kalerkantho


ইতিহাসের ধারা বদলানোর দায় আবাহনীর

সনৎ বাবলা   

৭ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



ইতিহাসের ধারা বদলানোর দায় আবাহনীর

কী দিনকাল পড়েছে। নিজের মাঠে আবাহনী ভালো খেলবে, এ কথাও স্থানীয় সাংবাদিকদের বিশ্বাস হচ্ছে না! তাঁরা চেয়ে বসলেন গ্যারান্টি, মালদ্বীপের ক্লাবের বিপক্ষে ভালো খেলার নিশ্চয়তা। শুনে আবাহনী কোচ সাইফুল বারী টিটুও খানিকটা অপ্রস্তুত সংবাদ সম্মেলনে, ‘গ্যারান্টি দিতে পারব না, তবে আমরা আশাবাদী হতে পারি। ভালো খেলা বা জেতার জন্য টেকটিক্যালি অনেক কাজ করা হয়েছে প্র্যাকটিসে। তা ছাড়া খেলোয়াড়রাও উদ্দীপ্ত।’

এই উদ্দীপ্ত খেলোয়াড়রা বহুবার আশার ভেলায় চড়িয়েছেন। কাণ্ডারি হয়ে কোচ পালে হাওয়া দিয়েছেন। কিন্তু নৌকা এগোয়নি, বারবার হয়েছে ফুটবলের ভরাডুবি। সাংবাদিকরাও যেন বারবার ফুটবলের এই রূঢ় বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে এখন কিছুই বিশ্বাস করতে চায় না। এখন মাঠে খেলে দেখাতে হবে, গোল করে ম্যাচ জিতিয়ে দেখাতে হবে। প্রতিপক্ষ মালদ্বীপের নিউ রেডিয়েন্ট ক্লাব বলে বোধ হয় আরো অবিশ্বাস। কারণ সেই ২০১১ সাল থেকে মালদ্বীপের সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয় দলের শুধু হারের রেকর্ড, দুই বছর আগে হেরেছে ০-৫ গোলে। পেরে ওঠে না দেশের ক্লাব দলও। গতবার ওদের মাজিয়া স্পোর্টস ক্লাবের কাছে হেরেছে আবাহনী। কিছুদিন আগে সাইফ স্পোর্টিং ঘরে-বাইরে মাথা নুইয়ে ফিরেছে মালদ্বীপের টিসি স্পোর্টসের কাছে হেরে। আসলে প্রেক্ষাপট বদলে গেছে, ১৯৮৫ সালে মালদ্বীপের ক্লাবকে ৮-১ গোলে গুঁড়িয়ে দেওয়ার বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে নেই আবাহনী এবং এ দেশের ফুটবল। এই অঞ্চলের একসময়ের জায়ান্ট বাংলাদেশ ক্ষয়ে ক্ষয়ে বিপন্ন আর ওই দ্বীপরাষ্ট্রের ফুটবল দিনে দিনে হয়েছে সুরভিত। ইতিহাস বদলের এই প্রেক্ষাপটের কারণে আজ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে আবাহনী-নিউ রেডিয়েন্টের এএফসি কাপের ম্যাচটি। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে বিকেল সোয়া ৪টায় শুরু এই ম্যাচের ভাগ্যে কী লেখা কে জানে। সেই হারের ধারা বহাল থাকবে, নাকি নতুন শুরু হবে।

ম্যাচটিকে ঘিরে আবাহনীর উত্তেজনাও চরমে। আগের এএফসি টুর্নামেন্টগুলোর ফল যা-ই হোক, এবার নেমেছে তারা কোমর বেঁধে। বিদেশির কোনো কোটাই বাদ রাখেনি, এশিয়ান কোটা ছাড়াও অন্য তিন বিদেশি নিয়ে তারা প্রথমবারের পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে নামছে। প্রস্তুতিও ভালো। তাই আবাহনী কোচ সাইফুল বারী টিটু স্বগর্বে বলতে পেরেছেন, ‘এই ম্যাচে আমরাই ফেভারিট। খেলোয়াড়দের নিজেদের সামর্থ্যের সেরাটা দিয়ে খেলতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ঘরোয়া ম্যাচে যেসব ছোটখাটো ভুল করি সেসব করা যাবে না আন্তর্জাতিক ম্যাচে।’ দুই নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড সানডে-এমেকা থাকলেও কোচ বিশেষ আস্থা রাখছেন জাপানি মিডফিল্ডার সেইয়া কোজিমার ওপর। দেশি মিডফিল্ডার ইমন বাবু চোটগ্রস্ত হলেও আবাহনীর মাঝমাঠ নিয়ে তাঁর দুশ্চিন্তা নেই। তাঁর জায়গায় খেলবেন সোহেল রানা।

স্বাগতিক দল বেশ গোছানো হলেও মালদ্বীপের আলী আশফাকের ভয় কিন্তু ছড়িয়ে পড়েছে। গত মৌসুমে ইনজুরি তাঁর পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেললেও এখন আবার ফর্মে ফিরেছেন। এ ছাড়া তিন স্প্যানিশ আছে দলে। আফগান ডিফেন্ডার হারুন আমিরি থাকলেও ইনজুরির কারণে ম্যাচের বাইরে। কিন্তু নিউ রেডিয়েন্টের স্প্যানিশ কোচ অসকার ব্রুজোনের গলায় আত্মবিশ্বাসের সুর, ‘কঠিন পরিশ্রম, কমিটমেন্ট, দলীয় ঐক্য, স্পিরিট, পারস্পরিক বোঝাপড়ায় আমাদের দল গত মৌসুমে চারটি ট্রফি জিতেছে। টানা ১৭ ম্যাচ জেতার কারণও এটা। সর্বশেষ মালদ্বীপ লিগেও আমরা দুটি ম্যাচ খেলেছি। এই ম্যাচ জিতলে টানা ২০ ম্যাচ হবে। কিন্তু ম্যাচটি কঠিন হবে, ঘরোয়া প্রতিযোগিতার চেয়ে এই ম্যাচ কঠিন হবে।’ তবে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের মাঠও তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে কোচ বারবার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

মাঠ নিয়ে এএফসি তাগাদা দেওয়ার পর গত কয়েক সপ্তাহের পরিচর্যায় বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম প্রস্তুত। খটখটে মাঠ আবার নরম ও সবুজাভ হয়েছে। থাকবে না বলের অসমান বাউন্সও। তাই মাঠের কারণে ম্যাচের সৌন্দর্যহানির শঙ্কা কম। স্বাগতিক কোচ টিটু অবশ্য ম্যাচের সৌন্দর্য-আধিপত্যকে লঘু করে ফলটাকেই মুখ্য ধরছেন, ‘ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ না করেও কিন্তু রেজাল্ট পাওয়া যায়। ফুটবলে গোলই শেষ কথা।’ তাঁর এ কথায় বিশেষ ইঙ্গিত আছে। নিজেদের গোল আগলে কাউন্টারে গোল বের করার ইঙ্গিতই কি দিতে চেয়েছেন! তাতে না হয় একটু সৌন্দর্যহানিই  হলো, এভাবে যদি মালদ্বীপ ফুটবলের বিপক্ষে ইতিহাসের ধারা বদলানো যায়, ক্ষতি কী!



মন্তব্য