kalerkantho


সমবেদনা

বাংলাদেশ দিল ২৫ গোল

১৪ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



বাংলাদেশ দিল ২৫ গোল

গোলোৎসবের লক্ষ্য ছিল না বাংলাদেশের। কিন্তু প্রতিটি আক্রমণের একটা পরিণতি তো পেতে হবে। তাতে আফগানদের জালে গোলসংখ্যা বেড়েই যাচ্ছিল মিনিটে মিনিটে। ৬০ মিনিটের খেলায় শেষ পর্যন্ত ২৫ গোল করে থেমেছে বাংলাদেশ। তাতে ৪ গোল করে রোমান সরকার ও দ্বিন ইসলাম ইমনের, ৩ গোল করে করেছেন মামুনুর রহমান, রাসেল মাহমুদ, আশরাফুল ইসলাম ও আরশাদ হোসেন।

রাব্বি থেকে আরশাদ, প্রথম মিনিটেই গোল। আফগান খেলোয়াড়দের বল রিসিভিং, পাসিং সব জায়গাতেই সমস্যা। স্টিক ধরায়ও যেন আনাড়ি ভাব। প্রথম গোলটা তো ওদের ডিফেন্ডারের স্টিক থেকে বল কেড়ে নিয়েই। এদিন আসলে বাংলাদেশের গোল দেওয়ার চেয়ে যে নিজেদের খেলাটা ঝালিয়ে নেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। টুর্নামেন্টের আগের দুই ম্যাচে পিসি নিয়ে দূর্বলতা দেখা গেছে। সেমিফাইনালের আগে পিসির সেই প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ ছিল এ ম্যাচে। চতুর্থ মিনিটে প্রথম পিসির সুযোগ অবশ্য কাজে লাগাতে পারেননি আশরাফুল ইসলাম। অবশ্য এদিন শুরুতে যে একাদশটা নেমেছে, হাসান জুবায়েরকে বাদ দিলে সেটা প্রায় অনূর্ধ্ব-২১ এশিয়া কাপে খেলা দলটি। ফরোয়ার্ড লাইনে মিলন হোসেনের সঙ্গে খেলছিলেন আরশাদ হোসেন ও ফজলে রাব্বী। আশরাফুল দ্বিতীয় পিসির সুযোগ কাজে লাগান সপ্তম মিনিটে। গোল ব্যবধান যা-ই হোক, এর চেয়ে একতরফা ম্যাচ আর হয়নি, আফগানরা বলই পাচ্ছিল না স্টিকে। প্রথম কোয়ার্টার শেষ হওয়ার আগেই সার্কেলের ভেতর ঢুকেই রিভার্স হিটে ৩-০ করেছেন এই টুর্নামেন্টেই অভিষিক্ত হওয়া দ্বিন ইসলাম।

প্রথম কোয়ার্টারের শেষ দিকেই সিনিয়রদের অনেকে বদলি নেমে গেছেন অন্যদের বিশ্রাম দিতে। দ্বিতীয় কোয়ার্টারের শুরু নিলয়ের পাসে রাসেল গোলও পেয়ে গেছেন। দলের সেটি চতুর্থ। পরের মুহূর্তেই পিসি থেকে মামুনুর রহমান করেছেন পঞ্চম গোল। পোস্টের ওপরের কোণ দিয়ে তাঁর ট্রেডমার্ক পিসি দেখা গেল এদিন। পরের ম্যাচগুলোতেও এই সুইট স্পটটা খুঁজে পেলে হয়। এদিন পিসিতে খোরশেদুর রহমানকেও সুযোগ দিয়েছেন মাহবুব হারুন। খোরশেদ প্রথম সুযোগ নষ্ট করলেও, মামুনুর পরের পিসিতেই আবার সেই সুইটটানা স্পটের স্বাদ নিয়েছেন। তাতে ম্যাচের ১৮ মিনিটেই স্কোরলাইন ৬-০। ৭-০ হয় নাঈমের ফিল্ড গোলে। দ্বিতীয় কোয়ার্টারের মাঝামাঝি থাকতে আরশাদও স্কোরশিটে নাম তুলেছেন। ম্যাচ দেখতে আসা বাংলাদেশি দর্শকরাও এই গোলবন্যায় ভাসছিলেন। পূর্ব দিকের গ্যালারিতে চড়া রোদ ভুলেছেন তাঁরা ওই গোলের বন্যাতেই। স্কোরলাইন ৯-০ করেন মামুনুর পিসি থেকে একই রকমভাবে নিজের তৃতীয় গোল করে। রোমান সরকার বাদ যাবেন কেন, আশরাফুলের একটি পিসি মিস হলে জটলার ভেতর থেকে আলতো টোকায় তিনিও বল জড়িয়ে দিয়েছেন জালে। মিনিটখানেক পর নিজের দ্বিতীয় গোলও করে ফেলেন নিলয়ের হিট গোলরক্ষক ফিরিয়ে দিলে ফিরতি বল জালে পাঠিয়ে। ২৫ মিনিটে স্কোর ১০-০ হয়ে গেলে আফগানদের জন্য এই ম্যাচ দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হতে থাকে। দ্বিতীয়ার্ধের আগে আশরাফুল পিসি থেকে আরো দুই গোল করেন। মামুনুরের মতোই বল ওপরের দিকের জালে জড়িয়েছেন। হ্যাটট্রিকও হতে পারত তাঁর, শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি স্ট্রোকটা মিস না করলে। তবু ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষে স্কোরলাইন ১৩-০।

তৃতীয় কোয়ার্টার শুরু হয় দ্বিন ইসলামের হ্যাটট্রিকে। এরপর ফরহাদ আহমেদ করেন ১৭তম গোল। একের পর এক গোল হয়ে যাচ্ছিল, কারণ আক্রমণগুলোর একটা পরিণতি তো পেতে হবে। আর পোস্টটা চিনে রাখা তো খেলোয়াড়দের জন্যই জরুরি। এই কোয়ার্টারেই এরপর দুটি পিসি মিস হয়। রাসেল নিজের দ্বিতীয় ও তৃতীয় গোল করেন এই কোয়ার্টারে। শেষ কোয়ার্টারেও তাঁর আরো এক গোল। দুই গোল নিলয়ের, দ্বিন ইসলাম ইমন নিজের পাশে যোগ করেছেন আরো একটি। তৃতীয় গোল পেয়েছেন রোমানও। তাতে ২৫-০তে শেষ হয় গোলোৎসব। আগামীকাল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে লাল-সবুজের ফাইনালে ওঠার লড়াই। সেদিনও গোল করার এই অভ্যাসটা থাকলে হয়।


মন্তব্য