kalerkantho


রুগ্‌ণ ক্রীড়াঙ্গনের ছবিতেই শেষ হলো যুব গেমস

১৭ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



রুগ্‌ণ ক্রীড়াঙ্গনের ছবিতেই শেষ হলো যুব গেমস

ক্রীড়া প্রতিবেদক : আকর্ষণীয় ১০০ মিটার স্প্রিন্ট শেষ দিনে রেখেও বাড়াতে পারেনি গেমসের আকর্ষণ। সমাপনীর বাহারি আলোর মাঝেও দেশের ক্রীড়াঙ্গনের রুগ্ণ ছবিটাই রূঢ় বাস্তব হয়ে শেষ পর্যন্ত হাজির থাকল বাংলাদেশ যুব গেমসে।

সমাপনী অনুষ্ঠানের মাঝেও ছিল ১০০ মিটার স্প্রিন্ট। এই ইভেন্টের বিশ্বজোড়া আকর্ষণ হলেও এখানে পুরো আট লেনের আটজন স্প্রিন্টারই খুঁজে পাওয়া যায় না। অ্যাথলেটদের এই হাহাকারের মধ্যে নতুনের আগমনী ঠিক আশা করা যায় না। জিতেছেন বিকেএসপির সেই পুরনো চ্যাম্পিয়নরাই। ১০০ মিটারে দ্রুততম মানব-মানবী হয়েছেন চট্টগ্রামের হাসান মিয়া ও রাজশাহীর রূপা খাতুন। গত বছর অ্যাথলেটিকস জুনিয়র মিটে অনূর্ধ্ব-১৭ বিভাগের সেরা রূপা গতকাল শুরুতে পিছিয়ে পড়লেও শেষ পর্যন্ত ১২.৩০ সেকেন্ড টাইমিং করে সোনা জিতেছেন, ‘আমার শুরুটা খারাপ হয়েছিল এবং এটা আমার হয়ে থাকে। শেষ ৮০ মিটারে আমাকে শুরুর ঘাটতি পূরণ করতে হয়, যা আজকেও করেছি।’ সেটা করেও জুনিয়র মিটের চেয়ে এবার টাইমিংয়ের উন্নতি হয়েছে ০.৩০ সেকেন্ড। তবে জিতেও দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া এ ছাত্রী ভরসা পান না অ্যাথলেটিকসে, ‘অ্যাথলেটিকসে কোনো সুযোগ-সুবিধা নেই। ক্রিকেট-ফুটবলের মতো সুবিধা না থাকলে কেউ উত্সাহী হবে না। আগামীতে কী করব আমি জানি না।’

চট্টগ্রামের হাসান মিয়া ১১.০৬ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে দ্রুততম মানব হলেও টাইমিং খারাপ হয়েছে। গত নভেম্বরে জুনিয়র মিটে অনূর্ধ্ব-১৯ বিভাগে তিনি রেকর্ড টাইমিং ১০.৬০ সেকেন্ডে সোনা জিতেছিলেন। ‘আমার জীবনে প্রথম ইলেকট্রনিক টাইমারে দৌড়েছি, সে জন্য একটু ঘাবড়ে গিয়েছিলাম। তা ছাড়া অসুস্থও ছিলাম। তাই খারাপ হয়েছে আমার টাইমিং’—বলেছেন বিকেএসপিতে নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া এই অ্যাথলেট। তবে তাঁর জেতা স্বর্ণপদকেও চট্টগ্রাম সেরা দুইয়ে জায়গা করতে পারেনি। ৩৫ সোনা, ২৬ রুপা ও ৪২ ব্রোঞ্জ নিয়ে চট্টগ্রাম বিভাগ হয়েছে তৃতীয়। রূপা খাতুনের স্বর্ণপদকের সুবাদে রাজশাহী দ্বিতীয় স্থান থেকে শীর্ষে উঠে গেছে ৩৭ সোনা, ৩৫ রুপা ও ৪০ ব্রোঞ্জ নিয়ে। রানার-আপ হয়েছে খুলনা ৩৭ সোনা, ২৩ রুপা ও ৩৪ ব্রোঞ্জ জিতে।

১০ মিটার স্প্রিন্ট শেষে সমাপনী অনুষ্ঠানের নাচ-গানে মনোহারী কোনো ব্যাপারই ছিল না। ছেলে-মেয়েগুলো নাচল নাকি ব্যায়াম করল বোঝা গেল না। তেমনি স্টেডিয়ামে বোঝার উপায় ছিল না প্রধান অতিথি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সমাপনী বক্তব্যও। তাঁর বক্তব্য শেষ হতেই নিভে গেল গেমসের মশাল।


মন্তব্য