kalerkantho


মিউনিখের পথে

মহারণের প্রথম পর্ব আজ

২৫ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



মহারণের প্রথম পর্ব আজ

২৪টা ম্যাচ, ৩৬টা গোল। রিয়াল মাদ্রিদ, বায়ার্ন মিউনিখ— প্রতিটিরই জয় ১১টা করে ম্যাচে, ড্র হয়েছে ২ ম্যাচ। উয়েফার যেকোনো প্রতিযোগিতায় সবচেয়ে বেশিবার মুখোমুখি হওয়া দুই দল, যারা ইতিহাস, ঐতিহ্য, তারকাখ্যাতিতে, সামর্থ্যে কেউ কারো চেয়ে খুব একটা পিছিয়ে নেই। মাদ্রিদের অভিজাতদের বিপক্ষে বাভারিয়ানদের লড়াই মানেই গনগনে উত্তাপ ছড়ানোর প্রতিশ্রুতি। চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালটা যদি এ রকম না হয়, তাহলে কি মানায়!

প্রথম দল হিসেবে টানা দুই আসরে চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতার কৃতিত্ব দেখানোর পর ইউরোপসেরা হওয়ার হ্যাটট্রিক করার পথে রিয়ালের সামনে সবচেয়ে বড় বাধা খুব সম্ভবত বায়ার্নই। কারণ সেমিফাইনাল জিতলে, ফাইনালের প্রতিপক্ষ রোমা বা লিভারপুল যে-ই হোক না কেন, চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল বলেই চাপটা থাকবে তাদেরই ওপর। অন্যদিকে চ্যাম্পিয়নস লিগ রিয়ালের চেনা জমিন, উয়েফার চেনা ঝংকারটা বেজে উঠলেই বান ডাকে লস ব্লাংকোসদের রক্তে! শনি-রবিবার লিগের ম্যাচে মাঝেমধ্যেই অখ্যাত, অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রতিপক্ষের কাছে হেরে বসে লিগ শিরোপার দৌড় থেকে মৌসুমের মাঝপথেরও আগে ছিটকে গেছে রিয়াল মাদ্রিদ। কিন্তু মঙ্গল-বুধবার এলেই তাদের অন্য চেহারা! গ্রুপে টটেনহাম, ডর্টমুন্ড; শেষ ষোলোয় প্যারিস সেন্ত জার্মেই আর কোয়ার্টার ফাইনালে জুভেন্টাসকে হারিয়ে সেমিফাইনালে এসে বায়ার্ন মিউনিখের সামনে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো-সের্হিও রামোসরা। যাদের সঙ্গে গত মৌসুমে দেখা হয়েছিল কোয়ার্টার ফাইনালে। শ্বাসরুদ্ধকর সেই ম্যাচ দিয়েই তো রোনালদোর মৌসুমের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার পথে এগিয়ে যাওয়া! গ্রুপ পর্বে মাত্র ২ গোল করা রোনালদো বায়ার্নের বিপক্ষে ২ লেগে করেছিলেন ৫ গোল। আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় পিছিয়ে পড়া রিয়ালকে জিতিয়েছিল রোনালদোর জোড়া গোল। আর বার্নাব্যুতেও স্কোরলাইন ২-১ হয়ে যাওয়ার পর খেলা অতিরিক্ত সময়ে গড়ালে বাড়তি যোগ করা সময়ে রোনালদোর জোড়া গোলই গড়ে দেয় ব্যবধান।

এবারও প্রথম লেগটা বাভারিয়ানরা খেলছে ঘরের মাঠে। চলতি মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগের যে ধারা চলছে, তাতে প্রথম লেগে বড় ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও পরের লেগে খুব নিশ্চিন্ত থাকার উপায় নেই। বিশেষ করে রোমার বার্সেলোনাকে হারিয়ে দেওয়া এবং জুভেন্টাসের রিয়ালকে খাদের কিনারায় ঠেলে দিয়ে প্রায় ছিটকে দেওয়ার উদাহরণ এখনো টাটকা। বায়ার্নের বিপক্ষে মাঠে নামতে এরই মধ্যে মিউনিখে পৌঁছে গেছে লস ব্লাংকোসরা। হিলটন পার্ক হোটেলে চেক ইন করার খবরও চলে এসেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। উয়েফার অফিশিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্ট মনে করিয়ে দিচ্ছে, ঠিক ৫ বছর এক দিন আগে রিয়ালের জালে ৪ গোল দিয়েছিলেন সে সময় বরুশিয়া ডর্টমুন্ডে খেলা রবার্ট লেভানদোস্কি। এই পোলিশ ফরোয়ার্ড চলে এসেছেন বায়ার্ন মিউনিখে। সেই অবিস্মরণীয় কীর্তির পুনরাবৃত্তি কি সম্ভব হবে আজ?

রোনালদোর ৫ গোলের স্মৃতিটাই বরং অনেক বেশি টাটকা। বায়ার্নের ডিফেন্ডার জেরোম বোয়াটেং অবশ্য সেই স্মৃতি ভুলতেই চান, ‘গত বছর বাদ পড়াটা একদমই আমাদের মাথায় নেই। এ মৌসুমে ফাইনালে খেলার খুব বড় একটা সুযোগ আমাদের সামনে, আমরা মনোযোগটা সেদিকেই রাখতে চাই।’ ডিফেন্ডার হিসেবে রোনালদোকে থামানোর গুরুদায়িত্বটা থাকবে তাঁর কাঁধেই। এটাকে বাড়তি চাপ হিসেবে না দেখে উপভোগই করতে চান এই জার্মান, ‘আমি সব সময়ই রিয়ালের বিপক্ষে খেলার জন্য মুখিয়ে থাকি, বিশেষ করে রোনালদো। সেরা খেলোয়াড়দের বিপক্ষে খেলাটা সব সময়ই আনন্দের। একমাত্র এভাবেই নিজের খেলার মান বাড়ানো সম্ভব।’ রোনালদোর কোনো দুর্বলতাও খুঁজে পাচ্ছেন না বোয়াটেং, ‘রোনালদো দুর্দান্ত এক অ্যাথলেট। গোল করার পর জার্সি খুললেই সেটা বোঝা যায়। আমার মনে হয় না তার কোনো দুর্বলতা আছে।’ প্রতিপক্ষ রিয়াল সম্পর্কে তাঁর মূল্যায়ন, ‘রিয়াল খুবই ভারসাম্যপূর্ণ দল। জোরালো আক্রমণ, শক্তিশালী রক্ষণ আর ভারসাম্যপূর্ণ মাঝমাঠ। তবে নিজেদের সেরা খেলাটা খেলে তাদের হারানোর ব্যাপারে আমরা আশাবাদী।’ বায়ার্ন কোচ ইয়ুপ হেইঙ্কেস অবশ্য ছোট্ট একটা কথাতেই বুঝিয়ে দিয়েছেন অনেক কিছু, ‘দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হলে পর্বতও নড়ানো যায়।’ উয়েফা, মার্কা


মন্তব্য