kalerkantho



দুই অঙ্ক ওল্টানো দলের লড়াই

২৪ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



দুই অঙ্ক ওল্টানো দলের লড়াই

এই সেমিফাইনাল দ্বৈরথটি হওয়ার কথা ছিল বার্সেলোনা-ম্যানচেস্টার সিটির। নিদেনপক্ষে বার্সা-লিভারপুলের। কিন্তু ফুটবল তার অনিশ্চয়তার সৌন্দর্যে আরো একবার উদ্ভাসিত হলো বলে উল্টে গেল সব কাগুজে হিসাব। চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালের প্রথম লেগে আজ তাই মুখোমুখি লিভারপুল-রোমা।

আজকের এই লড়াই একেবারেই অপ্রত্যাশিত। কোয়ার্টার ফাইনালে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে লিভারপুলের জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে তবু ভেবেছিলেন কেউ কেউ। অ্যানফিল্ডের প্রথম লেগে ‘অল রেড’দের ৩-০ ব্যবধানে জয়ের পর ওই ভাবনার পালে লাগে হাওয়া। কিন্তু বার্সেলোনার বিপক্ষে রোমার সম্ভাবনা নিয়ে? বিশেষত নু ক্যাম্পের প্রথম লেগে বার্সার ৪-১ ব্যবধানে জয়ের পর? অতি আশাবাদী রোমা সমর্থকদেরও তখন প্রত্যাশা ছিল দ্বিধাজড়ানো। লিওনেল মেসি, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, লুইস সুয়ারেসদের ওই দলের বাধা কিভাবে টপকাবে ইতালিয়ান ক্লাবটি!

কিন্তু পারল তো তারা! রোমান যোদ্ধার বীরত্বমাখা ফুটবলে দ্বিতীয় লেগে বার্সাকে ৩-০ গোলে দেয় হারিয়ে। তাতে প্রতিপক্ষের মাঠে গোল করায় ৩৪ বছর পর রোমা উঠে যায় ইউরোপসেরা ক্লাব প্রতিযোগিতার সেমিতে; স্প্যানিশ ক্লাবটিকে হতাশার অতলে ডুবিয়ে। বিষাদে আঁধার ম্যানসিটি ক্যাম্পও। প্রথম লেগে ০-৩ গোলে হারের পর নিজেদের মাঠে দ্বিতীয় লেগেও ১-২ গোলে হেরে যায় লিভারপুলের কাছে।

আজকের সেমিতে তাই মুখোমুখি লিভারপুল-রোমা। মৌসুম শুরুর আগে যদি বলা হতো চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ চারে উঠবে তারা, ক্লাব দুটির সমর্থকরা বর্তে যেতেন নিশ্চিতভাবে। তবে এখন আর তৃপ্ত নন মোটেও। এত দূর যখন আসতে পেরেছে, আর দুটি ধাপ পেরিয়ে শিরোপা জয় নয় কেন! লিভারপুল-রোমা দুটি ক্লাবই এখন দেখছে অত্যাশ্চর্য অর্জনের সেই স্বপ্ন। তার আগে অবশ্য পেরোতে হবে সেমিফাইনালের চৌকাঠ।

সেমিতে এই দুই দলের ওঠাটা যে খানিকটা অপ্রত্যাশিত, তা মানেন লিভারপুল কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ। তবে সেটি নিয়ে মাথা ঘামাতে রাজি নন মোটেও, ‘লোকে কোয়ার্টার ফাইনাল নিয়ে কী ভাবছে, তাতে আমার কোনো আগ্রহ নেই। তবে ধারণা করতে পারি, অনেকেই মনে করেছিলেন বার্সা-ম্যানসিটির সেমিফাইনাল হবে। তবে আমি মনে করি, আমরা দুটি দলই এখানে খেলার যোগ্য। ওই দিন তো কেউ একজন আমাকে বলল, রোমা ৩-০ গোলে বার্সাকে হারিয়ে দিয়েছে। আমার কাছে তখন তা অবিশ্বাস্য লাগছিল।’ আর এখনই ট্রফি জয় আলোচনায় অনাগ্রহী তিনি, ‘ফাইনালে ওঠার আগেই ট্রফি জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে আমি কিছু বলতে চাই না। আমাদের সমস্ত মনোযোগ সেমিফাইনালে। ফাইনালে উঠলে কী হবে, তা নিয়ে মোটেই ভাবছি না।’

লিভারপুলের এই স্বপ্নযাত্রায় সবচেয়ে বেশি অবদান ফরোয়ার্ড ত্রয়ী মোহামেদ সালাহ, রবার্তো ফিরমিনো ও সাদিও মানের। এই তিনজন মিলে মৌসুমে করেছেন ৮৩ গোল। এক সালাহর গোলই ৪১। গত দুই মৌসুমে রোমায় খেলে নিজেকে শানিয়ে নিয়েছেন মিসরের এই ফরোয়ার্ড। পুরনো দলের বিপক্ষে ম্যাচটি তাই সালাহর জন্য বিশেষ কিছু। ক্লপ সেটি মানছেন। আর দিন দুয়েক আগে ইংল্যান্ডের ফুটবলারদের ভোটে বর্ষসেরা ফুটবলার নির্বাচিত হওয়ায় শিষ্যকে ভাসিয়েছেন প্রশংসায়, ‘সালাহর জন্য আমি আনন্দিত। ও লন্ডনে ছিল বলে ওর সঙ্গে এখনো কথা হয়নি। যা বলার মুখোমুখি বলব। ম্যানসিটির কেফিন দে ব্রুইন মৌসুমজুড়ে এমন খেলার পরও এই পুরস্কার জেতাটা বিশেষ কিছু। তবে মৌসুমটা এখনো শেষ হয়নি। আর রোমার বিপক্ষে খেলাটা ওর জন্য বিশেষ কিছু। লিভারপুলে এখন যে সালাহকে পাচ্ছি, সে তৈরি হয়েছে রোমাতেই।’ দল হিসেবে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার প্রত্যয়ও এই জার্মান কোচের কণ্ঠে, ‘আমাদের কাজই হলো নিজেদের সেরাটা দেওয়া। দুই দলের সামনেই ফাইনাল খেলার সুযোগ; এটি অবশ্যই চাপের। তবে আমরা সম্ভাবনার জায়গাটি নিয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে চাই। এখন কেউ যদি আমাদের আন্ডারডগ ভাবে, তাতে কী যায়-আসে!’

তবে লিভারপুলকে আন্ডারডগ ভাবছেন কম জনই। রোমার বিপক্ষে ফেভারিটের তকমাই তাদের। সেটি বার্সার বিপক্ষে ইতালিয়ানদের ওই কল্পনা-ছাড়ানো পারফরম্যান্সের পরও। আর আজকের খেলা যেহেতু অ্যানফিল্ডে, প্রথম লেগেই ফাইনালে ওঠার পথে অনেক দূর এগিয়ে যেতে চায় লিভারপুল। ওই ম্যানসিটির বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের মতোই। যেখানে ১৯ মিনিটের মধ্যে করা তিন গোলে হতভম্ব হয়ে যায় পেপ গার্দিওলার দল।

তবে প্রথম লেগের ফল যা-ই হোক না, এটি শুধু একটি যুদ্ধক্ষেত্র। লড়াইয়ের গন্তব্য যে এতে নির্ধারিত হবে না, রোমার কোয়ার্টার ফাইনালের বীরত্বের পর তা নিয়ে নিশ্চয় কারো সংশয় থাকার কথা নয়। এএফপি



মন্তব্য