kalerkantho


নাটকীয় জয়ে সুপার লিগে খেলাঘর

১৯ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



নাটকীয় জয়ে সুপার লিগে খেলাঘর

ক্রীড়া প্রতিবেদক : এ যেন প্রেমাদাসার রি-ম্যাচ বিকেএসপিতে। পরিস্থিতি বিবেচনায় সেদিনের বাংলাদেশ দলের চেয়েও বিপাকে খেলাঘর সমাজকল্যাণ সমিতি। মাহমুদ উল্লাহর মতো স্বীকৃত ব্যাটসম্যান নয়, শেষ ওভারে ১২ রান তোলার দায় ৯ নম্বরে নামা মাসুম খানের কাঁধে। তবে প্রায় অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন তিনি। তাতে শেষ বলে নিষ্পত্তি হওয়া ম্যাচে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেটারকে ২ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মতো সুপার লিগও নিশ্চিত করেছে ক্লাবটি। ওদিকে শাইনপুকুরের বিপক্ষে প্রত্যাশিত জয় পেয়েছে আবাহনী আর মিরপুরে প্রাইম দোলেশ্বরকে হারিয়েছে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স।

বিকেএসপিতে মাত্র ৬ রানের জন্য সেঞ্চুরির সুযোগ হাতছাড়া করেছেন আল আমিন জুনিয়র। তেমনি তাঁর সতীর্থদের অনেকে সেট হয়েও উইকেট বিলিয়ে আসায় আরো বড় ইনিংস পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছে প্রাইম ব্যাংক। তার পরও ২৬১ আত্মরক্ষার জন্য কম পূঁজিও নয়। মাত্র ২৩ রানে প্রতিপক্ষের দুই ওপেনারকে ফিরিয়ে দিয়ে জয়ের সুবাসই পাচ্ছিল প্রাইম ব্যাংক। কিন্তু অমিত মজুমদার (৭১), রাফসান আল মাহমুদ (৪০) ও অশোক মানেরিয়ার (৬৩) ম্যাচ ঝুঁকে পড়ে খেলাঘরের দিকে। শরিফুল ইসলাম ৪ উইকেট তুলে আবার মোড় ঘুরিয়েছিলেন ম্যাচের। কিন্তু লোয়ার অর্ডারে মাইদুল ইসলাম অঙ্কনকে সঙ্গী করে শেষবার ম্যাচ খেলাঘরের করে দেন মাসুম। শেষ ওভারের কঠিন অঙ্কও মিলেছে তাঁর ব্যাটে। প্রাইম ব্যাংকের পেসার দেলোয়ার হোসেনের করা শেষ ওভারে দুই বাউন্ডারিতে ১৩ রান ওঠে মাসুমের ব্যাটেই। দারুণ এই জয়ে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে খেলাঘর। অবস্থানে নড়চড় হলেও তাদের সুপার লিগে খেলা নিশ্চিত, যা ক্লাবটির জন্য বড় অর্জনই। তেমনি সুপার লিগ থেকে প্রাইমের ছিটকে পড়াটা তাদের জন্য হৃদয়বিদারক।

ওদিকে ফতুল্লায় কাল বিসর্জনের পথে হেঁটেছে শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব। নাজমুল হোসেন শান্তর ১২০ বলে অপরাজিত ১৫০ ও ওপেনার সাইফ হাসানের (৯৪) ব্যাটে উড়ে ৪ উইকেটে ৩৩৫ রানের পাহাড় গড়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থাকা আবাহনী। জবাবে শাইনপুকুরের টপ অর্ডারও রানের পাহাড় গড়েছে। তবে চোট নিয়ে ড্রেসিংরুমে ফিরে যাওয়া ফারদিন হাসান অনি (১০৪) ও সাদমান ইসলামের (৫৬) মধ্যকার ১২৫ রানের উদ্বোধনী জুটিতে জয়ের চেষ্টাটাই ছিল বলে বিশ্বাস করা কঠিন। এই রান তুলতেই শাইনপুকুর ইনিংসের প্রায় অর্ধেকটা শেষ। মিডল অর্ডারে তৌহিদ হৃদয় (৭২ বলে ৮৩) রান তোলার গতি কিছুটা বাড়িয়েছিলেন। কিন্তু ততক্ষণে ম্যাচ আবাহনীর হাতে তুলে দেওয়া শেষ শাইনপুকুরের, হারে ৫৬ রানে।

মিরপুরে কাল দাপট দিয়েছে বোলাররা। গাজীর বোলারদের সামনে ৯ উইকেটে ১৮৯ রান তুলেই সন্তুষ্ট থাকতে হয় প্রাইম দোলেশ্বরকে। ফজলে মাহমুদ (৬৫) ছাড়া আর কারো ব্যাটে রান নেই। তবু জয়টা আয়েশে হয়নি গাজীর। ওপেনার মেহেদী হাসান (৫৯) ও ফাওয়াদ আলমের (৪৬) পর লোয়ার অর্ডারে জাকির আলীর (৩১*) দৃঢ়তায় ৬ উইকেটের জয় নিশ্চিত হয় গাজীর। এই জয়ে সুপার লিগ নিশ্চিত হয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের, যা এই ম্যাচের আগেই নিশ্চিত হয়েছিল প্রাইম দোলেশ্বরের।



মন্তব্য