kalerkantho


বাদ পড়াদের পিঠে সমর্থনের হাত মাশরাফির

২০ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



বাদ পড়াদের পিঠে সমর্থনের হাত মাশরাফির

ক্রীড়া প্রতিবেদক : তাঁর নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশনের একার পক্ষে তো সব স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। স্বপ্নপূরণে অনেক সহযোদ্ধাও পাশে চাই। তেমনই এক সহযোদ্ধা হয়ে মাশরাফি বিন মর্তুজার পাশে দাঁড়াল বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইপিডিসি ফাইন্যান্স লিমিটেড। এই প্রতিষ্ঠানটি মাশরাফির নিজের শহর নড়াইলে প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরির জন্য যাবতীয় প্রশিক্ষণ সুবিধাদি দেওয়ার দায়ভার কাঁধে নিয়েছে। স্থানীয় এক হোটেলে গতকাল নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে আইপিডিসির সমঝোতা স্মারক সইয়ের আনুষ্ঠানিকতাও সারা হলো। প্রতিষ্ঠানটির মাশরাফির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার দিনে বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়কও পাশে দাঁড়ালেন আরো অনেকের। পিঠে রাখলেন সমর্থনের হাত। তাঁরা কারা? মাত্রই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ পড়া ইমরুল কায়েস, সৌম্য সরকার, তাসকিন আহমেদ, মোসাদ্দেক হোসেন, কামরুল ইসলাম রাব্বি এবং মাঠের বাইরে শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় আরো আগেই তালিকা থেকে ছিটকে পড়া সাব্বির রহমান।

বিশেষ করে সৌম্য-সাব্বির-তাসকিন-মোসাদ্দেকদের সমর্থন দেওয়াকে জরুরি বলেও মনে করেন মাশরাফি, ‘ওরা বাংলাদেশ ক্রিকেটের সত্যিকারের ভবিষ্যত্। ওদের সমর্থন করা এখন আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব। আমার জায়গা থেকে আমি পিছপা হব না। যত প্রকার সমর্থন দেওয়ার, আমি ওদের দেব।’ এঁদের পারফরম্যান্স চুক্তিতে ঠাঁই পাওয়ার মতো নয় বলেই জানিয়েছে বিসিবি। কিন্তু পারফরম করেই একসময় তাঁরা জাতীয় দলে জায়গা পাকাপোক্ত করেছিলেন। চুক্তি থেকে বাদ পড়ায় মন খারাপ করা এই সময়ে তাঁদের দারুণ পারফরম্যান্সের টুকরো টুকরো স্মৃতিগুলোও এখন ভরসা দিচ্ছে মাশরাফিকে। আগেও যখন পেরেছেন, তখন পারবেন আবারও। এই হলো ওয়ানডে অধিনায়কের বিশ্বাস, ‘জানি যে বাংলাদেশে এত বেশি বিকল্প খেলোয়াড় নেই। আজ যে তিন-চারজনের নাম আপনারা বলছেন, এরাই সত্যিকারের ভবিষ্যত্। ওরা নিজেদের ছোট ক্যারিয়ারে সেটি প্রমাণও করেছে। আমার বিশ্বাস, ধারাবাহিকতা বাড়িয়ে ফর্মে ফিরতে পারলে ওরাই দীর্ঘসময় বাংলাদেশকে সার্ভিস দিতে পারবে।’

এই তরুণদের বয়সটা নিজেও পেছনে ফেলে এসেছেন মাশরাফি। পেছন ফিরে তাকিয়ে তাঁর মনে হচ্ছে, নিজের সময়ে অন্তত পরিবেশটা এত বৈরী ছিল না। নিজের ক্যারিয়ারের একটা লম্বা সময় পেরিয়ে গেছে যখন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম বলে কিছু ছিল না। এখন সেটি আছে। আছে বলেই খারাপ করলেই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ওঠা ঝড়ের ঝাপটা গিয়ে লাগছে তরুণদের গায়েও। সেটিও অনেক ক্ষেত্রেই পারফরম্যান্সকে প্রভাবিত করছে। এই তরুণদের জন্য বাস্তবতা তাই নিজেদের এই সময়ের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন বলেও মনে হয় ওয়ানডে অধিনায়কের, ‘একসময় সাকিব-তামিম-আমরা এমনই ছিলাম। বলতে পারেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা এই পর্যায়ের না থাকায় আমরা টিকে গেছি। ওদের কাছে প্রত্যাশাটা অনেক বেশি। সেই জায়গা থেকে ওরা খারাপ করলে সোশ্যাল মিডিয়ায়ও এত সমালোচনা হয় যে এর একটা প্রভাব পড়ে। ওদের ওপর অনেক চাপ। ক্রিকেট খেলাটা এখন অনেক কঠিন হয়ে গেছে। ছোটাখাটো বিষয় নিয়েও সমালোচনা হয়। ২২-২৩ বছর বয়সে এত সমালোচনার মধ্যে মাঠে নেমে ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলা ওদের জন্যও কঠিন।’

মাশরাফি নিশ্চিত যে এই কঠিন সময়েও চুক্তি থেকে বাদ পড়া তরুণরা বসে থাকবেন না, ‘আমরা যাঁরা সিনিয়র আছি, তাঁরা তো ওদের সহযোগিতা করবই। ওদেরও চেষ্টা করতে হবে যেন নিজের সেরা ফর্মে আসতে পারে। ওরাও নিশ্চয়ই বসে থাকবে না। ওদের অবশ্যই ফিরে আসার চেষ্টা করতে হবে।’ ফিরে আসার চেষ্টায় তাঁদের সাফল্যের আশা অতীত থেকেই করছেন মাশরাফি, ‘যারাই বাদ পড়েছে, কোনো না কোনোভাবে কিন্তু বাংলাদেশ দলে ওরা অবদান রেখেছে। হয়তো সাময়িকভাবে পারফরম্যান্স খারাপ হতে পারে। তাই বলে ওদের অবদান তো ভুলে যেতে পারবেন না।’ মাশরাফি অবশ্য এটাও মানছেন যে এই তরুণদের পরিবারের জন্য মাসিক বেতন পাওয়াটাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। একই সঙ্গে বাদ পড়ার চিন্তা ভুলে ক্রিকেটকে ধ্যানজ্ঞান করে খেলে যাওয়ার বিষয়টিও মনে করিয়ে দিতে চেয়েছেন তরুণদের, ‘প্রথমত আমি যত দিন ধরে খেলছি, চুক্তিতে ছিলাম কি ছিলাম না, তা নিয়ে ভাবিনি। কারণ এই খেলাটা আমার ধ্যানজ্ঞান। এটাই মন দিয়ে খেলেছি। তবে হ্যাঁ, বেতন একজন খেলোয়াড়ের জন্য অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। বেতন বা খেলার বিরাট প্রভাব থাকে ওদের পরিবারের ওপর। এটা যেমন জরুরি, তেমনি একই সঙ্গে মনপ্রাণ দিয়ে খেলাটা খেলে যাওয়াও একজন খেলোয়াড়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’ শেষ কথাটাই বাদ পড়া তরুণদের ফিরে আসার পথে দেখাতে যথেষ্ট!



মন্তব্য