kalerkantho


মুখোমুখি প্রতিদিন

ইরানিরা বসে থাকলেও আমরা নিয়মিত খেলেছি

২০ মে, ২০১৮ ০০:০০



ইরানিরা বসে থাকলেও আমরা নিয়মিত খেলেছি

সম্প্রতি পাকিস্তানে শেষ হয়ে গেল সুপার কাপ কাবাডি। দশ দলের এই ফ্র্যাঞ্চাইজি কাবাডি টুর্নামেন্টে খেলতে গিয়েছিল বাংলাদেশের দুই কাবাডি খেলোয়াড়। দুজন খেলেছেন দুই দলে। করাচি জোরাওয়ার্সে খেলে ফেরা মাসুদ করিম গতকাল মুখোমুখি হয়েছেন কালের কণ্ঠ স্পোর্টসের

কালের কণ্ঠ স্পোর্টস : পাকিস্তানে কাবাডি খেলার অভিজ্ঞতা কেমন হলো?

মাসুদ করিম : ভালো, অনেক নিরাপত্তা দিয়েই রেখেছিল তারা। সব ম্যাচই আমরা খেলেছি, তাতে করে বাংলাদেশি খেলোয়াড় সম্পর্কে তাদের ভালো একটা ধারণা হয়েছে। প্রথমে আমাদের খেলানো নিয়ে দ্বিধায় ছিল, কিন্তু খেলার পর তাদের ধারণা বদলে গেছে। অন্যান্য দলে ইরানি খেলোয়াড় বসে থাকলেও আমরা দুজন নিজেদের দলে নিয়মিত খেলেছি।

প্রশ্ন : পাকিস্তানের এই টুর্নামেন্ট কি ভারতের প্রো-কাবাডির মতো?

মাসুদ : হ্যাঁ, তবে এখন ভারতীয় প্রো-কাবাডিতে আমাদের খেলোয়াড়রা সাইডলাইনে বসে থাকে। গতবার জিয়াউর রহমান খেলার সুুযোগ পেয়েছিল। অন্যরা বেশির ভাগ সময় বসে কাটায়। তবে মানের দিক থেকে পাকিস্তানের এই টুর্নামেন্ট ভারতের প্রো-কাবাডির চেয়ে পিছিয়ে।

প্রশ্ন : ওদের খেলোয়াড়দের মান কেমন দেখেছেন?

মাসুদ : এই টুর্নামেন্টে স্থানীয়দের বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। অন্যান্য দেশের অনেক খেলোয়াড় আসার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত চারটি দেশের বিদেশি খেলোয়াড়রা খেলেছে। বিদেশিদের সঙ্গে তুলনা করলে পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের মান সেরকম উন্নত নয়। তাদের চেয়ে বরং বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা টেকনিকে অনেক এগিয়ে, তবে শারীরিক গঠনের দিক থেকে পাকিস্তানিরা ভালো। খেলায় এটার সুবিধা পায় তারা।

প্রশ্ন : ওরা পিছিয়ে থাকলেও কাবাডি র্যাংকিংয়ে পাকিস্তানের পেছনে বাংলাদেশ। এটা কেন?

মাসুদ : ওদের এগিয়ে থাকার কারণ হলো, পাকিস্তান আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে বেশি। যেমন কয়েক মাস আগে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ কাবাডিতে পাকিস্তান অংশ নিয়েছে, দুই নম্বর র্যাংকিংয়ে থাকা ইরানকে হারিয়েছে। এতে তাদের র্যাংকিংয়ে উন্নতি হয়েছে। এই জায়গায় আমরা পিছিয়ে যাচ্ছি। বছরে ১৫টি ম্যাচ খেলতে পারলেও আমাদের খেলার উন্নতি হয়।

প্রশ্ন : খেলার সুবাদে কী রকম আয় হয়েছে?

মাসুদ : আয়ের অঙ্কটা তেমন বড় নয়। আসলে পাকিস্তান প্রথম শুরু করেছে। ভারতের মতো টুর্নামেন্টটা জমে গেলে টাকা-পয়সাও বাড়বে। ফেরার সময় আমাদের দুজনের সঙ্গে দুই বছরের চুক্তি করার প্রস্তাব দিয়েছে তারা। তবে সিদ্ধান্ত নিইনি।

প্রশ্ন : তাহলে আমাদের এখানে এ রকম একটা টুর্নামেন্ট করলে তো ভালোই হয়, কী বলেন?

মাসুদ : ফেডারেশন চেষ্টা করছে এ রকম কিছু করার। প্রো-কাবাডিতে এ মাসের শেষের দিকে নিলাম আছে, সেখানে আমাদের সাতজন খেলোয়াড় আছে। এ টুর্নামেন্টে একেকজন খেলোয়াড়ের দাম ওঠে ৬০-৭০ লাখ টাকার বেশি। একজন খেলোয়াড় বছরে এত আয় করলে আর লাগে কী!


মন্তব্য