kalerkantho


আফগান ম্যাচ পেরিয়ে বাংলাদেশের ভাবনা

১৩ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



মাসকাট থেকে প্রতিনিধি : আফগানিস্তান ম্যাচের আগের বাংলাদেশ দলের ছুটি। সকালে কেনাকাটা, বিকেলে সমুদ্র দর্শন, কোনো অনুশীলন নেই। একে তো সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়ে গেছে সঙ্গে এশিয়ান গেমসও, তার ওপর এ আসরে আফগানদের যা পারফরম্যান্স! দুই ম্যাচ মিলিয়ে কত গোল হজম করেছে বের করতে ক্যালকুলেটর লাগবে। ১৯ যোগ ২৩ মোট ৪২ গোল। বাংলাদেশ এভাবে গোলের রেলগাড়ি ছোটাবে নাকি দয়া করবে, টিম ম্যানেজমেন্টের মধ্যে কাল নিয়ে চিন্তাভাবনা দেখা গেল।

বেশ কঠিন একটা ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালে উঠেছে মাহবুব হারুনের দল। দুই কোয়ার্টারে এক গোলে পিছিয়ে থাকার পর ৫-১ ব্যবধানের জয়ে ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়ার মতো অনুভূতি একদিকে, অন্যদিকে ‘আমরা জানতামই এভাবে ম্যাচে ফিরব’ বলে নিজেকে প্রবোধ দেওয়ার মতো একটা ব্যাপার। টুর্নামেন্টের সামনের ম্যাচগুলোর জন্য বাংলাদেশ কোনটিকে সঙ্গী করে, সেটিই হলো বিষয়। নিজেদের সামর্থ্যের ওপর আস্থা রাখায় কোনো ভুল নেই; কিন্তু হংকং যে পরীক্ষাটা নিয়েছিল সেই কঠিন সময়ের শিক্ষাটাও জরুরি। মাহবুব হারুন জানিয়েছেন, শিষ্যদের বার্তাটা দিয়েছেন ওই ম্যাচের মাঝবিরতির সময়ই, ‘শুরুতে ওদের খেলার মধ্যে একটা ঢিলেঢালা ভাব ছিল। থাইল্যান্ড ম্যাচে তেমন সমস্যা না হওয়ায় এ ম্যাচটা জিতবই ধরে নিয়ে তারা খেলছিল। এ গাছাড়া ভাবটারই সুযোগ নিয়েছে হংকং। ওরা যদি খুব ভালোই খেলত তবে একাধিকবার আমাদের নেট ওপেন করত, সেটা পারেনি। শুরুতে খেলোয়াড়দের ঢিলেমির সুযোগ নিয়ে একটা বলেই ওরা গোল করে দিয়ে আমাদের বিপদে ফেলেছিল। দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ নিজেদের খেলায় মনোযোগী হওয়াতেই আর কোনো সমস্যা হয়নি।’

নিজেদের ভুলটা বুঝতে এমন দারুণভাবে ফেরার কৃতিত্বটা অবশ্যই দাবি করবেন রাসেল-মামুনরা। শুরু থেকে দলের মধ্যে যে ফুরফুরে ভাব, দ্বিতীয় ম্যাচ শেষেও তাই তা অটুট। রাতে খেলেই দলনেতা মমিনুল হক সাইদের নিমন্ত্রণে আফগান এক রেস্টুরেন্টে ভূরিভোজও সেরে নিয়েছেন তারা। পরের ম্যাচটাই আফগানদের বিপক্ষে, তা নিয়ে তো আলাদা করে না ভাবলেও চলছে। তবু কাল দুপুরে টিম মিটিং হয়েছে হোটেলেও। কোচ হারুন স্পষ্ট করেই বলেছেন, ‘এরা, ওরা ২০-২২ গোল দিয়েছে আফগানদের। সেসব আমাদের দেখার বিষয় না। আমরা স্রেফ এই ম্যাচটা জিতে বেরোতে চাই।’ চাপ নেই বলে জানিয়েছেন আজ সিনিয়র খেলোয়াড়দের একরকম বিশ্রামই দেবেন তিনি, ‘মূলত জুনিয়রদেরই বেশি সুযোগ দেব এ ম্যাচে। অন্যান্য ম্যাচে ফল বের করার জন্য চাপ থাকে, তাতে দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণদেরই বেশি সময় রাখতে হয়। আফগানদের বিপক্ষে সেই চাপ নেই বলে জুনিয়রদের যত বেশি সম্ভব খেলার সময় দিতে চাই আমরা।’

টুর্নামেন্টের প্রথম দুটি ম্যাচে ৫ গোল করে এলেও হারুনের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে পেনাল্টি কর্নার। গত এশিয়া কাপে ভারত, পাকিস্তানের দলগুলো বাংলাদেশের বিপক্ষে ভূরি ভূরি পিসি আদায় করে নিয়েছে, এই এশিয়ান গেমস বাছাই হকি দলগুলোর বিপক্ষে বাংলাদেশও তাই করছে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে কনভার্টে। একের পর পিসি হলেও তা থেকে গোল হচ্ছে না। যা নিয়ে আরো কাজ করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন কোচ, ‘এটা আমাদের জন্য দুর্ভাগ্য। বরাবর পেনাল্টি কর্নারটাকেই নিজেদের শক্তি ধরে এসেছে। সেখানে পিসি থেকে এবার আমরা গোল পাচ্ছি না। যতগুলো পিসি পাচ্ছি তার অল্প কিছুও যদি কাজে লাগানো যেত, তাহলে ম্যাচগুলো আরো সহজ হয়ে যেত আমাদের জন্য। সেটা হচ্ছে না। এখন যে কয়টা দিন আমরা অনুশীলনের সুযোগ পাচ্ছি। এই পিসি নিয়ে আরো কাজ করতে হবে আমাদের।’

আজ আফগানিস্তান ম্যাচ শেষ হলেও আসল টুর্নামেন্ট শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের বলা যায়। সেমিফাইনাল, ফাইনাল খেলায় আরো উন্নতির তাই বিকল্প নেই।


মন্তব্য