kalerkantho


মাশরাফিদের গ্রিনিজের পরামর্শ

১৭ মে, ২০১৮ ০০:০০



মাশরাফিদের গ্রিনিজের পরামর্শ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : তিনি যখন বাংলাদেশ দলের কোচ ছিলেন, তখন দেশের ক্রিকেট ছিল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামকেন্দ্রিক। তাও সেটি ভাগাভাগি করতে হতো ফুটবলের সঙ্গে। এত দিন পর গর্ডন গ্রিনিজ বাংলাদেশে এসে দেখলেন বিশ্ব ক্রিকেটে আলাদা জায়গা করে নিতে থাকা দেশটির ক্রিকেট গড়ে নিয়েছে নিজ ঠিকানাও। যে ঠিকানায় কাল বিকেলে কয়েক পাক ঘুরেও গেলেন ক্রিকেট ইতিহাসেরই অন্যতম সেরা এ ওপেনার।

গত সোমবার তাঁকে দেওয়া বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সেকালের ক্রিকেটারদের অনেকেই। যেখানে মুশফিকুর রহিমসহ মাত্র কয়েকজনই ছিলেন একালের ক্রিকেটার। কাল মিরপুরের ‘হোম অব ক্রিকেট’ পরিদর্শনে গিয়ে এই ক্যারিবীয় গ্রেট দেখা পেয়ে গেলেন বর্তমান জাতীয় দলের সবারই। এঁদের মধ্যে এমন কেউ কেউও ছিলেন, যাঁদের ১৯৯৭ সালে আইসিসি ট্রফি জয়ের সময় ক্রিকেটের ‘ক’ বোঝারও সাধ্য ছিল না। মেহেদী হাসান মিরাজই যেমন, ‘উনি (গ্রিনিজ) যখন কোচ ছিলেন, তখন তো আমি খুব ছোট ছিলাম। ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশের আইসিসি ট্রফি জেতার সময় আমার বয়স মাত্র তিন বছর।’

বাংলাদেশ ক্রিকেটের সোনালি সেই সাফল্যের ‘নেপথ্য কারিগর’কেই কাল সামনাসামনি দেখা হয়ে গেল মিরাজদের। বিকেল ৩টা থেকে অনুশীলন সূচি ছিল ক্রিকেটারদের। গ্রিনিজ মিরপুরে এলেন এর কাছাকাছি সময়ের মধ্যেই। এসেই ভাসলেন নানা উপহারের বন্যায়। ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা সই সংবলিত বাংলাদেশ দলের জার্সি তুলে দিলেন গ্রিনিজের হাতে, মুশফিক দিলেন ক্যাপ। মাহমুদ উল্লাহ জানালেন ফুলেল শুভেচ্ছা। একাডেমি মাঠে তাঁর সামনে গোল হয়ে দাঁড়ানো অনুশীলন শিবিরের ক্রিকেটারদের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথাও বললেন গ্রিনিজ। সেখানেই উঠল বাংলাদেশের আসন্ন সিরিজ প্রসঙ্গ। গ্রিনিজ নিজে থেকেই জানতে চাইলেন পরবর্তী সিরিজগুলো কোথায়। মাশরাফি আর মাহমুদ উল্লাহর কাছ থেকে জানলেন যে জুনের শুরুতে ভারতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ এবং শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর। দুটি ভিন্ন মহাদেশে ভিন্ন কন্ডিশনের চ্যালেঞ্জ সামলানোর দারুণ এক দাওয়াইও দিলেন তখনই, ‘তোমরা তৈরি হয়ে যেও। তৈরি থাকলে কোনো জায়গাই সমস্যা নয়।’ সেই সঙ্গে ব্যাটসম্যানদের দিলেন নিজেদের উইকেটের মূল্য বোঝার পরামর্শও। প্রায় দুই যুগ আগে আকরাম খান-আমিনুল ইসলাম-মিনহাজুল আবেদীনরাও নিশ্চয়ই গ্রিনিজের মুখ থেকে এমন কথাই শুনতেন।

এবার বাংলাদেশের ক্রিকেটকে আরো অনেক ধাপ এগিয়ে দেওয়া প্রজন্মের সামনে গ্রিনিজের জিজ্ঞাসা, ‘তোমরা কে কে টপ অর্ডারে ব্যাটিং করো।’ হাত তুললেন তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। কখনো মিডল অর্ডারে ব্যাটিং করা হয়েছে কিনা জানতে চাওয়ায় সৌম্য ‘হ্যাঁ’ বললেন, তামিম জানান তিনি সব সময় ওপেনই করে এসেছেন। দলে ভারসাম্য আনতে বিশেষ করে ওয়ানডে ক্রিকেটে কখনো কখনো ব্যাটিং অর্ডার বদলে দেখা যেতে পারে বলে মন্তব্যও করেছেন তখনই। সেই সঙ্গে দলকে ভালো শুরু এনে দেওয়ার গুরুদায়িত্বের কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন এ ওপেনারকে।



মন্তব্য