kalerkantho


নো বল কাণ্ড নিয়ে...

১৭ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



নো বল কাণ্ড নিয়ে...

কলম্বো থেকে প্রতিনিধি : টান টান উত্তেজনার ম্যাচে শেষ ওভারে আবেগের সব বাঁধ ভেঙে যায় সাকিব আল হাসানের। ইসুরু উদানার করা ওভারের প্রথম বলটা ছিল বাউন্সার, আম্পায়ার সংকেত দেন ওভারের প্রথম বাউন্সারের। পরের বলটাও ছিল একই রকম, যেটা লেগ আমপায়ার ‘নো বল’ ডাকলেও ফিল্ড আমপায়ারের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্তটা বাতিল করেন। এতেই ডাগআউটে ক্ষোভে ফেটে পড়েন সাকিব। সঙ্গে যোগ দেন একাদশের বাইরে থাকা নুরুল হাসানও। কুশল মেন্ডিস ও থিসারা পেরেরাও তেড়ে যান সাকিবের দিকে, কথার লড়াইতে যোগ দেন মাহমুদ উল্লাহও। একপর্যায়ে দুই ব্যাটসম্যানকে মাঠ ছেড়ে চলে আসার জন্যও বলছিলেন সাকিব, তাঁকে বারবার নিরস্ত করেন ফোর্থ আমপায়ার ও বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ। একপর্যায়ে সাকিব নিজেই ডাগআউট ছেড়ে ব্যাট ও হেলমেট হাতে উঠে যান ড্রেসিংরুমে। মাহমুদ উল্লাহ ফিরে যান ব্যাট করতে। এই ব্যাপারগুলো নিয়ে পরে মুখ খুলতে রাজি হননি সংবাদ সম্মেলনে আসা সাকিব এবং কুশল মেন্ডিস কেউই।

বারবার করা প্রশ্নে অবশ্য তাঁদের মুখ খুলতে হয়েছে। শ্রীলঙ্কান শিবির থেকে সেটিকে ‘বৈধ’ বল বলে দাবি করা হলেও সাকিব একপর্যায়ে ঠিকই জানিয়ে দিয়েছেন নিজের ক্ষোভ, ‘আমপায়ার একটা সিদ্ধান্ত দিলে সেটাই তো টিকে থাকা দরকার। আমি এর কোনো মানে খুঁজে পাইনি।’ তবে বারবার ব্যাটসম্যানদের ডেকে আনার ব্যাপারে সাকিব হেসেই সংবাদ সম্মেলনে বললেন, ‘আমি আসলে আসতে বলিনি, ব্যাট করতে যেতে বলেছি। হাতের ইশারার তো দুই রকম অর্থই হয়।’ একই সঙ্গে বললেন, ‘এ রকম ম্যাচে দুই দলই প্রচণ্ড রকমভাবে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ে, বিশেষ করে শেষ ওভারে। তবে ৪০ ওভারের ম্যাচে বাকি ৩৯ ওভার কী হয়েছে আমরা সেটা নিয়েই আলোচনা করি, সেটাই বোধহয় ভালো হবে।’ সাকিব জানিয়েছেন, দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে সমপর্কে কোনো চিড় ধরেনি ওই ঘটনায়, ‘শ্রীলঙ্কার সঙ্গে আমাদের ক্রিকেটের সমপর্ক খুব ভালো। আমাদের ওখানে বিপিএলে, ঢাকা লিগে শ্রীলঙ্কার অনেকেই খেলে। অনেকের সঙ্গেই ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব রয়েছে, যা হয়েছে এরপর মাঠেই তা মিটমাট হয়ে গেছে। বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মানুষ খাবারের সঙ্গে অনেক মসলা খায়, তাদের খেলায় একটু মসলার ঝাঁজ না থাকলে কি হয়! স্রেফ আসলাম, খেললাম চলে গেলাম, এতেই কি হয়! একটু মসলা হলে সাংবাদিকদেরও তো লাভ।’

নো বল হলে আসত একটা রান, মাহমুদ উল্লাহ পেতেন পরের বলটা ফ্রি হিট, মুস্তাফিজ আউট হওয়ার বলটাও গণ্য হতো না। তাহলে জয়ের সমীকরণটা হতো আরো সহজ। অবশ্য সেসব ছাড়াই তো দলকে জেতালেন মাহমুদ উল্লাহ। হয়তো এই ঘটনা তাঁকে এতটাই তাতিয়ে দিয়েছিল যে সেটাই বাড়িয়ে দিয়েছিল জয়ের ক্ষুধা!



মন্তব্য