kalerkantho


নিম্নগামীই হকি দল

১৯ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



ফাইনাল শেষে একটা ‘সান্ত্বনা’ খুঁজে পাওয়া গেছে—বাজে আম্পায়ারিং। ম্যাচে কিছু সিদ্ধান্তে গ্যালারিকেও ফুঁসে উঠতে দেখা গেছে। তাতেও দলের ব্যর্থতা আড়াল হয় না। মাহবুব হারুন যেমন বলেছেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা ছিল পেনাল্টি কর্নার নেব। প্রথম কোয়ার্টারেই তা পাঁচটি নিয়েছি, কিন্তু খেলোয়াড়রা তা থেকে গোল করতে পারেনি। যেভাবে মারার কথা সেভাবে মারতে পারেনি।’

শুরুতে গোল পেলে চাপটা বরং ওমানের ওপর থাকত। কিন্তু হংকং, শ্রীলঙ্কা ম্যাচের মতো গোল মিস করে করে এদিনও বাংলাদেশ প্রতিপক্ষকে সুযোগ করে দিয়েছে এগিয়ে দিতে। আগের দুই ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হলেও ওমান ম্যাচে তা পারা যায়নি। ম্যাচের আগে থেকেই বাংলাদেশ ম্যানেজমেন্টের একটা শঙ্কা ছিল যে, ট্রফিটা ধরে রাখতে ওমানিরা যতভাবে পারে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করবে। দুই আম্পায়ারসহ ১৩ জনের দল বলা হচ্ছিল স্বাগতিকদের। সেই দলের বিপক্ষে সুযোগ নষ্ট মানে তো নিজেদেরই পায়ে কুড়াল মারা। দুটি বড় সিদ্ধান্ত নিয়েই বিতর্ক আছে, তৃতীয় কোয়ার্টারে দ্বীন ইসলাম বল জালে পাঠিয়ে গোলের বদলে শুনেছেন ফাউলের বাঁশি। ওই গোল হলে বাংলাদেশ সমতায় ফেরে। ম্যাচের চিত্র তাতে ভিন্ন হতে পারত। অন্য সিদ্ধান্তটি ওমানের ব্যবধান বাড়ানো পেনাল্টি স্ট্রোক নিয়ে। স্ট্রোক দেওয়ার মতো আদৌ কিছু হয়নি বলেই মত বেশির ভাগের। খেলোয়াড়রাও তীব্র আপত্তি জানিয়েছিলেন, কিন্তু চীনা আম্পায়ার ছিলেন অনড়। বাংলাদেশ ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকা অবস্থায় অবশ্য এই আম্পায়ারই ওমানি মিডফিল্ডার আহমদ আল বালুসিকে হলুদ কার্ড দেখিয়ে ১০ মিনিট মাঠের বাইরে রাখেন। ১০ জনের সেই ওমানের বিপক্ষেও সুযোগটা তখন কাজে লাগাতে পারেনি রাসেলরা।

হারুন বলেছেন, ‘বাজে আম্পায়ারিংয়ের কারণে খেলোয়াড়রা মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে যায়, ধৈর্য হারিয়ে ফেলে। আমাদের আজকের (গতকালের) হারের পেছনে তাই এটাও একটা কারণ।’ তবু টুর্নামেন্ট শেষে শুধু এই বাজে আম্পায়ারিংয়ের দোহাই দিয়ে নিজেদের দুর্বলতাগুলো আড়াল করা যাচ্ছে না। কারণ ওমানিদের কাছে লাল-সবুজের এটি টানা চতুর্থ হার। সর্বশেষ এশিয়া কাপে বাংলাদেশ ষষ্ঠ হয়েছে, কিন্তু দুই দল মুখোমুখি হয়নি। তার আগে ঢাকাতেই ওয়ার্ল্ড হকি লিগ রাউন্ড টুতে হারের স্বাদ দিয়েছে তারা স্বাগতিকদের। দুই বছর আগে রাউন্ড টুর আগের আসরেও হার টাইব্রেকারে এবং কোরিয়ায় গত এশিয়ান গেমসেও এই ওমানের কাছে হেরেই অষ্টম হয় বাংলাদেশ।

তাই শুধু আম্পায়ারিং নয়, আর কোথায় গলদ আছে সেটি বোধ হয় খুঁজে দেখার সময় হয়েছে। মাসকাটে টুর্নামেন্টের শুরু থেকে কোচ রাসেল মাহমুদের পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্ট নন। যিনি একাই ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখতেন সেই রাসেল যেন কোথায় হারিয়েছেন, অনেক ধীর গতি তাঁর খেলায়, সতীর্থদের সঙ্গেও সমন্বয়ের অভাব। দলে দীর্ঘদিন পিসি স্পেশালিস্টে খ্যাতি পেয়ে এসেছেন মামুনুর রহমান, তাঁর পিসির সৌন্দর্যে এই টুর্নামেন্টে দেখা গেছে কেবল আফগানিস্তানের বিপক্ষেই, প্রয়োজনের সময় তাঁর স্টিক হাসেনি। আরেক সিনিয়র খেলোয়াড় হাসান জুবায়েরও তাঁর নামের সুবিচার করতে পারেননি এ আসরে। তরুণ স্ট্রাইকার মিলন হোসেন ভালোই নজর কেড়েছেন এ আসরে। তবে পুস্কর ক্ষিসার মতো অভিজ্ঞ একজন ফিনিশারের অভাব যেন ছিল সব সময়।

বাংলাদেশ দলের দুর্বলতাগুলো টুর্নামেন্টে প্রথম ম্যাচ থেকেই একটু একটু ফুটে উঠছিল। থাইদের বিপক্ষেই গোল বের করতে গলদঘর্ম হতে হয়েছে। হংকং তো কাঁপনই ধরিয়ে দিয়েছিল। আর সেমিফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয় তো ভাগ্যদেবীর কৃপায়। এই বাংলাদেশ ফাইনালে তুমুল ফেভারিট ছিল না মোটেও। যদিও তেমনি আশা করা হয়, কিন্তু অনেক দিন থেকেই প্রত্যাশার সঙ্গে প্রাপ্তির মিল নেই। গত বছরের শুরুর দিকে ঢাকায় ওয়ার্ল্ড হকি লিগ রাউন্ড টু ছিল হতাশার এক আসর। শেষের দিকে এশিয়া কাপেও সেই হতাশা কাটেনি। এবার এশিয়ান গেমস বাছাই টুর্নামেন্ট দিয়ে দলের একটি উজ্জ্বল ছবি সবাই কল্পনা করে রেখেছিলেন। কিন্তু রাসেলরা দেশে ফিরছেন আবার সেই মাথা নিচু করেই।



মন্তব্য