kalerkantho


অতিব্যবহারে জীর্ণ উইকেট

২৩ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



অতিব্যবহারে জীর্ণ উইকেট

ক্রীড়া প্রতিবেদক : উইকেটেরও আদর-যত্ন দরকার হয়। দরকারি এ কাজটি করলে বা না করলে কী হয়? মাত্র দেড় মাসের মধ্যেই এর উপকারিতা এবং অপকারিতা, দুটিই দেখা হয়ে গেছে বাংলাদেশ দলের।

২৭ জানুয়ারি মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ফাইনালে শ্রীলঙ্কার ২২১ রান তাড়া করতে নেমেও ৭৯ রানে হেরেছে স্বাগতিকরা। অথচ সেই বাংলাদেশ দলই ১০ মার্চ প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজের ম্যাচে লঙ্কানদের ২১৪ রান তাড়া করে ২ বল বাকি থাকতে জিতেছে ৫ উইকেটে।

দুই মাঠে দুই রকম বাংলাদেশ। তাদের পারফরম্যান্সে এ রকম পার্থক্যের কারণ মিরপুরের তুলনায় প্রেমাদাসায় উইকেটের আদর-যত্ন হয় বেশি। নিজের চেনা আঙিনার চেয়ে পরের উঠানে গিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করার ব্যাপারটি অন্য রকম শোনাচ্ছে যদিও, তবে সেটি নতুন করে আত্মোপলব্ধির সুযোগও করে দিচ্ছে ক্রিকেট সংগঠকদের। তাঁদেরই একজন বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ কাল বলছিলেন, ‘উইকেটেরও তো জান আছে। আদর-যত্ন না করলে এটা আপনাকে ভালো ফল দেবে না।’

মিরপুরের উইকেট সেই ফল দেয়ওনি। কারণ ম্যাচের পর ম্যাচ আয়োজনে এই মাঠের উইকেটের রীতিমতো শ্বাস রোধ করা হয়। অন্যদিকে প্রেমাদাসার উইকেট বুক ভরে শ্বাস নেওয়ার সুযোগ পায় বলেই সেখানে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের নাভিশ্বাসও ওঠেনি। মাহমুদ নিজে খোঁজখবর নিয়ে জেনেছেন, ‘প্রেমাদাসায় ক্লাব ক্রিকেটের খেলা তেমন একটা হয়ই না।’ আর বিসিবির একজন পরিচালক হিসেবেও এই সাবেক অধিনায়ক মিরপুরে যা হতে দেখেন, ‘এক দিন পর পর ক্লাব ক্রিকেট তো এখন হচ্ছেই। সেই সঙ্গে দেখা যায় আমরা বিজয় দিবস ক্রিকেট দিয়ে দিচ্ছি। আবার দেখা যায় অনূর্ধ্ব-১৯ এর খেলা দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি অনূর্ধ্ব-১৫ কিংবা স্কুল ক্রিকেটের খেলাও।’

অতি ব্যবহারে জীর্ণ উইকেট তাই কখনো কখনো এমন বিদ্রোহ করে বসে যে নিজভূমেই পরবাসী হয়ে যেতে হয় বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের। মাঝেমধ্যে যে এখানেও মানসম্মত উইকেট পাওয়া যায় না, তাও নয়। মাহমুদই যেমন সে রকম একটি উদাহরণ টানলেন, ‘এবার প্রেমাদাসায় যে রকম উইকেটে খেললাম, সে রকম পিচে দেশেও আমরা কিছু ম্যাচ খেলেছি। বিশেষ করে যে ম্যাচটিতে আমরা শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অনেক রান করে (৭ উইকেটে ৩২০ রান) অনেক বড় ব্যবধানে (১৬৩ রানে) জিতলাম, সেটি এ রকম ভালো উইকেটই ছিল।’

কিন্তু ফাইনালে আবার বিরূপ অভিজ্ঞতা। হুটহাট বল নিচু হচ্ছিল। যাতে হাঁসফাঁস করতে হচ্ছিল বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের। দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দলের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকার সূত্রে মাহমুদ জানেন, ‘আমাদের ছেলেরা ব্যাটে বল আসাটা পছন্দ করে।’ সেই পছন্দের উইকেট অন্য দেশে গিয়েই পেতে হয় তাঁদের! আপাতত এই সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাওয়া ছাড়া উপায়ও নেই কোনো। তবে উপায় আছে দেশের আন্তর্জাতিক ভেন্যুগুলোকে এই সমস্যা থেকে বের করে আনার, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ভেন্যুতে যদি আমরা ম্যাচ না কমাই, তাহলে কোনো বড় কিউরেটরই আসলে ভালো উইকেট আপনাকে দিতে পারবে না। উইকেটেরও তো একটা সহ্যক্ষমতা আছে। কম খেলা হলেই আপনি উইকেটের যত্নটা বেশি নিতে পারবেন। সে জন্য মিরপুরে খেলা কমাতে হবে। বিশেষ করে ঘরোয়া ক্রিকেট কমাতে হবে।’

সেটি কমাতে যাওয়ার পথেও বাধা আছে। কারণ মাহমুদের নিজেরই দেখা, ‘এক কলম্বোতেই যত মাঠ আছে, ঢাকায় এর ধারেকাছেও নেই। মাঠের স্বল্পতা তাই কমাতে হবে। মাঠ থাকলে তো কেউ চাইত না। মাঠ বাড়ালেই এ সমস্যার সমাধান হবে।’ এত দিন সমাধান না হওয়ার পেছনে নিজেরও দায় দেখেন মাহমুদ, ‘গেম ডেভেলপমেন্টের চেয়ারম্যান হিসেবে আমিই হয়তো চেয়ে বসেছি যে অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপটা মিরপুরে হোক। চাইব, এখন থেকে যেন গ্রাউন্ডস কমিটির প্রধান মাহবুব (আনাম) ভাই কঠোর হন।’ জমজমাট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট উপযোগী উইকেট অন্য দুই ভেন্যুতেও করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি, ‘স্থানীয় ক্রিকেটে হয়তো অত ভালো উইকেট এখনই করতে পারব না। তবে আন্তর্জাতিক ভেন্যুগুলোতে যদি কম ম্যাচ হয়, তাহলে হয়তো করা যাবে। চট্টগ্রামে ভালো ওয়ানডে উইকেট হতে পারে, কারণ ওখানে অত খেলা হয় না। সিলেটেও করা যাবে। মিরপুরে তো করতেই হবে।’

না করলে কী হয়, সেটি তো দেশের মাঠে ভুগেই বুঝেছে বাংলাদেশ। সেটি আরো বেশি করে বুঝছে নিদাহাস ট্রফি খেলে এসে।



মন্তব্য