kalerkantho


নেইমারের সঙ্গী কৌতিনিয়ো

২১ মে, ২০১৮ ০০:০০



নেইমারের সঙ্গী কৌতিনিয়ো

বয়সের তফাত মাত্র মাস পাঁচেকের। প্রতিভার তফাতটাও খুব বেশি নয়। কিন্তু খ্যাতি আর আয়? এ জায়গাটায় নেইমার যে কৌতিনিয়োর চেয়ে অনেক গুণ এগিয়ে! রাশিয়া বিশ্বকাপের ব্রাজিল দলে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শিরোপার স্বপ্নসারথি হয়ে এ দুজনই ছুটবেন আক্রমণভাগের ডান ও বাঁ প্রান্তে। দুজনেরই লক্ষ্য থাকবে দলকে জেতানোর; কিন্তু অলক্ষ্যে একটা ব্যক্তিগত প্রতিযোগিতাও কি থাকবে না?

সান্তোস থেকে নেইমার এসেছিলেন বার্সেলোনায়। সেই নেইমার রেকর্ড গড়া ট্রান্সফার ফিতে প্যারিস সেন্ত জার্মেইতে চলে যাওয়ার পর ডুবন্ত মানুষের খড়কুটো আঁকড়ে ধরার মতো করেই বিকল্প খুঁজছিল বার্সেলোনা। চীন থেকে পাউলিনিয়ো, ডর্টমুন্ড থেকে উসমান দেম্বেলে আর লিভারপুল থেকে ফিলিপে কৌতিনিয়োকে ন্যু ক্যাম্পে নিয়ে আসা সেই উন্মাদনারই ফল। শীতকালীন দলবদলে বার্সেলোনায় এসেছেন ঠিকই; কিন্তু একই আসরে লিভারপুলের হয়ে খেলায় ‘কাপ-টাইড’ হয়ে যাওয়ায় চ্যাম্পিয়নস লিগেও খেলতে পারলেন না। লিগে তত দিনে রিয়ালের হোঁচট এবং বার্সার অপ্রতিরোধ্য গতি, দুইয়ে মিলে এতটাই ফারাক হয়ে গেছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর যে শিরোপার রেসে কাতালানদের প্রতিদ্বন্দ্বী শুধু নিজেরাই। এসেই ঊরুর চোটে পড়া কৌতিনিয়ো তিন সপ্তাহ পর নেমেছেন মাঠে। প্রথম গোলটা করেছেন কোপা দেল রের কোয়ার্টার ফাইনালে, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার বদলি হিসেবে নেমে। এ মৌসুমেই বার্সেলোনায় ইনিয়েস্তার শেষ, আসছে মৌসুমে তাঁর জায়গাটাই নিতে হবে কৌতিনিয়োকে।

পারবেন, সেই বিশ্বাস থেকেই তো ১০৫ মিলিয়ন পাউন্ডে (যেটা বেড়ে ১৪২ মিলিয়ন পর্যন্ত হতে পারে) অ্যানফিল্ড থেকে কৌতিনিয়োকে নিয়ে এসেছে বার্সেলোনা। এই ব্রাজিলিয়ান তাঁর সেরা নৈপুণ্যটা দেখিয়েছেন লেভান্তের বিপক্ষে ম্যাচে, যে ম্যাচটায় লিগে অপরাজিত থাকার মুকুট খুইয়েছে এরনেস্তো ভালভের্দের দল। সেই ম্যাচে খেলেননি মেসি এবং যথারীতি তাঁকে ছাড়া বার্সেলোনা দল হয়ে পড়েছিল এলোমেলো। ৯ মিনিটে প্রথম গোল হজম, ৩০তম মিনিটে আরো একখানা। ৩৮ মিনিটে প্রথম গোলটা শোধ করেন কৌতিনিয়ো। কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হয় না, এমানুয়েল বোয়াটেংয়ের হ্যাটট্রিকে লেভান্তে ৩-১ গোলে এগিয়ে। কৌতিনিয়োর শিরায় ব্রাজিলিয়ান রক্ত ছলকে ওঠে! তিনিও করেন আরো দুটি গোল, সুয়ারেসও পেনাল্টি থেকে করেন একখানা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পারেননি দলকে জেতাতে। সেমেদো, মিনাদের ভুলে ৫ গোল হজম করে ম্যাচটা হেরে অপরাজিত থাকার মুকুট খোয়ায় বার্সেলোনা।

পরের মৌসুমে হয়তো আর সাইডলাইনে নয়, শুরু থেকেই মাঠে দেখা যাবে কৌতিনিয়োকে। ন্যু ক্যাম্পে আসার আগে লিভারপুলে অর্ধেক মৌসুম খেলেই করেছিলেন ২০ ম্যাচে ১২ গোল। তবে শুধু গোল করার নিশানা নয়, কৌতিনিয়ো সমাদৃত তাঁর ড্রিবলিং, গতি ও তৎপরতার জন্য। এস্পানিওলে থাকার সময় তাঁর ব্যাপারে সেই সময়কার কোচ মুরিসিও পোচেত্তিনো (এখন টটেনহামের কোচ) বলেছিলেন, ‘ফিলিপের পায়ে বিশেষ একটা জাদু আছে!’ লিভারপুলভক্তরাও তাঁকে ডাকতে শুরু করে দিয়েছিলেন খুদে জাদুকর বলে।

দুই ভাইয়ের সঙ্গে ফুটসাল খেলেই শুরু করেছিলেন কৌতিনিয়ো। শান বাঁধানো ছোট জায়গায় বলের দখলটা নিজের পায়ে রাখতে অনেক কৌশলই আয়ত্ত করতে হয়েছিল তাঁকে। অজান্তেই তাই ড্রিবলিংয়ের প্রাথমিক পাঠ শেখা হয়ে গিয়েছিল কৌতিনিয়োর! সেখান থেকে ভাস্কো দা গামার একাডেমি হয়ে ক্রমান্বয়ে ইন্টার মিলান, এস্পানিওল হয়ে এসেছিলেন লিভারপুলে। জনপ্রিয়তার উত্থান অ্যানফিল্ড থেকেই। তবে নেইমারের মতো তারকাখ্যাতি এখনো পাননি কৌতিনিয়ো, হয়ে উঠতে পারেননি দলের নিউক্লিয়াস। ২০১৮ বিশ্বকাপে কি পারবেন নেইমার-জেসুসদের একের পর এক গোলের ঠিকানা লেখা পাস পাঠাতে? বার্সেলোনায় যার জায়গাটা নিতে যাচ্ছেন, সেই আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা কিন্তু কাজটা পারতেন। খুব সম্ভবত বিশ্বের আর যে কারোর চেয়েই ভালো পারতেন।

 



মন্তব্য