kalerkantho


বার্সেলোনার টানা চার

২৩ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



বার্সেলোনার টানা চার

কোপা দেল রে শিরোপা কী আর এমন গুরুত্বপূর্ণ? গুরুত্বপূর্ণ, যখন চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে টানা তৃতীয় মৌসুমে ছিটকে যায় বার্সেলোনা। ওই ক্ষতে সামান্য প্রলেপে পরশু টানা চতুর্থ স্প্যানিশ কাপ জিতল দলটি। আর লিগ জয়ও তো এখন শুধু সময়ের ব্যাপার।

ত্রিমুকুট না হয় জিততে পারেনি বার্সেলোনা, কিন্তু ঘরোয়া ফুটবলের এই দ্বিমুকুটও বা কম কিসে!

কোপা দেল রে ফাইনালের প্রতিপক্ষ রিয়াল মাদ্রিদ না, এমনকি আতলেতিকো মাদ্রিদও নয়। সেভিয়া। নির্ভার হয়ে ফুরফুরে মেজাজেই তাই মাঠে নামার কথা ছিল বার্সার। কিন্তু ওই যে পেছনে তাড়া করছে রোমে সেই অভিশপ্ত রাতটি! চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে ছিটকে যাওয়ার দুঃস্বপ্ন। এই ট্রফি জয়ের দায়বদ্ধতা যা বাড়িয়ে দিয়েছিল বহুগুণে।

আর সেটিকে চাপ নয়, যেন অনুপ্রেরণা হিসেবেই নিল বার্সা। সেভিয়াকে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত করে সে প্রত্যাশা মেটালো দারুণভাবে।

মৌসুমের অন্যতম সেরা ফুটবল খেলেছে পরশু বার্সেলোনা। বিশেষত প্রথমার্ধ ছিল চোখ ধাঁধানো। সেটি শুধু তিন গোল দিয়েছে বলেই নয়; আরো অন্তত তিনটি দিতে পারত বলেও। ১৪তম মিনিটে লুইস সুয়ারেসের গোলে এগিয়ে যায় বার্সা। ৩১তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন লিওনেল মেসি। ইয়োর্দি আলবার ব্যাক হিল পাসে করা ওই গোলটি কোপা দেল দে ফাইনালে এই আর্জেন্টাইনের ষষ্ঠ; সর্বোচ্চ গোলে তেলমো জারার সঙ্গী হলেন তাতে। মেসির পাস থেকে সুয়ারেসের আরেক গোলে ম্যাচের ফল নিয়ে অনিশ্চয়তা শেষ হয়ে যায় প্রথমার্ধেই।

এস্তাদিও ওয়ান্দা মেত্রোপলিতানোতে দ্বিতীয়ার্ধেও দুর্বার বার্সা। ৫২তম মিনিটে মেসির আরেক পাস থেকে গোলরক্ষককে কাটিয়ে কঠিন অ্যাঙ্গেল থেকে দুর্দান্ত গোল ইনিয়েস্তার। যিনি মৌসুম শেষে বার্সেলোনা ছাড়ার ঘোষণা দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর ৬৯তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে আরেক গোল কৌতিনহোর। ৫-০ গোলের জয়ে কোপা দেল রে জিতে যায় বার্সা।

টুর্নামেন্টে এটি তাদের টানা চতুর্থ শিরোপা। আর সব মিলিয়ে ৩০তম; তালিকায় দ্বিতীয়তে থাকা আতলেতিক বিলবাওয়ের চেয়ে যা ছয়টি বেশি। আর শুধু স্পেন নয়, ঘরোয়া কাপে ইউরোপেরই সফলতম ক্লাব বার্সেলোনা। বায়ার্ন মিউনিখ জার্মান কাপ জিতেছে ১৮ বার; এবার এইনট্রাখট ফ্রাংকফুর্টের বিপক্ষে জিতলে হবে ১৯তম। ইংল্যান্ডের রেকর্ড আর্সেনালের ১৩টি এফএ কাপ; এবারের ফাইনাল জিতলে ম্যানইউ সঙ্গী হবে তাদের। ইতালিয়ান কাপ সর্বোচ্চ ১২ বার জিতেছে জুভেন্টাস; এবার এসি মিলানের বিপক্ষে জিতলে তা হবে ১৩তম। আর ফ্রান্সে প্যারিস সেন্ট জার্মেইর ১১ বার জয়ই রেকর্ড; এবার তা ১২-তে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে তাদের।

এমন জয়ের পর বার্সা কোচ এর্নেস্তো ভালভের্দের কণ্ঠে প্রত্যাশিত স্বস্তি, ‘রোমার কাছে পরাজয়ের একটা প্রভাব তো থাকেই। তবে আমরা চেয়েছি, সেই খেলাকে মনে না রেখে এই ফাইনাল খেলতে। কাপ ফাইনাল জেতার জন্য মুখিয়ে ছিলাম। সেটি করার পর এখন নিশ্চিত করতে হবে লিগ শিরোপা।’ খুশি ক্লাব প্রেসিডেন্ট জোসেপ মারিয়া বার্তোমেউও, ‘আজ আমাদের খেলা যারা দেখেছেন, তারা নিশ্চয়ই উপভোগ করেছেন। এত দুর্দান্ত ফুটবল অনেক দিন খেলিনি। এখন আমরা যত দ্রুত সম্ভব লিগ জয় নিশ্চিত করতে চাই। দ্বিমুকুট জেতাটা হবে ঐতিহাসিক অর্জন। কেননা, ক্লাবের ইতিহাসে খুব বেশিবার আমরা তা করিনি।’ আর জানুয়ারিতে লিভারপুল থেকে আসা ফিলিপে কৌতিনহোও আনন্দিত খুব, ‘এই ক্লাবে খেলা এবং শিরোপা জেতাটা সব সময়ই ছিল স্বপ্নের। এটি আমার প্রথম শিরোপা। রাতটি তাই ভুলব না কখনোই। কোচ বলেছিলেন, আমাদের প্রথম মিনিট থেকেই মনোযোগী হতে হবে। আর প্রথমার্ধটি তো দুর্দান্ত খেলেছি। আমরা খুব খুশি; এখন এই জয় উপভোগের সময়।’

চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে বাদ পড়ার জ্বালা জুড়াতে এই শিরোপাটা বড্ড প্রয়োজন ছিল বার্সেলানার। মার্কা


মন্তব্য