kalerkantho


সবার আগে খেলোয়াড়দের ডাকলেন কারস্টেন

২২ মে, ২০১৮ ০০:০০



সবার আগে খেলোয়াড়দের ডাকলেন কারস্টেন

ক্রীড়া প্রতিবেদক : পরামর্শক গ্যারি কারস্টেনের ভূমিকাটা আপাতত নিরীক্ষকের। গত পরশু রাতে ঢাকায় নামা এই দক্ষিণ আফ্রিকান এখন যেটি করছেন, সেটি যে বাংলাদেশ দলের ‘ইন্টারনাল অডিট’ বা অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা। যার মাধ্যমে বুঝে নিতে চাইছেন আরো সামনে এগোনোর ক্ষেত্রে এই দলটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কেমন হওয়া উচিত এবং তাদের কেমন হেড কোচ চাই।

আরেকটি ওয়ানডে বিশ্বকাপের যখন বাকি মাত্র বছরখানেক এবং যখন দলটিকে পথ দেখানোর মতো লোকের সংকট, তখন এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি হয়ে উঠেছে একজন হেড কোচ খুঁজে পাওয়াই। সেই সংকটের সমাধান দিতে আসা কারস্টেন গতকাল সকাল থেকেই নিজের হোটেল রুমে পার করলেন ব্যস্ত সময়। যে সময়ের মধ্যে অনেককেই হোটেলে ডেকে আনালেন। যদিও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন চৌধুরী একটি সংশোধনী জুড়ে দিয়ে বলতে চাইলেন, ‘আপনাদের মনে হতে পারে উনি ঢাকায় এসেই কাজ শুরু করেছেন। আসলে তা নয়। তিনি ভারতে (আইপিএলের জন্য) থাকতেই আমাদের প্রয়োজন অনুযায়ী কাজ শুরু করে দিয়েছিলেন।’

সেই কাজের অংশ হিসেবে ভারতেই তাঁর সঙ্গে দীর্ঘ আলাপ হয়ে গেছে বাংলাদেশের বর্তমান টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের সঙ্গে। আর ঢাকায় এসেও সবার আগে তিনি ডাকলেন খেলোয়াড়দেরই। প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে কাল সকাল থেকে একে একে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে এলেন তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম এবং মাশরাফি বিন মর্তুজা। তিনজনের সঙ্গেই আলাদা আলাদাভাবে কথা বলেছেন ২০১১ সালে ভারতের বিশ্বকাপজয়ী দলের কোচ। গতকাল সন্ধ্যার পর বসেছিলেন জাতীয় দলের ফিজিও এবং ট্রেনারের সঙ্গেও। আজ বসার কথা আছে নির্বাচক এবং জাতীয় দল সংশ্লিষ্ট বিসিবির পরিচালকদের সঙ্গেও। সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলা হয়ে গেলে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসানের সঙ্গেও দেখা করবেন কারস্টেন।

হেড কোচ ইস্যু ছাড়াও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নির্ধারণী নিরীক্ষা কার্যক্রম তিনি স্বাধীনভাবেই চালাচ্ছেন বলেও দাবি বিসিবি প্রধান নির্বাহীর, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি আপনাদের জানাতে চাচ্ছি, সেটা হলো উনি খুব স্বাধীনভাবে কাজ করতে চাচ্ছেন এবং সেভাবেই তিনি কাজ করছেন। ওনাকে আমরা শুধুমাত্র লজিস্টিক সাপোর্ট দিচ্ছি। ওনার যাঁকে প্রয়োজন, তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে তিনি নিজেই দেখা করার সময় ঠিক করে নিচ্ছেন।’ এ রকম ‘স্বাধীন নিরীক্ষক’ হিসেবে কারো কাজ করতে আসা বাংলাদেশের ক্রিকেটে নজিরবিহীনও। এর আগে সব সময় নিজেদের পছন্দে কোচ নিয়োগ করে আসা বিসিবি এবার সংকটে শরণাপন্ন হয়েছে আরেকজনের। সেই একজন কারস্টেনের কাছ থেকে ‘এক ঢিলে দুই পাখি’ই মেরে নিতে চাইছে বিসিবি। নিজাম উদ্দিনের কথায় তাই মনে হওয়া স্বাভাবিক, ‘কারস্টেন আপাতত বাংলাদেশ দলের একটি অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা করছেন। সামনে আইসিসির বেশ কয়েকটি আসর আছে। যেমন ওয়ানডে বিশ্বকাপ এবং ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টি। ওই আসরগুলো সামনে রেখে কিভাবে বাংলাদেশ দলকে উন্নত করা যায় এবং কোন কোন জায়গায় কাজ করতে হবে, এই বিষয়গুলো তিনি পর্যালোচনা করছেন। তিনি বিসিবিকে এ বিষয়ে প্রতিবেদনও দেবেন। একই সঙ্গে হেড কোচ নিয়োগ নিয়েও তিনি কাজ করছেন।’

সেই নিয়োগ প্রক্রিয়ার অগ্রগতি জানাতে গিয়ে বিসিবি প্রধান নির্বাহী বললেন, ‘আমরা ইতিমধ্যেই কয়েকজন কোচের নাম তাঁকে দিয়েছি। কারস্টেনের কাছেও কিছু নাম আছে। দলের পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর তিনি তাঁর পরামর্শ দেবেন যে কোন জায়গাতে আমাদের বেশি কাজ করতে হবে এবং কোন কোচ আমাদের জন্য বেশি কার্যকর হবেন। আমরা যেসব কোচের নাম তাঁর কাছে পাঠিয়েছি, তাঁদের সঙ্গে উনি যোগাযোগ করছেন। ওনার নিজের তালিকায় থাকা কোচদের সঙ্গেও তিনি কথাবার্তা বলছেন।’ ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের আগেই হেড কোচ নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করার ব্যাপারে আশাবাদী নিজাম উদ্দিন এও জানালেন যে কারস্টেনের দল পর্যালোচনা প্রতিবেদনও তাঁদের কাছে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। জানিয়ে রাখলেন কারস্টেনকে দীর্ঘ মেয়াদে না পাওয়ার ব্যাপারটিও, ‘উনি ব্যবস্থাপনা পরামর্শক হিসেবে কাজ করবেন। আমাদের আশা ছিল উনি আমাদের সঙ্গে দীর্ঘ মেয়াদে কাজ করবেন আগামী বিশ্বকাপ পর্যন্ত। প্রাথমিকভাবে তিনি সম্মতিও দিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে ওনার অন্যান্য কাজের ব্যস্ততার কারণে জানিয়েছেন যে আপাতত হেড কোচ নিয়োগ প্রক্রিয়া পর্যন্ত তিনি আমাদের সঙ্গে আছেন।’ সেই হেড কোচের নাম সুপারিশ করার আগেই নিরীক্ষকের ভূমিকায় নামা কারস্টেন সত্যিকারের প্রয়োজনীয়তাই আগে বুঝে নিচ্ছেন!



মন্তব্য