kalerkantho



মাশরাফির ডাবল হ্যাটট্রিক

বাজে হার মোহামেডানের

৭ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



মাশরাফির ডাবল হ্যাটট্রিক

ক্রীড়া প্রতিবেদক : নাজমুল হোসেনের সেঞ্চুরির পাল্টা জবাব শাহরিয়ার নাফীসের ব্যাটে। আগের ম্যাচে ৯৯ রানে আউট হওয়া নাফীসের সেঞ্চুরিতে আবাহনীর ২৯০ রান তাড়া করতে নামা অগ্রণী ব্যাংকও পাচ্ছিল জয়ের সুবাস। শেষ ওভারে জেতার জন্য ৪ উইকেট হাতে নিয়ে তাদের দরকার ছিল ১৩ রান। ফতুল্লায় সেই সময়েই মাশরাফি বিন মর্তুজা এমন ইতিহাসে ঢুকে যাওয়া বোলিং করলেন যে ওভারের প্রথম বলে নেওয়া সিঙ্গেলটি ছাড়া আর কোনো রানই নিতে পারল না ব্যাংক দলটি। নেওয়ার উপায়ও ছিল না কোনো। আবাহনী অধিনায়ক তো পরের ৪ বলে ৪ উইকেট নিয়ে গুটিয়েই দিলেন প্রতিপক্ষকে। যা লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে কোনো বাংলাদেশি বোলারের এমন কীর্তির সৌধে পৌঁছানোর প্রথম নজিরও হয়ে থাকল। ক্রিকেটে টানা চার বলে উইকেট নেয়ার কীর্তিকে ধরা হয় ‘ডাবল হ্যাটট্রিক’ হিসেবে।

১১ রানের জয়টি ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে আবাহনীর আট ম্যাচে সপ্তম। ১৪ পয়েন্ট নিয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে বেশ খানিকটা এগিয়েও থাকল। দলের মতো মাশরাফিও উইকেট শিকারে অন্য বোলারদের চেয়ে এগিয়ে গেলেন আরো। কাল ৪৪ রানে নিয়েছেন ৬ উইকেট, সব মিলিয়ে চলতি আসরে তাঁর শিকারসংখ্যা গিয়ে ঠেকল ২৫-এ। ফতুল্লায় মাশরাফি শেষ ওভারের উত্তেজনায় জল ঢেলে দিলেও বিকেএসপিতে রূদ্ধশ্বাস নাটকীয়তার পর প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব ১ উইকেটে হারিয়েছে প্রাইম দোলেশ্বরকে। এই ম্যাচেও দোলেশ্বরের মার্শাল আইয়ুবের (১৩৫) সেঞ্চুরির জবাব দিয়েছেন প্রাইম ব্যাংকের মেহরাব হোসেন জুনিয়র (১০২)। মেহেদী মারুফের (৮২) সঙ্গে তাঁর ১৪৭ রানের ওপেনিং জুটি জয়ের দারুণ ভিতও দিয়েছিল প্রাইম ব্যাংককে। তবে মিরপুরে লো স্কোরিং ম্যাচে জঘন্য ব্যাটিংয়ে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের কাছে ২৯ রানে হেরেছে মোহামেডান। গাজীর ১৩৭ রান তাড়া করতে নেমে তারা অল আউট হয় ১০৮ রানে।

ফতুল্লায় নাজমুল একাই করেছেন গাজীর মোট সংগ্রহের কাছাকাছি। তাঁর হার না মানা ১৩৩ রানের ইনিংসের সঙ্গে শেষ দিকে মোহাম্মদ মিঠুনের (৩৮ বলে ৪৬) ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ২৯০ ছোঁয় আবাহনীর ইনিংস। তবে রাজা আলী দারের (৬২) সঙ্গে নাফীসের (১২১) তৃতীয় উইকেটে ১৪৬ রানের পার্টনারশিপে অগ্রণী ব্যাংককে পথ দেখাচ্ছিলেন ধীমান ঘোষ (৪৬)। এর আগে নাফীসকে ফেরানো মাশরাফি শেষ ওভারে ধীমানকে দিয়েই শুরু করেন ৪ বলে ৪ উইকেট তুলে নেওয়ার যজ্ঞ। পরের দুই বলে আব্দুর রাজ্জাক ও শফিউল ইসলামকে তুলে নিয়ে পান প্রথম হ্যাটট্রিকের স্বাদ। এরপর ফজলে রাব্বিকে তুলে নিয়ে বনে যান লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ৪ বলে ৪ উইকেট পাওয়া প্রথম বাংলাদেশি বোলারও।   

সংক্ষিপ্ত স্কোর

আবাহনী-অগ্রণী ব্যাংক

আবাহনী ৫০ ওভারে ২৯০/৬ (নাজমুল ১৩৩*, মিঠুন ৪৬; সালমান ২/৪০, আল-আমিন ২/৫৫)।

অগ্রণী ব্যাংক ৪৯.৫ ওভারে ২৭৯ (নাফীস ১২১, রাজা ৬২, ধীমান ৪৬; মাশরাফি ৬/৪৪, আরিফুল ২/৫৭)।

ফল : আবাহনী ১১ রানে জয়ী।

ম্যাচ সেরা : নাজমুল হোসেন (আবাহনী)।

মোহামেডান-গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স

গাজী গ্রুপ ৩৫.৪ ওভারে ১৩৭ (আসিফ ৩৫, নাদীফ ২৮; অনীক ৪/২৮, আজিম ৩/৩২)।

মোহামেডান ৩৩.২ ওভারে ১০৮ (রকিবুল ২২, শামসুর ১৯; নাঈম ৩/২৭, কামরুল ৩/৩৫)।

ফল : গাজী গ্রুপ ২৯ রানে জয়ী।

ম্যাচসেরা : নাঈম হাসান (গাজী গ্রুপ)।

প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব-প্রাইম দোলেশ্বর স্পোর্টিং

দোলেশ্বর ৫০ ওভারে ২৮৬/৫ (মার্শাল ১৩৫, ফরহাদ ৬৭*, ফজলে ৪৫)।

প্রাইম ব্যাংক ৪৯.৪ ওভারে ২৮৭/৯ (মেহরাব জুনিয়র ১০২, মারুফ ৮২, সাজ্জাদুল ৫১; মামুন ২/৪৬, শরীফুল্লাহ ২/৪৭, আরাফাত ২/৫১)।

ফল : প্রাইম ব্যাংক ১ উইকেটে জয়ী।

ম্যাচসেরা : মার্শাল আইয়ুব (প্রাইম দোলেশ্বর)।



মন্তব্য