kalerkantho



দাপটেই শেষ চারে বাংলাদেশ

২৪ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



দাপটেই শেষ চারে বাংলাদেশ

ছবি : মীর ফরিদ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : এশিয়ান সেন্ট্রাল ভলিবলে গতবারের সাফল্যই এবারের আসরকে ঘিরে আগ্রহ বাড়িয়েছে। স্বাগতিকদের প্রত্যাশাও বেড়েছে সমানতালে। গ্রুপ পর্বে সেই প্রত্যাশার পালে জোর হাওয়াও দিয়েছেন হরশিত বিশ্বাসরা। নেপালকে প্রথম ম্যাচ ৩-১ সেটে হারানোর পর কাল দ্বিতীয় ম্যাচে মালদ্বীপকে ৩-০তে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই শেষ চারের সেই লড়াইয়ে উঠে গেছে বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুর নামে হওয়া এ আসরে শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখতে পেরোতে হবে আর দুটি ম্যাচ। সামনে যা-ই হোক, এখনো পর্যন্ত চিত্রনাট্য ধরেই এগোচ্ছে সব।

কাল বাংলাদেশের শুরুটা দেখে কে বলবে এমন নিরঙ্কুশ জয় আসতে যাচ্ছে। প্রথম সার্ভিসেই পয়েন্ট দেন মোহাম্মদ মোহসিন। দ্বিতীয় পয়েন্টটাও মালদ্বীপের। হরশিত বিশ্বাসের স্ম্যাশে বাংলাদেশ প্রথম পয়েন্ট পায়, পরের পয়েন্ট আসে ব্লকে। এই ধারায় চলতে থাকে এরপর, প্রথম টেকনিক্যাল টাইম আউটে বাংলাদেশ ৮, মালদ্বীপ ৪। দ্বিতীয়বার কোর্ট ছাড়ার আগে সেটা ১৬-৯। কখনো হরশিতের ডজ, কখনো রাশেদ খানের ব্লক আবার কখনোবা মাসুদ খানের স্ম্যাশে ক্রমে ম্যাচে আধিপত্য নিয়ে নেয় বাংলাদেশ। ইনডোরে স্বাভাবিক আওয়াজ কয়েক ডেসিবল বেড়ে যায় এমনিতেই। কাল স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা গ্যালারি ভরিয়ে ফেলেছিল। স্বাগতিকদের প্রতিটি পয়েন্টে উচ্ছ্বাস হলো গগনবিদারী। সেই উত্সাহে বাংলাদেশও খুব সহজেই প্রথম সেট জিততে চলে। তৃতীয় টাইম আউটের সময় ব্যবধান ২০-১০। সেট জিততে তখন আর ৫ পয়েন্টের অপেক্ষা, সেটি নিতেও খুব বেশি দেরি করেননি মাসুদ-হরশিতরা।

প্রথম ম্যাচে নেপালের কাছে ৩-০তে হেরেছে মালদ্বীপ। নেপালকে ৩-১ ব্যবধানে হারানো বাংলাদেশ এই ম্যাচে তাই সহজ জয়ের পথেই হেঁটেছে শুরু থেকে। প্রথম সেট নির্ধারিত হয় শেষ পর্যন্ত ২৫-১৫ পয়েন্টে। বাংলাদেশ অহেতুক কতগুলো পয়েন্ট না দিলে অত দূর যেতে পারত না মালদ্বীপ। স্বাগতিকদের সার্ভই মিস হয়েছে চারটি। দ্বিতীয় সেটে তাই সতর্ক হয়েই নামে আলিপোর আরোজির দল। তবে এই সেটে নিজেদের ভুল নয়, বরং মালদ্বীপই উজ্জীবিত পারফরম্যান্সে শুরুতে বেশ কিছু পয়েন্ট আদায় করে নিয়েছে। প্রথম টেকনিক্যাল টাইম আউটে দুই দলের ব্যবধান তাই খুব বেশি নয়, ৮-৬ এ এগিয়ে বাংলাদেশ। এই লড়াইটা চালিয়ে যায় মালদ্বীপ, দ্বিতীয় টাইম আউটের সময় পিছিয়ে তারা ১৬-১২ পয়েন্টে। তবে হরশিতরা তাদের ধরা দেননি শেষ পর্যন্ত, তৃতীয় টাইম আউটে ব্যবধান ২০-১৩ করে দ্বিতীয় সেটও জিতে নেয় ২৫-১৫তে।

৩-০তে ম্যাচ জিততে তাতে প্রাথমিক কাজ সারা। তবে তৃতীয় সেটেও মালদ্বীপ হাল ছাড়েনি। প্রথমবারের মতো তারা ৮-৫ এ এগিয়েও থাকে প্রথম টাইম আউটের সময়। সেটা ১১-৬ হয়ে গেলে আলিপোর নিজেই টাইম আউট নেন। তা কাজেও দেয়, বাংলাদেশ একটানে ব্যবধান ১১-১২ করে ফেলে। তবে মালদ্বীপ লিড ছাড়েনি, ১৭-১৫তে টেনে নিয়ে যায়। পুরো সেটে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো সমতায় ফেরে ২০-২০ পয়েন্টে। সেটা ২২-২২, ২৩-২২, ২৪-২২ হয়ে হরশিতের এক উদ্দাম স্ম্যাশে সেটসহ ম্যাচটাও বগলদাবা করে নেয় স্বাগতিক দল। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে নাম লেখানো তাতেই নিশ্চিত।

অন্য গ্রুপে তুর্কমেনিস্তানও কাল টানা দ্বিতীয় জয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে উঠে গেছে। এদিন ৩-১ ব্যবধানে হারায় তারা উজবেকিস্তানকে। কিরগিজ, উজবেকরা উচ্চতায় এগিয়ে থাকবে তুর্কমেনিস্তানের খেলোয়াড়দের চেয়ে। কিন্তু স্কিলে তারা পেছনে পড়ে গেছে তুর্কমেনিস্তানের কাছে। ফাইনালের আগে বাংলাদেশের অন্তত তাদের সঙ্গে দেখা হচ্ছে না। আজ কিরগিজস্তান-উজবেকিস্তানের ম্যাচে নির্ধারিত হবে বাংলাদেশের সেমির প্রতিপক্ষ। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েও বাংলাদেশের ইরানি কোচের তাই বাড়তি উচ্ছ্বাস নেই। খেলোয়াড়দের উত্সবের মাঝেই তিনি সেমিফাইনাল নিয়ে ভাবতে শুরু করেছেন মাঠের মাঝখানে দাঁড়িয়ে, ‘আমাদের গ্রুপের চেয়ে ওই গ্রুপের অন্য তিন দল অনেক বেশি শক্তিশালী। ফাইনালে উঠতে আমাদের তাই কঠিন পরীক্ষাই দিতে হবে।’ তবে প্রথম দুই ম্যাচে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করতে তিনি ভোলেননি, ‘এই দুটি ম্যাচে বাংলাদেশ আমার প্রত্যাশামতোই পারফরম করছে। আমি খুশি ওদের উন্নতি দেখে। সেমিফাইনালের কঠিন চ্যালেঞ্জ নিতে আমরা তৈরি বলা যায়। আগামীকাল এক দিন হাতে আছে আমাদের, এর মধ্যে আমি আমার গেম প্ল্যান সাজিয়ে ফেলব।’

মিরপুরের ইনডোরও বাংলাদেশ দলের সেই প্রত্যাশিত পারফরম্যান্সেরই অপেক্ষায়। গতকালের উত্সব তাতে পূর্ণতার পথেই থাকবে।



মন্তব্য