে হচ্ছে নতুন হাঁটুতে হাঁটছি!’

ডিয়েগো ম্যারাডোনার মেয়ে জিয়ান্নাকে বিয়ে করেছিলেন আগুয়েরো। খ্রিস্টান ধর্মমতে এই দম্পতির সন্তান বেঞ্জামিনের ধর্মপিতা (গডফাদার) মেসি। জিয়ান্নার সঙ্গে জুটিটা ভাঙলেও বন্ধু মেসির সঙ্গে আগের মতোই উষ্ণ সম্পর্ক তাঁর। এই জুটির ওপর নির্ভর করছে রাশিয়ায় আর্জেন্টিনার ভাগ্যও। ফিফা ডটকম

 



মন্তব্য