kalerkantho


মুখোমুখি প্রতিদিন

ইনজুরিই অভিশাপ কাবাডি খেলোয়াড়দের

এশিয়ান গেমস সামনে রেখে বিশেষ ক্যাম্প চলছে বাংলাদেশ নারী কাবাডি দলের। মর্যাদার এ আসরে দুইবার ব্রোঞ্জ জিতেছে বাংলাদেশ। এবার সেই পারফরম্যান্স ছাপিয়ে রুপা জেতার লক্ষ্য নারী কাবাডি দলের অধিনায়ক শাহনাজ পারভিন মালেকার। দলে নতুন আসা খেলোয়াড়দের নিয়ে আশাবাদ জানালেন কালের কণ্ঠকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে

২৫ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



ইনজুরিই অভিশাপ কাবাডি খেলোয়াড়দের

কালের কণ্ঠ : আপনাদের অনুশীলন ক্যাম্প কেমন চলছে?

শাহনাজ পারভিন মালেকা : প্রতিবার যেমন হয় আর কি? কোনো মর্যাদার গেমস থাকলে দু-তিন মাস আগে থেকে শুরু হয় ক্যাম্প। তবে এবার ফেব্রুয়ারি থেকে ৪০ জন নিয়ে ক্যাম্প শুরু হয়েছে। মার্চে সেই দল কমিয়ে আনা হয়েছে ২৬ জনে। চূড়ান্ত দলও হয়ে যাবে কিছুদিনের মধ্যে।

প্রশ্ন : জাকার্তায় এবার আপনাদের লক্ষ্য কী?

শাহনাজ পারভিন : অবশ্যই লক্ষ্য থাকবে সোনা জেতা। তবে ভারত এত বেশি এগিয়ে যে সেই স্বপ্ন না দেখাই ভালো। ওদের ২০টা প্রদেশ থেকে সেরা ২০ জনকে বাছাই করলেও দুর্দান্ত এক দল হয়ে যাবে। সেখানে আমাদের ১২ জনের দল গড়তে হিমশিম খেতে হয়। তাই ব্রোঞ্জ ছাপিয়ে রুপা জিততে পারলেই খুশি হব।

 

প্রশ্ন : ভারত ছাড়া আর কোন দেশকে কঠিন প্রতিপক্ষ মনে হয় আপনার?

শাহনাজ পারভিন : আসলে অন্যরা উন্নতি করছে আর আমরা পিছিয়ে পড়ছি। আমরা হারিয়েছিলাম দক্ষিণ কোরিয়াকে। সেই কোরিয়া আবার হারিয়েছে মেয়েদের কাবাডির অন্যতম সেরা দল ইরানকে। এই দুই দলের সঙ্গে জেতার চেষ্টা করব আমরা।

প্রশ্ন : বিদেশি কোচ এনে ক্যাম্প করালে বেশি উপকার পেতেন নিশ্চয়ই...

শাহনাজ পারভিন : আমি ব্যাপারটা সেভাবে দেখি না। আমাদের আব্দুল জলিল স্যারই অনেক ভালো কোচ। তিনি থাকতে বিদেশি কারো দরকার নেই। ভারত থেকে একবার এসেছিলেন একজন। তিনি রানিং আর জগিংটা বেশি করাতেন। এ ছাড়া পার্থক্য নেই।

প্রশ্ন : ক্যাম্পে পুরনো দলের খুব বেশি খেলোয়াড় নেই আপনাদের...

শাহনাজ পারভিন : হ্যাঁ, আগের দলের আমিসহ মাত্র চারজন আছি। অন্যরা নতুন। ওদের পারফরম্যান্স অবশ্য মুগ্ধ করার মতোই।

প্রশ্ন : ক্যাম্পে কেউ ইনজুরিতে পড়েছে নাকি?

শাহনাজ পারভিন : এ ইনজুরি সমস্যাটাই আমাদের অভিশাপ। বিজেএমসির এক খেলোয়াড়কে চিনি। ইনজুরিতে পড়ে খেলতে পারছে না আর। অপারেশন করাবে, সেই টাকাও নেই। তাই হারিয়েছে চাকরিও। যশোরের আরেক খেলোয়াড়কে ডাক্তার বলেছিলেন সাত দিনের মধ্যে অপারেশন না করালে হুইলচেয়ারে জীবন কাটাতে হবে। ওর জন্যও তেমন কিছু করেনি ফেডারেশন। কেউ ইনজুরিতে পড়লে বড়জোর চিকিৎসা হয় ঢাকা মেডিক্যালে। অথচ ফেডারেশন ভারতেও চিকিৎসা করাতে পারে। ক্রিকেটের মাশরাফি ভাইকে অস্ট্রেলিয়ায় এতবার চিকিৎসা করাল বিসিবি। আর আমাদের ঢাকা মেডিক্যালই শেষ ভরসা।



মন্তব্য