kalerkantho


শোকের ছায়া মাসকাটেও

১৪ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



মাসকাট থেকে প্রতিনিধি : বিমান দুর্ঘটনা মুহূর্তে থমকে দিয়েছে সবাইকে। পরশু রাতে ওমানের বাংলাদেশ সোশ্যাল ক্লাবে জাতীয় হকি দলের সংবর্ধনা ছিল। বাংলাদেশ দল টানা ম্যাচ জেতায় প্রবাসীদের মধ্যে খুশির কমতি ছিল না। কিন্তু নেপালের ওই দুর্ঘটনা সোশ্যাল ক্লাবের আয়োজনটাকেও বিষণ্নতায় ভরিয়ে দিয়েছে। বাড়তি আনন্দের আয়োজন কাটছাঁট করে বরং নিহতদের জন্য দোয়া হয়েছে এখানে। কাল বাংলাদেশ মাঠেও নেমেছে কালো ব্যাজ পরে, ম্যাচের আগে দুই দলই পালন করেছে এক মিনিটের নীরবতা।

সোশ্যাল ক্লাবগুলোতে যেমনটা হয় এখানেও এর ব্যতিক্রম নয়। বিভিন্ন উপলক্ষে প্রবাসীরা পরিবার নিয়ে একসঙ্গে জড়ো হন। বাংলাদেশ থেকে শিল্পীদের উড়িয়ে এনে উৎসব-আনন্দ হয়। নিজেদের একটা ফুটবল দলও আছে। অন্যান্য ক্লাবের সঙ্গে খেলা হয় তাদের। সেসব টুর্নামেন্টে নিজেদের সন্তানদের পারফরম্যান্স নিয়ে মোটেও সন্তুষ্ট নন বাবারা। ক্লাবের ক্রীড়া সম্পাদক এর জন্য ফিটনেসকেই সবচেয়ে বড় বাধা মনে করেন। সেদিক দিয়ে বাংলাদেশ হকি দল দারুণ প্রশংসাই পেলেন সবার কাছ থেকে। জাতীয় দলের টানা জয়ে নিজেদের গর্বের কথা জানাতে বাদ গেলেন না কেউ। ক্লাব সভাপতি সিরাজুল হক যেমন বলছিলেন, ‘ওমানে বাংলাদেশিদের সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি ধীরে ধীরে এখানকার মানুষের কাছে আমাদের ইমেজও উজ্জ্বল হচ্ছে। তবে এবার হকি দল যে গর্বের উপলক্ষ এনে দিচ্ছে আমাদের, আমাদের লাল-সবুজ যেমন বীরদর্পে উড়ছে এখানে, এমনটা এর আগে কখনোই হয়নি।’ হকি দলকে অভ্যর্থনা দিতে রাতে ক্লাবের সিনিয়র সদস্যদের সবাই-ই প্রায় উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ দল যেখানে আছে সেই বুশার স্ট্রিট থেকে ক্লাবের কার্যালয় রুই যেতে মিনিট পনেরো সময় লাগে। অথচ দুরত্ব ২০ কিলোমিটারের মতো। এখানে বেশির ভাগ রাস্তায় গাড়ির ন্যূনতম গতি রাখতে হয় ৮০ কিলোমিটার। রুই যেতে গাড়িকে যেমন কোথাও থামতেই হয়নি, কোনো সিগন্যালের প্রয়োজন পড়েনি, কোনো স্পিড ব্রেকারও নেই। শহরটা এমনই গতিময় । রাস্তায় গাড়ি ছাড়া মানুষ দেখা দুষ্কর। গাড়ির ভেতর বোরকা পরা ওমানি মেয়েরাও ৮০-১০০ গতিতে হরদম পাশ কাটিয়ে যাচ্ছে। পুরো শহর চলছে ডিজিটালি, কোথাও ট্রাফিক পুলিশেরও দেখা মিলবে না। কিন্তু নিয়ম ভাঙার জো নেই। ভিডিও হয়ে যাচ্ছে যে সব, সেটিও মূল কারণ নয়। এমন গতিময়, জ্যামিতিক রাস্তায় সংকেত না মানলে নিজেরই ঝুঁকি। প্রতিবেশী শহর দুবাইয়ের মতো উঁচু উঁচু দালানের প্রাচুর্য নেই মাসকাটে, পুরনো ধাঁচের নিচু নিচু সাদা দালানেই এ শহরের নিজস্বতা। বিদেশিদের পোশাক-আশাকেও যথেষ্ট সতর্কতা। ওমান তো সালতানাত। সুলতান কাবুস সেই সত্তর দশক থেকে সিংহাসনে। আরব বসন্তের ছোঁয়া এখানে লাগেনি। তরুণদের মধ্যেও এই সুলতান জনপ্রিয়, এমনটাই মনে হয়। স্কুল-কলেজের ছেলেরাও জুব্বায় স্বচ্ছন্দ। ওমানিদের থেকে প্রবাসীদের পৃথক করা যায় এই এক পোশাকেই।

বাংলাদেশ সোশ্যাল ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মঞ্জুরুল হক ৩০ বছর ধরে ওমানে আছেন। বাংলাদেশ থেকে আসা তরুণদের তিনি সতর্ক করে দেন কোনো উস্কানিতেই যেন জুব্বাধারীদের সঙ্গে কখনো সংঘর্ষে না যায়। সে ক্ষেত্রে পুলিশ, প্রশাসন কাউকে পাশে না পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তো এই তরুণরা এখন ওমানিদের সামনে নিজেদের প্রমাণ করতে হকি মাঠকেই বেছে নিয়েছে। সেমিফাইনালে মাঠে আসতে চলছে ব্যাপক প্রচারণা। এই তরুণরা প্রতি ছুটির দিনে মাসকাটের বিভিন্ন মাঠে ক্রিকেট নিয়ে মেতে ওঠেন। মাঠে এসে হকির উন্মাদনাটাও তাঁরা ভালোই টের পাচ্ছেন।



মন্তব্য