kalerkantho


হারের ধারা বদলাতে পারল না আবাহনী

৮ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



হারের ধারা বদলাতে পারল না আবাহনী

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ম্যাচ শেষে সাইফুল বারী টিটুও চলে গেলেন জনতার কাতারে। স্বাগতিক দর্শক-সমর্থকদের মতো আবাহনী কোচও ডুবে গেলেন ম্যাচ হারের হতাশায়, ‘একটা পরিবর্তন খুব করে চেয়েছিলাম। হারের বৃত্ত ভাঙতে চেয়েছিলাম। পারিনি। সবই আগের মতো রয়ে গেল।’ হারের বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে দেশের সামগ্রিক ফুটবল, সেখানে সর্বশেষ ক্ষত নিউ রেডিয়েন্টের কাছে ০-১ গোলে হেরে আবাহনীর এএফসি কাপ শুরু।

এই হারে শুরুতেই পিছিয়ে পড়ল আবাহনী। এএফসি কাপে এগোনো-পেছানো পরের ব্যাপার, সবাই চেয়েছিল ফুটবলের ইতিবাচক খবর। অন্তত একটি জয় কিংবা নিদেনপক্ষে একটি ড্র। এই প্রত্যাশায় বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে মালদ্বীপের ক্লাব দলের বিপক্ষে মাঠে নামে আবাহনী। ম্যাচের আগে তিন স্প্যানিশ-আলী আশফাকজনিত যত ভীতি সবই কমতে থাকে একটু একটু করে। স্বাগতিকরাও সমানে লড়াই করছে। ভালো খেলছে। কিন্তু তার সুফলটা ঠিক ঘরে তুলতে পারেনি। ২৭ মিনিটে সানডে চিজোবার এক দৌড়ে ছত্রভঙ্গ রেডিয়েন্টের ডিফেন্স। ওপর থেকে বল নিয়ে বক্সে ঢুকে এই নাইজেরিয়ান বুটের ডগায় আগুয়ান গোলরক্ষকের ওপর দিয়ে বল তুলে দিতে গিয়ে ক্রসবার উঁচিয়ে দিয়েছেন। দুর্দান্ত সুযোগ নষ্ট করার পর ৬৫ মিনিটে এই নাইজেরিয়ান লাল কার্ড দেখে মাঠ ছেড়ে একদম কানা করে দেয় দলকে। এরপর দশজনের দল নিয়েও ২৫ মিনিট অসম লড়াই করে গেছে আবাহনী।

তার আগেই আবাহনী পিছিয়ে পড়ে আলী ফাসিরের এক নিখুঁত ফিনিশিংয়ে। ৫৮ মিনিটে উমায়েরের লং বল ডিফেন্ডার নাসির ব্লক করেও ভলি ঠেকাতে পারেনি। দুরূহ কোণ থেকে সেই ভলি গোলরক্ষক শহীদুলকে ফাঁকি দিয়ে আবাহনীর জালে জড়িয়ে যায়। এরপর তারা ব্যবধান আরো বড় করার সুযোগ পেয়েও পরাস্ত হয়েছেন আবাহনী গোলরক্ষকের কাছে। ডিফেন্ডার সাদ উদ্দিনও একটি দুর্দান্ত সেভ করেছেন গোললাইন থেকে বল ফিরিয়ে। পাশাপাশি আবাহনীও সুযোগ পেয়েছে। তাই তাদের কোচের আক্ষেপ, ‘সানডের অন্তত একটি গোল করা উচিত ছিল। দুটি সুযোগের একটিও কাজে লাগাতে পারেনি সে। গোল করতে না পারলে ভালো খেলার কোনো মানে নেই।’ প্রথমার্ধে সহজ সুযোগ বারের ওপর তুলে দেওয়ার পর সানডে ৪৯ মিনিটে রুবেল মিয়ার ক্রসে হেডটিও রাখতে পারেননি গোলপোস্টে। দশজন হয়েও রুবেল ডান দিক দিয়ে বারবার প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ করেছেন, ক্রস পাঠিয়েছেন। ওসব থেকে গোল বের করার লোক কই। সানডে মাঠের বাইরে, আরেক নাইজেরিয়ান এমেকা লড়াই করে গেছেন নিজের সঙ্গে। ওজন বেড়েছে চার-পাঁচ কেজি। একবারও বল নিয়ে বেরোতে পারেননি। বারবার অফসাইডে থেকে থ্রু বলগুলো নষ্ট করেছেন।      

তাই অমন আহামরি দল না হয়েও বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়ন দলকে মাথা নোয়াতে হয়েছে মালদ্বীপের চ্যাম্পিয়নদের কাছে। এটাই হয়ে গেছে বাংলাদেশের ফুটবলের নিয়তি। কিছুদিন আগে সাইফ স্পোর্টিং হেরেছে মালদ্বীপের টিসি স্পোর্টসের কাছে। সেই হারের ধারা অব্যাহত রেখে আবাহনী আরেকবার দেশের ছন্নছাড়া ফুটবলের ছবি আঁকল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।

 


মন্তব্য