kalerkantho


নিজেদের মাঠ তৈরির চিন্তা বোর্ডের

২৫ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



নিজেদের মাঠ তৈরির চিন্তা বোর্ডের

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ভাড়া বাসায় বিস্তর খরচে অন্দরসজ্জা করেন না কেউই। কিন্তু ক্লাব ক্রিকেটসহ নিচের স্তরের অন্যান্য আসর চালাতে গিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) করতে হয় তা-ই। পরের জায়গা, পরের জমি অথচ সেখানে স্থায়ী কাঠামো গড়ে দেওয়াসহ নানা সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে গিয়ে খরচটা একেবারে কমও হয় না। নিজস্ব মাঠের অভাবে এ ছাড়া বিকল্পও নেই কোনো। যদিও দেশের সবচেয়ে ধনী ক্রীড়া ফেডারেশনের পক্ষে এত দিনে নিজেদের কোনো বন্দোবস্তে যাওয়া অসম্ভব ছিল না। দেরিতে হলেও সে রকম একটি উদ্যোগ অবশেষে নেওয়া হচ্ছে। একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ের হলেও পরিকল্পনা ঢাকার আশপাশে এমন একটি জায়গা খুঁজে বের করা, যেখানে পাশাপাশি দুটো মাঠ করা যাবে।

বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের সব শেষ সভায় এ নিয়ে আলোচনাই শুধু হয়নি, গড়ে দেওয়া হয়েছে একটি কমিটিও। ওয়ার্কিং কমিটির প্রধান এনায়েত হোসেন সিরাজকে করা হয়েছে সেই কমিটির আহ্বায়ক। কাল তিনি বলছিলেন, ‘এখন অন্যান্য জায়গার মাঠের পেছনে বিসিবির প্রচুর টাকা খরচ হয়। অথচ এর একটিরও মালিক বিসিবি নয়। নতুন মাঠ খোঁজার মূল উদ্দেশ্য হলো খরচটা নিজেদের জায়গাতেই করা।’ বিশেষ করে প্রথম বিভাগ, দ্বিতীয় বিভাগ ও তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেট চালাতে গিয়ে অন্যের মাঠে দেদার খরচ করতে হয় বিসিবিকে। যেমন ধরা যাক বিকেএসপি কিংবা মিরপুরের সিটি ক্লাব মাঠের কথাই। দুই জায়গাতেই বিসিবির খরচে করে দেওয়া হয়েছে ড্রেসিংরুম। দুই জায়গাতেই দেশের সর্বোচ্চ ক্রিকেট প্রশাসনের বেতনভুক মাঠকর্মীরা মাঠের রক্ষণাবেক্ষণের কাজেও নিয়োজিত থাকেন। উইকেট পরিচর্যার জন্য যান কিউরেটরও।

এই দুই জায়গায় ম্যাচপিছু ভাড়া গুনতে না হলেও হয় অন্যান্য ভেন্যুতে। যেমন—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ হল ও জহুরুল হক হল মাঠ। ম্যাচপিছু ওই তিনটি মাঠের প্রতিটির ভাড়া সাড়ে ১১ হাজার টাকা। বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে নিজেদের খেলার পাশাপাশি করপোরেট আসরের মতো শৌখিন ক্রিকেটের জোয়ারে সেখানে ম্যাচ রাখতেও কখনো কখনো গলদঘর্ম হতে হয়। ভাড়া গোনার পাশাপাশি ক্রিকেট মৌসুমে মাঠ ও উইকেটের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মাঠকর্মীও পাঠাতে হয়। একই ব্যবস্থা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং গুলশান ইয়ুথের মাঠ নিয়েও। তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেট লিগের ম্যাচ হয় কেরানীগঞ্জের যে তেঘুরিয়া মাঠে, সেখানেও নজর রাখতে হয় বিসিবিকে। ক্লাব ক্রিকেট চালানোর জন্য বনানীর টিঅ্যান্ডটি মাঠ নেওয়ার আলোচনাও চলছে কিছুদিন ধরে। সেটি নেওয়া হলেও বিসিবির খরচে অনেক কিছু গড়ে নিতে হবে। ওদিকে বর্ষা আসার আগেই ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামের আউটারের মাঠ পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে ভেসে গেছে এরই মধ্যে। যেটি দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেটের অন্যতম ভেন্যুও। বিসিবির কাছে প্রস্তাবনা আছে জাহাঙ্গীরনগরের আরেকটি মাঠ নিজেদের খরচে তৈরি করে নেওয়ারও।

বোর্ড সভায় নিজেদের মাঠের আলোচনার শুরুটা এখান থেকেই। অন্যের জায়গায় খরচ না করে বিনিয়োগটা হোক নিজেদের জমিতেই। এ চিন্তাধারা থেকেই কমিটি গড়ে দিয়ে চটজলদি নেমে পড়ার পরিকল্পনা। আহ্বায়ক সিরাজ জানিয়েছেন তাঁদের প্রাথমিক পছন্দের কথাও, ‘ঢাকার আশপাশে বলতে পূর্বাচলের দিকে হলে ভালো হয়।’ সেখানে একটি আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম তৈরির প্রক্রিয়াও চলছে। তবে ক্লাব ক্রিকেটের জন্য মাঠ হবে একেবারেই আলাদা। যদিও সে রকম কোনো অবকাঠামো যে চাইলেই গড়া হয়ে যাবে না, সেটিও বলে রাখলেন সিরাজ, ‘এটা বেশ সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। সুবিধামতো জমি পেতে হবে। বড় অঙ্কের টাকাও এর সঙ্গে যুক্ত। তবে উদ্যোগ যেহেতু নিয়েছি, এটি হবেই।’ হলে পরের জায়গার খরচ বাঁচিয়ে নিজেদের মাঠে বিনিয়োগ করতে পারবে বিসিবি। তাতে ভাড়া বাসা থেকে ক্লাব ক্রিকেটের একাংশও উঠবে নিজের বাসায়!



মন্তব্য