kalerkantho


আবারও শেষ মিনিটের আক্ষেপ

২২ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



আবারও শেষ মিনিটের আক্ষেপ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : আবারও একই ভুল হলো। রাচাবুরি এফসির বিপক্ষে ৮৯ মিনিটে গোল খেয়ে ড্র ম্যাচ হেরে গেছে বাংলাদেশ ফুটবল দল। তবে হারা ম্যাচেও আছে প্রাপ্তি। থাই লিগের শক্তিশালী একটি দলকে ওই গোলের আগ পর্যন্ত ঠেকিয়ে রাখা এবং কাউন্টারে দুটি সুযোগ তৈরি করতে দেখে অ্যান্ড্রু ওর্ড খুশি।

বাংলাদেশের এই অস্ট্রেলিয়ান কোচ আরো খুশি হতেন ম্যাচটি ড্র করলে। সেটা পারেনি। কারণ নিজেদের মাঠে ম্যাচ জিততে শেষ দিকে মরিয়া হয়ে উঠেছিল রাচাবুরি এফসি। একের পর এক আক্রমণ ঠেকিয়েও ৮৯ মিনিটে আর পারেনি। কর্নার কিকে এক থাই ফরোয়ার্ডের হেড বাংলাদেশ গোলরক্ষক আশরাফুল রানাকে ফাঁকি দিয়ে জালে পৌঁছে গেলে শেষ পর্যন্ত মাথা নিচু করেই তাদের মাঠ ছাড়তে হয়। ম্যাচের শেষ দিকে এবং বিরতিতে যাওয়ার আগের সময়টা বাংলাদেশের জন্য খুব বিপজ্জনক। ওই দুটি সময়ের গোলে ম্যাচ হারার অনেক নজির আছে। তখন নাকি খেলোয়াড়দের মনঃসংযোগে ঘাটতি হয় এবং এ সুযোগটা নেয় প্রতিপক্ষ। কাতারে সেটপিস ঠেকানোর বিশেষ ট্রেনিংয়ের পরও তাহলে রোগটা রয়েই গেছে। ওই মুহুর্তটা বাদ দিল ১৭ মাস পর বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্সে বেশ খুশি ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস রূপু, ‘লাওসের বিপক্ষে খেলার আগে এ রকম শক্তিশালী দলের বিপক্ষে প্র্যাকটিস ম্যাচটি আমাদের জন্য খুব যথাযথ ছিল। ডিফেন্স অর্গানাইজেশন কেমন হবে, প্রতিপক্ষকে কিভাবে থামাতে হবে এবং কঠিন পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে কী করতে হবে—সবই করার চেষ্টা করেছে আমাদের খেলোয়াড়রা। বলতে পারেন এটা একটা সত্যিকারের প্র্যাকটিস ম্যাচ হয়েছে, যেখানে প্রতি পদে পদে পরীক্ষা দিতে হয়েছে খেলোয়াড়দের।’ পরীক্ষার শেষ ফল ফেল হলেও সামগ্রিক মান দেখে খুশি ওর্ড। আগামীকাল ব্যাংকক গ্লাসের বিপক্ষের দ্বিতীয় প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলেই তারা লাওসের বিমান ধরবে। আগামী ২৭ মার্চ লাওসের বিপক্ষে অফিশিয়াল ম্যাচে মুখোমুখি হবে তারা।

ওই ম্যাচেও কোচ হারতে চান না। জাতীয় দলের হয়ে তাঁর অভিষেকটা অন্তত ড্র দিয়ে রাঙাতে চায়। তাই না হারার কৌশলটাই মুখ্য ছিল কালকের ম্যাচেও। ম্যানেজারের দাবি, ‘শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে ঠেকিয়ে রাখতে তারা উজাড় হয়ে খেলেছে। ডিফেন্সে শুরুর দিকে মামুন মিয়া, ওয়ালি, তপু ও বাদশা খেলেছে। শুধু তাদের পারফরম্যান্স নয়, মিডফিল্ডার এবং ফরোয়ার্ডরাও কখনো কখনো নিচে নেমে ডিফেন্সে সাহায্য করেছে।’ এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলা থাই ক্লাবের বিপক্ষে বাংলাদেশের এই পারফরম্যান্স মোটেও খারাপ নয়। শেষ মুহূর্তে গোল খেলেও গোল করারও দুটি চমৎকার সুযোগ তারা পেয়েছিল। প্রথমার্ধে ওয়ান টু ওয়ানে আবদুল্লাহ মেরেছেন বাইরে। দ্বিতীয়ার্ধে কাউন্টারে তৌহিদুল আলম সবুজ বল নিয়ে বক্সে ঢোকার মুখে ফাউলের শিকার হন। সুবাদে বিপজ্জনক জায়গায় ফ্রি-কিক এবং তপুর কিকটি দুর্দান্ত সেভ করেন থাই গোলরক্ষক। 

থাইল্যান্ডে প্রথম প্র্যাকটিস ম্যাচে বাংলাদেশের কোচ মোটামুটি স্কোয়াডের সবাইকে খেলানোর চেষ্টা করেছেন। দ্বিতীয়ার্ধে আটটি বদল করে পারফরম্যান্স দেখে নিয়েছেন। মাঝমাঠে আবদুল্লাহ, মামুনুল ও জামাল ভূইয়া শুরু থেকে মাঠ ছাড়ার আগ পর্যন্ত ভালো খেলেছেন। তাঁদের আরেক দফা পরীক্ষা হবে পরের প্র্যাকটিস ম্যাচে ব্যাংকক গ্লাস দলের বিপক্ষে। মিডফিল্ডার ফয়সাল মাহমুদ মনে করেন, ‘আজ আমরা যে ম্যাচ খেলেছি পরের ম্যাচে তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে অনেক আত্মবিশ্বাস নিয়েই দলটি লাওসে যাবে। সবাই দৌড়-ঝাঁপ করেছে, ফিটনেস যে খুব ভালো সেটা বোঝা গেছে। তা ছাড়া যার যে দায়িত্ব ছিল সেটা ঠিকঠাক পালন করেছে। এ রকম আরেকটি ম্যাচ খেলতে চাই ব্যাংকক গ্লাস দলের বিপক্ষে।’

তবে নিশ্চয়ই হারতে চায় না তারা। সেটা হলেই দুর্দান্ত আত্মবিশ্বাস নিয়ে তারা মাঠে নামতে পারবে লাওসের বিপক্ষে। ২০১৬ সালের ১০ অক্টোবর ভুটানের কাছে প্রথম হারের ১৭ মাস পর জাতীয় দল মাঠে নামবে অফিশিয়াল ম্যাচ খেলতে।



মন্তব্য