kalerkantho


জয়ের পিঠে জয়ের প্রত্যাশা

২৫ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



জয়ের পিঠে জয়ের প্রত্যাশা

ক্রীড়া প্রতিবেদক : অ্যাওয়ে ম্যাচে আইজল এফসির বিপক্ষে ৩-০ গোলে জয় আশীর্বাদ, না অভিশাপ? খুব বিস্ময়কর প্রশ্ন, কিন্তু আবাহনীর হোম ম্যাচের প্রেক্ষাপটে এটা যেন খুব সংগত হয়ে উঠেছে।

প্রশ্নটা কেমন যেন। আগের ম্যাচের জয় কখনো কি পরের ম্যাচের জন্য অভিশাপ হয়! কখনো কখনো হয়। তার চেয়ে বড় কথা, এটা বাংলাদেশ ফুটবল, এখানকার ফুটবল এবং ফুটবলাররা আনপ্রেডিক্টেবল। ‘হোম অ্যাডভান্টেজে’ এগিয়ে থাকার কথা স্বীকৃত সত্য হলেও এখানে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে হয় উল্টো। আবাহনী যেমন এএফসি কাপ বাছাইয়ে হেরেছে একমাত্র ম্যাচটি। তাই বোধ হয় গতকালের সংবাদ সম্মেলনে আবাহনী কোচ সাইফুল বারী টিটু বারবার বলেছেন এক কথা, ‘হোম অ্যাডভান্টেজ থাকলেও এই ম্যাচকে সহজভাবে দেখার সুযোগ নেই। বরং আমরা আগের ম্যাচের চেয়ে বেশি সিরিয়াস এবং দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তাদের ৩ গোলে হারিয়েছি, এটা ভুলে নতুন ম্যাচ খেলতে চাই জয়ের জন্য।’ ১২ দিন আগে গুয়াহাটিতে সহজে হারানো আইজল এফসির বিপক্ষে আজ হোম ম্যাচ খেলতে নামছে আবাহনী লিমিটেড। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বিকেল সাড়ে ৪টায়।

এএফসি বাছাই পর্বের ‘ই’ গ্রুপে ঢাকায় প্রথম দুটি ম্যাচে আবাহনী হেরেছিল মালদ্বীপের নিউ রেডিয়ান্ট ও বেঙ্গালুরু এফসির কাছে। ১১ এপ্রিল তৃতীয় ম্যাচে জয় পেয়েছে গুয়াহাটিতে গিয়ে আইজলের বিপক্ষে। সেই দলের বিপক্ষে আজ নিজেদের মাঠে লড়বে, সুবাদে স্বাগতিক আবাহনী সব দিক থেকে এগিয়ে থাকবে। আবাহনী কোচও তাই সেই উইনিং কম্বিনেশন ভাঙতে চান না, তবে একই রকম পারফরম করাটা কঠিন মনে করছেন, ‘আগের ম্যাচ জিতেছি, কিন্তু এই ম্যাচ কঠিন হয়ে গেছে। টানা দুই ম্যাচে একই রকম পারফরম্যান্স করা কঠিন।’ তারপর যেন খেলোয়াড়দের নতুন করে উদ্দীপ্ত করার চেষ্টা করেছেন, ‘ওই ম্যাচ জেতার সব কৃতিত্ব খেলোয়াড়দের, তারাই মাঠে খেলে। এই ম্যাচেও তাদের দিকে সবাই তাকিয়ে থাকবে আরেকটা জয়ের প্রত্যাশায়। তাদের মানসিকভাবে তৈরি থাকতে হবে। এটা জিতলেই আমরা পরের ম্যাচে মালদ্বীপে লড়াইয়ের একটা দারুণ রসদ হবে।’ খেলোয়াড়দের ওপরই সব কিছু, নিজেদের মাঠে তারা নিজেদের মেলে ধরতে পারলে আবাহনীর গ্রুপ রানার্স আপের সম্ভাবনা বেঁচে থাকে। এই গ্রুপে আজ অন্য ম্যাচে লড়বে বেঙ্গালুরু-রেডিয়ান্ট ম্যাচ। রেডিয়ান্ট হারলে আর আবাহনী বড় ব্যবধানে জিতলেই গ্রুপে তিন নম্বর থেকে দুই নম্বরে উঠে যাবে।

অন্যদিকে কোনো ম্যাচ না জেতা আইজলের সব স্বপ্ন যেন মুছে গেছে। তাদের কোচ সন্তোষ কাশ্যপ অন্তত একটি জয়ের স্বাদ পেতে চান, ‘আগের ম্যাচে আমরা হেরেছি, সেটা ভুলে মাঠে নামব এই ম্যাচ জেতার জন্য। তবে প্রতিপক্ষ আবাহনী অনেক গোছানো দল।’ ঘরোয়া লিগে আইজল বিপ্লব ঘটিয়েছিল ২০১৬ সালে সব পরাশক্তিকে পেছনে ফেলে আই লিগ জিতে। কিন্তু গত মৌসুমে ভালো খেলোয়াড়রা নতুন ঠিকানা খুঁজে নিলে সাদামাটা হয়ে যায় শিরোপাজয়ী দলটি। লিগে পঞ্চম হওয়া দলটির দুর্দশা তাই জারি আছে এএফসি কাপেও। তুলনায় আবাহনী গতবারের চেয়ে শক্তিশালী এবং গোছানো, সুবাদে ঘরোয়া লিগের শিরোপার মুকুটও তাদের মাথায়। এএফসি কাপে দলের শক্তি আরো বেড়েছে জাপানি মিডফিল্ডার সেইয়া কোজিমার অন্তর্ভুক্তিতে। তাঁর পায়ে মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণের সামর্থ্য আছে, ফাইনাল পাসেও দক্ষ। গত ম্যাচে তাঁর এক গোলের পাশাপাশি রুবেল ও অ্যালিসন করেছেন একটি করে। এর পরও আকাশি-হলুদের দুঃখ, তাদের দুই বিদেশি ফরোয়ার্ড সানডে-এমেকা এখনো গোলহীন। অথচ নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার সানডে ফিরতি লেগে যোগ দিয়ে ৯ গোল করে আবাহনীকে শ্রেষ্ঠত্বের আসনে বসিয়েছিলেন ঘরোয়া লিগে। তাঁর স্বদেশি এমেকার ফিটনেস ফিরলেও গোলে ফেরেননি। দুই বিদেশি গোল পেলেই দলের জয় সহজ হয়ে যায়।

দুই স্ট্রাইকারের কাছে আজ গোল প্রত্যাশা করছেন আবাহনী কোচ, ‘ম্যাচ জেতার সহজ উপায় হলো শুরুতে গোল বের করা। তখন প্রতিপক্ষ চাপে থাকে, আরো গোলের সুযোগ তৈরি হয়। আশা করি সানডে-এমেকাও গোলে ফিরবে নিজেদের চেনা মাঠে।’ তার পরও ভয়, চেনা মাঠ কখনো কখনো অচেনা হয়ে যায়। তা ছাড়া আইজল এক সপ্তাহে খেলেছেন প্রথম তিনটি ম্যাচ। খানিকটা তৈরি হয়েই তাঁরা ঢাকা এসেছেন। তাই ম্যাচটি ‘খুব কঠিন’ বলেই মানছেন টিটু। সহজ করার দাওয়াই আছে শুধু খেলোয়াড়দের হাতে। তারাই পারে একটি চাপহীন, স্বাভাবিক ফুটবল ম্যাচ খেলে আগের বড় জয়টাকে আশীর্বাদ প্রমাণ করতে। তাহলেই আসবে জয়ের পিঠে জয়।



মন্তব্য